ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ
সর্বশেষ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেছেন তিনি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকার রুশ দূতাবাসের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় পুতিন আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। অভিনন্দন বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের সাফল্য কামনা করেন। এর আগে ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তা বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রিজভীই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, সময়ের সঙ্গে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ একাধিক বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে নয়াদিল্লিও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সমতার’ ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর  সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণ।প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের অন্যতম প্রধান অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ চাইছে, ভারত যেন তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দেয়।ঢাকার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে। পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছে ঢাকা। সরকারের যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে এসব বিষয়ে অগ্রগতি জরুরি।এদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থানও আগের তুলনায় সতর্ক হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন এবং আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। ভারত অবশ্য স্পষ্ট করেছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লি একমত নয়।তবে বাংলাদেশের জন্য ভারতকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলার সুযোগও সীমিত। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এখন দুই দেশের কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।এই বাস্তবতায় নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের নেতৃত্ব একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। ভারতও তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হচ্ছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তারেক রহমানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে শুধু রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ভারতনীতিকে প্রতিক্রিয়াশীল পথে নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ঢাকার জন্য যেমন সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতাও জরুরি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ এই তিনটি ইস্যু আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আবেগ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, সময়ের সঙ্গে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ একাধিক বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে নয়াদিল্লিও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সমতার’ ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর  সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণ।প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের অন্যতম প্রধান অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ চাইছে, ভারত যেন তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দেয়।ঢাকার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে। পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছে ঢাকা। সরকারের যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে এসব বিষয়ে অগ্রগতি জরুরি।এদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থানও আগের তুলনায় সতর্ক হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন এবং আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। ভারত অবশ্য স্পষ্ট করেছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লি একমত নয়।তবে বাংলাদেশের জন্য ভারতকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলার সুযোগও সীমিত। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এখন দুই দেশের কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।এই বাস্তবতায় নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের নেতৃত্ব একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। ভারতও তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হচ্ছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তারেক রহমানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে শুধু রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ভারতনীতিকে প্রতিক্রিয়াশীল পথে নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ঢাকার জন্য যেমন সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতাও জরুরি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ এই তিনটি ইস্যু আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আবেগ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি।

ডনের প্রতিবেদন / হাসিনা ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত ভারত সফর করবেন না তারেক

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, সময়ের সঙ্গে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ একাধিক বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে নয়াদিল্লিও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক সমতার’ ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট-এর  সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক সমীকরণ।প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সেখান থেকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের অন্যতম প্রধান অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ চাইছে, ভারত যেন তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ না দেয়।ঢাকার অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে। পাশাপাশি শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজনদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের দাবিও জানিয়েছে ঢাকা। সরকারের যুক্তি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে এসব বিষয়ে অগ্রগতি জরুরি।এদিকে শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অবস্থানও আগের তুলনায় সতর্ক হয়েছে। গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন এবং আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। ভারত অবশ্য স্পষ্ট করেছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লি একমত নয়।তবে বাংলাদেশের জন্য ভারতকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলার সুযোগও সীমিত। অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এখন দুই দেশের কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।এই বাস্তবতায় নয়াদিল্লির সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের নেতৃত্ব একসঙ্গে বসলে অনেক সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে। ভারতও তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হচ্ছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুবাশ্বার হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তারেক রহমানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে শুধু রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ভারতনীতিকে প্রতিক্রিয়াশীল পথে নেওয়া হলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ঢাকার জন্য যেমন সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতাও জরুরি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর এবং গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ এই তিনটি ইস্যু আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে আবেগ নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি।

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ:  ডা. টিপু

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ: ডা. টিপু

চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গায় "ডিইএব" এর জেলা শাখার অভিষেক

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। / এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, কোনো দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অংশ নিলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি অর্থনৈতিক চাপের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অন্য কোনো দেশের অংশগ্রহণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর আরেকটি রাষ্ট্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার সহযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি বৈধ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করবে বলে দাবি করেছে তেহরান।তেহরানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিশ্বের দেশগুলোর এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত ২৪ আগস্ট এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আওতায় ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।এর আগেও ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে অন্য দেশগুলোকে যোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেওয়া দেশকে তেহরান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের হাতে থাকা সব সক্ষমতা ব্যবহার করবে তেহরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আইনের শাসন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি রক্ষায় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের সামনে নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৭নং পলিপ্রায়গপুর ইউনিয়ন এর উদ্যোগ এ মতবিনিময় সভা -২০২৬

বিরামপুরে বিএনপির মতবিনিময় সভায় তৃণমূলের সরব উপস্থিতি ৭ নং পলিপ্রায়গপুর ইউনিয়ন এর দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়এ।মোঃ জাকির হাসান জিমি বিরামপুর উপজেলা প্রতিনিধিদৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ দলের তৃণমূল শক্তিকে সুসংগঠিত করার আহ্বান, ৭ দিনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের পরামর্শদিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় তৃণমূলের মিলনমেলায়। এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে সভায়।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন (এমপি)।সভায় সভাপতিত্ব করেন ৭নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মেঃ হায়দার আলী শাহ। সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।সভায় বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ মামুন রশিদ মামুন সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী রুবেল চৌধুরী সহ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।মতবিনিময় সভায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়। স্থানীয়রা এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ, বিরামপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সঠিকভাবে বিতরণের দাবি জানান। পাশাপাশি সার ও বিদ্যুৎ সংকট, মাদকদ্রব্যের বিস্তারসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তারা।সারের সংকট প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রয়েছে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগপন্থী ডিলারদের কারণে সারের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে এবং তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে সার ডিলারশিপ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; প্রত্যেক গ্রাম ও ওয়ার্ড থেকে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। কারা মাদক বিক্রি করে এবং কারা মাদক সেবন করে—স্থানীয় জনগণই এ বিষয়ে বেশি জানেন। তাই মাদক নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। সময়ের সঙ্গে বিদ্যুতের ঘাটতি থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।তৃণমূলই দলের প্রাণশক্তিমতবিনিময় সভায় সাংগঠনিক বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরোনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।বক্তারা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। মাঠপর্যায়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে আসছেন, তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাংগঠনিক ভূমিকার ওপরই দলের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই তৃণমূলকে শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করতে নিয়মিত মতবিনিময়, সদস্য সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজেদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তারা।নেতাকর্মীরা আরও বলেন, তৃণমূল শক্তিশালী হলে দল আরও শক্তিশালী হবে। তাই তৃণমূলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মূল্যায়ন, নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।মতবিনিময় সভায় এলাকার উন্নয়ন, জনসাধারণের সমস্যা সমাধান, মাদক নিয়ন্ত্রণ, জনসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সব বিভাগের খবর

ভোগান্তিতে স্থানীয়রা / নবাবগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের কাচদহ এলাকায় প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও ট্রাক্টরে পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফারাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও প্রভাবশালী হওয়ায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।সরেজমিনে কাচদহ এলাকা ঘুরে কয়েকটি স্থানে মাটি খুঁড়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। উত্তোলনের পর সেই বালু ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার সড়ক ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।বিশেষ করে বালুবাহী যানবাহন চলাচলের সময় সড়কে ব্যাপক ধুলাবালি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সড়কের পাশের বাড়িঘরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ধুলার কারণে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে তারা ভয় পান। তাদের ভাষ্য, দিনের পর দিন বালু উত্তোলন ও পরিবহন চললেও তা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পরিবেশ ও ভূমির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ভারী বালুবাহী ট্রাক্টরের নিয়মিত চলাচলে স্থানীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই করুক। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বন্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান। তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ফারাইজুল ইসলামের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

উত্তরায় চাকরির ফাঁদে আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেড! টাকা চাইতে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

রাজধানীর উত্তরায় আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং পরে চাকরি না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, একেকজনের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গেলে কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত অঙ্গীকারনামায় ঠিকানা হিসেবে বাড়ি নং-০৬, রোড নং-০৩/এএফ, সেক্টর নং-০৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে সরকারি নিবন্ধন নং-১৯৪০৭০ লেখা রয়েছে। তবে নিবন্ধন নম্বরটির বৈধতা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মাধ্যমে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তারা আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে। তবে মোট কতজন টাকা দিয়েছেন এবং সব মিলিয়ে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।অভিযোগকারীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও অনেকে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চাকরি অথবা জমা দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।আর সেখানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ার একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে ভবনের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের ওপর বেধড়ক মারধর চালানো হয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে হয়েছিল, কোন পক্ষ প্রথমে শারীরিক সংঘর্ষে জড়ায় এবং মোট কতজন আহত হয়েছেন—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থাকা ভবন ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন ও অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো এবং তছনছ অবস্থায় দেখা যায়। তবে কার্যালয়ের এই অবস্থার জন্য কারা দায়ী বা কখন ভাঙচুর হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ থেকে দেখা যায়, সেখানে চাকরিপ্রার্থীর নাম, বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।নথিতে কোম্পানির নিয়ম-কানুন মেনে সিকিউরিটি বিভাগে চাকরিতে যোগদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি খাওয়া ও থাকার জন্য টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। চাকরি ছেড়ে দিলে জমা করা টাকা ফেরতযোগ্য—এমন কথাও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি দৃশ্যমান অফিস, কাগজপত্র এবং চাকরির নিশ্চয়তার কথা শুনেই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাস করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বেকার ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছেন বলেও জানিয়েছেন।একাধিক অভিযোগকারীর ভাষ্য, চাকরি না পাওয়ার পর জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ঘুরছেন। ফলে চাকরি না পাওয়া এবং টাকা আটকে যাওয়ায় আর্থিক ও মানসিক—দুই ধরনের সংকটেই পড়েছেন তারা।ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি, প্রশিক্ষণ, পোশাক, থাকা-খাওয়া কিংবা অন্যান্য খাতের কথা বলে অর্থ নেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। তবে উত্তরায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে একই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া, চাকরি না দেওয়া এবং টাকা চাইতে যাওয়া ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থানও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ছয় বছর ধরে বিধবা ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের নগদে! রহিমার ভাতা গেল কোথায়?

ছয় বছর ধরে বিধবা ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের নগদে! রহিমার ভাতা গেল কোথায়?দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক বিধবা নারীর ভাতার টাকা প্রায় ছয় বছর ধরে তার নিজের মোবাইল নম্বরে না গিয়ে টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল খালেকের ব্যবহৃত নগদ অ্যাকাউন্টে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২০ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো বিধবা ভাতার টাকা হাতে পাননি। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তার নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট নগদ নম্বরে পাঠানো হয়েছে।অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল খালেক টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বানেশ্বরপাড়া এলাকার মোছাঃ রহিমা বেগম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিধবা ভাতা কর্মসূচির একজন সুবিধাভোগী। তিনি সর্বশেষ ২০২০ সালের জুলাই মাসে বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সরকার জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করে।রহিমা বেগমের দাবি, ভাতার টাকা পাওয়ার জন্য তিনি একটি মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের পর থেকে তিনি আর কোনো ভাতার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ভাতা না পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানতে পারেন, তার নামে বরাদ্দ করা ভাতার টাকা নিয়মিত অন্য একটি নগদ নম্বরে পাঠানো হচ্ছে।অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নগদ নম্বরটি টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল খালেকের এনআইডি তথ্য দিয়ে খোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণে দেখা যায়। এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রহিমা বেগমের বিধবা ভাতার টাকা এমআইএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ০১৯১৭-৩৬৭৪৯২ নম্বরে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মে মাসে তার নামে ১ হাজার ৯৬১ টাকা পাঠানো হয়। অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ছয় বছরে তার নামে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ভাতা পাঠানো হয়েছে এবং তা উত্তোলন করা হয়েছে।রহিমা বেগম বলেন, “আমি বিধবা ভাতা পেতাম। ২০২০ সালের পর থেকে এক টাকাও পাইনি। অফিসে গিয়ে জানতে পারি, একটি নম্বরে আমার ভাতার টাকা যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, নম্বরটি খালেক মেম্বারের।”তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের ভাই তার ছেলের কাছে ৭ হাজার টাকা দিয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলা হয়।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, “কীভাবে আমার নম্বর সেখানে গেছে আমি জানি না। আমি ওই মহিলার কার্ড করে দিইনি। আর আমার ওই সিমটি চার বছর আগে হারিয়ে গেছে।”সিম হারানোর বিষয়ে কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না, কোনো জিডি করিনি। আর এ বিষয়ে আপস করা হয়েছে। এটা নিয়ে কেন এত কথা হচ্ছে। আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলব।”তবে সিম হারিয়ে গেলে এবং ওই টাকা তিনি উত্তোলন না করলে আপস করার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আবু রায়হান বলেন, “ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, “বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইটনায় নদীপথে বাল্কহেডে চাঁদাবাজির সময় নৌপুলিশের হাতে বাবর আলী আটক। ​

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় নদীপথে নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং নৌযানে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে নৌপুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইটনার দূরবর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ নদীপথে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেড থেকে বেআইনি চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাবর আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। ​আটককৃত বাবর আলী ইটনা উপজেলার সড়কহাটি গ্রামের মৃত ঝুবেদ আলীর ছেলে।​নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ও ইটনার নদীপথ দিয়ে নিয়মিতভাবে বালু, পাথর ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী পরিবহনকারী শত শত বাল্কহেড এবং কার্গো ভেসেল চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এই সমস্ত পণ্যবাহী নৌযান থামিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসছিল। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং নদীপথকে চাঁদাবাজমুক্ত রাখার লক্ষ্যে নৌপুলিশের একটি চৌকস দল ইটনার কৌশলগত নদী পয়েন্টগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি জোরদার করে।​বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান পরিচালনা করার সময় বাল্কহেড থামিয়ে অর্থ আদায়ের সময় বাবর আলীকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। নৌপুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) শফিক এই অভিযান ও আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ​গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে এসআই শফিক জানান, "বাল্কহেডসহ বিভিন্ন নৌযানে অবৈধ চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা নৌপথে এই সারপ্রাইজ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে চাঁদাবাজির সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাবর আলীকে আটক করা হয়। নদীপথে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সাধারণ নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিবিড় সুরক্ষা দিতে নৌপুলিশের এই জিরো-টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে।"​গ্রেপ্তারকৃত বাবর আলীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। নৌপুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নৌ-পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ ব্যবসায়ী মহল। নদীপথে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট সমূলে উৎপাটনে নিয়মিত টহল ও কঠোর আইনি তদারকি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্র থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: নেপথ্যে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতাদের সিন্ডিকেট

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় নিগুয়ার ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আশিক আকন্দ ও তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির রায়হান আকন্দের বিরুদ্ধে এই অবৈধ বালু ব্যবসার মূল কলকাঠি নাড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নদ থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত সবগুলো ড্রেজার মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আঁতাত করে এবং বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে।​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সরঞ্জাম ও মালামাল ব্যবহার করেই এই বালু পাচার করা হচ্ছে। এই চক্রের মূল পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন আশিক আকন্দ ও তার ভাই সাব্বির রায়হান। তারা নিজেরাই বালু বিক্রির সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সাব্বির রায়হান আকন্দ বর্তমানে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া অনলাইনে প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।​এ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তারা মামলা-হামলা সহ্য করে ও ত্যাগ স্বীকার করে দল ধরে রেখেছেন। কিন্তু সেই ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে একটি পক্ষ যদি সাবেক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করে, তবে তা মেনে নেওয়া যায় না।​বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের ভারসাম্য বিনষ্ট করে অবৈধভাবে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলায় পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার এর বিরুদ্ধে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল রেজিস্ট্রির নামে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের বায়না দলিল গোপন রেখে জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে নতুন দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।এ ঘটনায় সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. জসিম মিয়া। একইসঙ্গে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (ঢাকা) ও নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে।লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের গৌতম রুদ্রপালসহ তিন ব্যক্তি ২০২০ সালের ৮ জুন ভানু লাল রায়ের কাছে ৪.২৭২৬ একর ভূমি ৬ কোটি ৪০ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য ১৬২২ নং বায়না দলিল রেজিস্ট্রেশন করেন। ওই সময় বায়না বাবদ ৬০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়।পরবর্তীতে ক্রেতাপক্ষ ও দলিল লেখকের যোগসাজশে ওই জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের আড়ালে জমির সরকারি মৌজা দর বা মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেখানো হয়।অভিযোগে জানা গেছে, ৫১১৪/২০২৪, ৫১১৬/২০২৪, ৫১২৯/২০২৪, ৫১৩০/২০২৪, ৫১৩১/২০২৪, ৫১৩২/২০২৪, ৫১৩৩/২০২৪, ৫১৩৪/২০২৪, ৫১৩৫/২০২৪, ৫১৩৬/২০২৪, ৫১৩৭/২০২৪, ২৯৯৩/২০২৩, ২৯৯২/২০২৩, ৪৩১৬/২০২০, ২৯৬৭/২০২৩, ৪৩০৫/২০২৪ নং দলিল সহ আরও বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে জমির  মূল্য কম দেখিয়ে কৌশলে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীর তথ্যমতে, এই প্রক্রিয়ায় সরকার প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, “দলিলগুলোর বায়না রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ২০২০ সালে, আর আমি যোগদান করেছি ২০২৪ সালে। বায়না রেজিস্ট্রেন গোপন রাখা হয়েছিল কি না, তা আমার জানা ছিল না।”এ যেন এক দায়সারা বক্তব্য দেন তিনি!অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনে গিয়ে এটি তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।”স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিগত দিনেও একই সাব-রেজিস্ট্রার এর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এবং এখন সরকারি রাজস্বের বিশাল অংকের এই ক্ষতির পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ইতিমধ্যে সরকারি অডিট সংস্থাও (এজি অডিট) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন।

লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁশখালীর ৫ বছরের শিশু নিহত, আহত ৪

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আফনাস নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের  শিশুটির বাবা, মা, বড় ভাই ও ছোট বোনসহ চারজন আহত হয়েছেন।বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার মিঠাদিঘী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত আফনাস বাঁশখালী উপজেলার মধ্যম গুনাগরী জহুজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং লোহাগাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সবুরের দ্বিতীয় ছেলে।নিহতের বড় চাচা হালিম জানান, চাকরির সুবাদে মোহাম্মদ আব্দুস সবুর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লোহাগাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক শাখার পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বান্দরবানে বেড়াতে যান। পরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বান্দরবান থেকে লোহাগাড়ার বাসায় ফেরার পথে মিঠাদিঘী এলাকায় পৌঁছালে দক্ষিণ দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কভার্ডভ্যান সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়।এতে সিএনজিতে থাকা পাঁচ বছর বয়সী আফনাস ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দুর্ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুস সবুর (৪০), মা মর্জিনা বেগম (৩০), বড় ভাই আফনান (৮) এবং দুই বছর বয়সী ছোট বোন আহত হয়।পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত মা, বড় ভাই ও ছোট বোন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও মোহাম্মদ আব্দুস সবুর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।এদিকে আফনাসের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বাঁশখালীর মধ্যম গুনাগরী জহুজ পাড়া এলাকাসহ স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৌলভীবাজারে প্রাইভেটকার চাপায় নিহত-২, আশঙ্কাজনক-২

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৩নং কামালপুর ইউনিয়নের কামালপুর আখরা এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ২৪শে আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শেরপুর থেকে মৌলভীবাজারগামী একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার কামালপুর আখড়ার সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় স্থানীয় আখড়ায় হরিনাম কীর্তন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরা পথচারীদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে গাড়িটি পাশের খালে পড়ে যায়।ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কামালপুর ইউনিয়নের আজমনি গ্রামের বাসিন্দা বেনু পালের।ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাদের সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৬শে আগস্ট) চিকিৎসকরা অয়ন দত্ত (গ্রাম: আজমনি, কামালপুর)-কে মৃত ঘোষণা করেন।গুরুতর আহতরা হলেন:সুধাংশু রঞ্জন দেব (গ্রাম: দক্ষিণ পৈলভাগ, কামালপুর) রাজু দত্ত (গ্রাম: সমপাশী, কামালপুর) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় চিকিৎসাধীন এই দু'জনের শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।আচমকা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সমগ্র কামালপুর এলাকা ও নিহতের স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়কটিতে অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।

সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আরমানের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৬ নম্বর এঁওচিয়া ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরমান উদ্দিন (৩০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা এলাকার ওয়াহিদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আরমান উদ্দিন ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরমান উদ্দিন পেশায় একজন দক্ষ বৈদ্যুতিক মেকানিক ছিলেন।বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক কাজ করছিলেন আরমান। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। তবে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এঁওচিয়া এলাকায় আরমান নামে এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার খবর তারা পেয়েছেন।

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে নিথর অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণীর সন্ধান মিলেছে / বাইকের সেই তরুণীর সন্ধান মিলেছে, যা জানালেন তিনি

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে নিথর অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণীর সন্ধান মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীগামী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে যেতে দেখা যায়। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন। তার নজরে আসে, চালকের পেছনে থাকা এক যুবক একজন তরুণীকে ধরে রেখেছেন। তরুণীর খালি পা অস্বাভাবিকভাবে ঝুলে থাকায় তিনি অচেতন নাকি মৃত—এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।পরে মোটরসাইকেলটির ছবি ও নম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। মোটরসাইকেলটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪। রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে থাকা যোগাযোগের তথ্য নিয়েও অসংগতি পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।অনুসন্ধানে জানা যায়, মোটরসাইকেলের মালিকের ঠিকানা কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। তবে ঘটনার সময় যিনি বাইক চালাচ্ছিলেন, তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুরে এবং তার নামের শেষাংশ ‘আলম’। ওই তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন দাবি পাওয়া গেলেও তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।তরুণীর পরিবারের একজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের পর তিনি বাসা থেকে বের হন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে দুই যুবক তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমে টঙ্গীতে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তাকে মিরপুরে এক বান্ধবীর বাসায় রাখা হয় বলে পরিবারের ওই সদস্য দাবি করেছেন।শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দীর্ঘ সময় কথা বলেননি। তবে তিনি বর্তমানে ভালো ও সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেন। পরে সরাসরি দেখা করে বিস্তারিত জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর মৃত্যু, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো অপরাধের শিকার হওয়ার আশঙ্কাসহ নানা দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তরুণী জীবিত ও সুস্থ আছেন। ঘটনার অন্যান্য দিক সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের যেসব দাবি সামনে এসেছে, সেগুলোর সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ বুড়িগঙ্গার ঢেউ আর বৈঠার ছন্দে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাসব্যাপী আয়োজন ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে বুড়িগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বর্ণাঢ্য ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। বাংলার চিরচেনা নদী, নৌকা ও লোকজ সংস্কৃতির এই আয়োজন ঘিরে শুক্রবার বুড়িগঙ্গার দুই তীরে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। সকাল থেকেই নদীর পাড়ে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।দুপুর গড়াতেই হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও নানা বয়সী দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীর। নদীর বুকে শত শত নৌকা ও ট্রলারে পরিবার-পরিজন নিয়ে নাগরিকদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে পরিণত করে এক বর্ণিল মিলনমেলায়।শুক্রবার বিকেলে বুড়িগঙ্গার খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ছয়টি দল এতে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। নৌকার বৈঠার ছন্দ, প্রতিযোগীদের হইচই এবং দর্শকদের করতালিতে পুরো বুড়িগঙ্গার পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।নৌকা বাইচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌচলাচল অবাধ, সচল ও নিরাপদ করতে সরকার কাজ করছে। বুড়িগঙ্গা, বালু ও ধলেশ্বরীসহ ঢাকার আশপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।তিনি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ডিএসসিসির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে নদীর তীরকে সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে মানুষের হাঁটাচলা, অবসর ও বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রতিযোগিতা শেষে সোয়ারীঘাট প্রাঙ্গণে নোঙর করা শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী স্টিমার ‘পিএস মাহমুদ’-এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় নৌকা বাইচ একটি অনন্য উদ্যোগ। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। আদি ঢাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকাকে হৃদয়ে ধারণ করতে পারলেই নগরীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হবে। আর সেই ভালোবাসা থেকেই পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ সফল হবে।তিনি জানান, ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের মাধ্যমে ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। উৎসবের অংশ হিসেবে মিনি ম্যারাথন, সাইকেল র্যালি, নাট্য উৎসব ও চলচ্চিত্র উৎসবসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, ঢাকার উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের সড়ক নির্মাণ এবং নদীর পাড় বাঁধাই করে দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ তৈরির মতো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।নৌকা বাইচের প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদের দল। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোশারফ হোসেন খোকনের দল। তৃতীয় হয় মাদারীপুরের আনিসুর রহমানের দল।অনুষ্ঠানে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বুড়িগঙ্গার তীরে ফিরেছে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য, অন্যদিকে নগরবাসীর মধ্যেও তৈরি হয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ। আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও এমন আয়োজন ঢাকার সাংস্কৃতিক শিকড়কে স্মরণ করিয়ে দেয়। বুড়িগঙ্গার ঢেউ আর বৈঠার ছন্দে যেন নতুন করে ধরা দিয়েছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য, প্রাণ ও নাগরিক আনন্দের এক অপূর্ব ছবি।

জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত অভিনেতা রিফাত শেখ, উদযাপনে কক্সবাজারে বন্ধুদের সঙ্গে

বাংলাদেশের নাটক ও অভিনয় অঙ্গনের তরুণ মুখ রিফাত শেখের আজ জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দর্শকদের শুভেচ্ছা-ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন সম্ভাবনাময় এই অভিনেতা। জন্মদিনের আনন্দকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজারে দেখা যাচ্ছে তাকে। সমুদ্রের শহরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর আনন্দের মধ্য দিয়েই এবারের জন্মদিন উদযাপন করছেন রিফাত।অল্প সময়ের অভিনয়যাত্রায় দর্শকদের নজর কাড়তে শুরু করেছেন রিফাত শেখ। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ, পরিশ্রম এবং বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন তিনি। তাকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে নিজের অভিনয়ক্ষমতা আরও মেলে ধরতে চান এই তরুণ।ইতোমধ্যে ধারাবাহিক নাটকসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রিফাত। তার অভিনীত কাজের তালিকায় রয়েছে ‘বিষাক্ত বন্ধু’, ‘রিকশাওয়ালা’, ‘গরম হাওয়া’ ও ‘ডেঞ্জার গ্যাংস্টার’-এর মতো নাটক। সামনে আরও নতুন চরিত্র ও গল্পে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তার।অভিনয়ের ক্ষেত্রে রিফাতের ভাবনাতেও রয়েছে স্বতন্ত্রতা। তার ভাষায়, “আমি স্টার হব না, আমি শিল্পী হব। কারণ তারার পতন হলেও শিল্পীর পতন হয় না।” অভিনয়কে কেবল পরিচিতি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে না দেখে দীর্ঘদিন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার আকাঙ্ক্ষাই তার এই কথায় ফুটে ওঠে।তবে জন্মদিন বলে কথা—কাজ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুগম্ভীর আলোচনা তো সারাবছরই করা যাবে। আপাতত রিফাতের ঠিকানা কক্সবাজার! বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রপাড়ে তাকে দেখে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কেউ কেউ মজার ছলে বলতেই পারেন, জন্মদিনের কেকের সঙ্গে এবার বুঝি সমুদ্রের ঢেউও যোগ হয়েছে উদযাপনে। আর বন্ধুদের সঙ্গে যখন কক্সবাজারে জন্মদিন, তখন কেক কাটার পর বিলটা কে দিচ্ছেন—সেই প্রশ্নও কিন্তু থেকেই যাচ্ছে!জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রিফাতকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অভিনয়ের পথে তার আগামী দিনগুলো আরও সমৃদ্ধ হোক এবং নতুন নতুন চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিক—এমন প্রত্যাশাই তাদের।অভিনয়জগতে পথচলা এখনও অনেক বাকি রিফাত শেখের। সামনে রয়েছে নিজেকে প্রমাণ করার দীর্ঘ সুযোগ। জন্মদিনে তার জন্য রইল সুস্থতা, সাফল্য ও সুন্দর আগামীর শুভকামনা। কক্সবাজারের আনন্দ শেষে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের আরও ভালো কিছু উপহার দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে দুদিনের সম্মেলন শুরু আজ

আগামী ২৮ ও ২৯ আগষ্ট দেশের ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অংশগ্রহণে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট ২০২৬’ সম্মেলন।বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সম্মেলন ফিসারিজ ও মেরিন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. নিয়াজ আল হাসান।বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য চিন্তার মিলন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্মেলনের আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল ইউনাইটেড নেশনস ও বৈশ্বিক বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিএসটিইউ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (জিএসটিইউজিএসি)।সংবাদ সম্মেলমে জানানো হয়, সাতটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও আলোচনা করা হবে। প্রথম দিনে তিনটি এবং দ্বিতীয় দিনে চারটি—মোট সাতটি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. নিয়াজ আল হাসান জানান, সম্মেলনে মোট ১৩৬ টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। এর মধ্য যাচাই-বাছাই শেষে ৬৬ নির্বাচিত গবেষণাপত্রগুলো ম্যাগাজিন আকারে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সম্মেলনের কার্যবিবরণী বা প্রসিডিংস আইএসবিএন নিবন্ধিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণা কার্যক্রমে ৩৬ জন সহলেখক বা অবজারভার যুক্ত রয়েছেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অধিবেশনের দায়িত্বে থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জিএসটিইউসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।আয়োজকদের দাবি, ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, সাতটি আন্তঃবিষয়ক সেশন এবং আইএসবিএন-নিবন্ধিত কার্যবিবরণী প্রকাশের উদ্যোগের কারণে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট ২০২৬’ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষার্থী গবেষণা সম্মেলন হতে যাচ্ছে।আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তঃবিষয়ক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান আয়োজকেরা।

কেমন থাকবে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া

রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন ঢাকায় হালকা বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।শুধু রাজধানী নয়, আগামী কয়েক দিন দেশের বেশির ভাগ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হতে পারে মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে।এদিকে সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে সৈয়দপুর, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুরে। রাজধানী ঢাকায় এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণও হতে পারে।পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এ সময়ে সারাদেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

মাঠ প্রশাসনে গতি আনতে সরকারের মাস্টারপ্ল্যান, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জের নতুন অভিভাবক ইয়াসের খান চৌধুরী।

মাঠ প্রশাসনের অচলাবস্থা কাটানো, উন্নয়ন কাজের গতি ত্বরান্বিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সারা দেশের জেলাভিত্তিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা তদারকির অংশ হিসেবে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শিল্প ও বাণিজ্যিক জেলা—টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, হাওর ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ কিশোরগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসন তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।  ​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট তিন জেলায় ব্যাপক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।​মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ দ্রুত নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন। ​তারা নিয়মিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অংশ নিয়ে সরকারের সার্বিক নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এই তদারকি হবে সমন্বয়মূলক। ফলে স্থানীয় সরকার বা অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ও প্রশাসনিক ক্ষমতায় এটি কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না, বরং কার্যক্রমের পরিধি ও গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।​ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প, তাঁত কারখানা এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোর কারণে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রীর মতো একজন অভিজ্ঞ ও অর্থনীতিভিত্তিক মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ অভিভাবককে এ দুটি জেলার সার্বিক দায়িত্ব প্রদানকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কৌশলগত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ​স্থানীয় অর্থনীতিবিদদের মতে, টাঙ্গাইলের বিশ্বখ্যাত ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন, নতুন টেক্সটাইল পার্ক স্থাপন ও সংযোগ বিস্তার এবং নরসিংদীর বৃহৎ শিল্প এলাকাগুলোর নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে শরীফুল আলমের প্রশাসনিক নজরদারি সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।​নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকার তাঁর ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এ গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পরম সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করা হবে। তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার শিল্প খাতের অমিত সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো, স্থবির প্রকল্পগুলো সচল করা এবং সর্বোপরি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর কাজের প্রধান অগ্রাধিকার।​প্রযুক্তি ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে তরুণ তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ইতিমধ্যে গণমাধ্যম ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর জেলা কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় তরুণ সমাজ ও সচেতন মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ​পলিমাটি ও সুবিশাল হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলায় একদিকে যেমন কৃষি ও মৎস্য সম্পদের অফুরন্ত ভাণ্ডার রয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা সুপ্ত রয়েছে। ইয়াসের খান চৌধুরী কিশোরগঞ্জের তথ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন, হাওরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কথা নিশ্চিত করেছেন। ​প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, কিশোরগঞ্জের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্ভাবনাময় এক জেলার সার্বিক দায়িত্ব পাওয়া অত্যন্ত সম্মানজনক এবং এটি একটি বড় দায়িত্বও বটে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিবিড় পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কিশোরগঞ্জকে একটি আদর্শ মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।  ​সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সমন্বয় কার্যক্রম কীভাবে রূপায়িত হবে, সে বিষয়ে সরকারের প্রশাসনিক বিবরণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। তাঁতশিল্প সংরক্ষণ, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত জোরদার করা এবং কঠোর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর প্রধান জোর দিয়ে টাঙ্গাইল জেলার তদারকি পরিচালিত করবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। একই সাথে, দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র ও শিল্প বেল্ট নরসিংদী জেলার ক্ষেত্রে শিল্পাঞ্চলের স্থায়ী নিরাপত্তা সুসংহত করা, রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল খাতের প্রসার এবং নাগরিক সেবার দ্রুত নিশ্চিতকরণের সর্বাত্মক দায়িত্বটি পালন করবেন মো. শরীফুল আলম। ​অন্যদিকে, অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কিশোরগঞ্জ জেলার ক্ষেত্রে হাওর অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, রূপামুখী পর্যটন শিল্পের প্রসার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য সার্বিক কৌশল প্রণয়ন ও তদারকির ভূমিকাটি সামলাবেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।​​উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সরাসরি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মাঠপর্যায়ের জেলাগুলোর অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়াটি লালফিতার দৌরাত্ম্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বহুলাংশে দূর করবে। স্থানীয় দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নে এর ফলে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারিত হবে। ​উন্নয়নমূলক প্রতিটি কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হওয়া এবং দুর্নীতি রোধে এই কেন্দ্র-মাঠ সরাসরি তদারকি কাঠামো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে। টাঙ্গাইল, নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাই সরকারের এমন সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক দিক থেকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকবৃন্দ।

ঋণের জালে নিভে গেল প্রাণ, ভৈরবে সুদের নির্মম চাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা।

ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আর চড়া সুদের নির্মম চাপে পিষ্ট হয়ে অবশেষে মৃত্যুর অন্ধকার গলিকেই বেছে নিলেন হনুফা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ। রোববার (২৩ অগাস্ট ) সকালে কিশোরগঞ্জের শিল্প ও বন্দরনগরী ভৈরব পৌরসভার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা পেঁচিয়ে নিজ জীবনাবসান ঘটান তিনি। নিহত হনুফা বেগম ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজ মেকার আক্রাম হোসেনের স্ত্রী।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর স্বামী আক্রাম হোসেনের স্বল্প আয় দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ও সংসারের চাকা সচল রাখতে হনুফা বেগম একাধিক এনজিও ও স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি আর আয়-ব্যয়ের অসঙ্গতির কারণে প্রতি সপ্তাহে এবং মাসে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।​ঘটনার আগের দিনগুলোতে কিস্তি আদায়কারীদের ক্রমাগত চাপ, অপমান ও লোকলজ্জার ভয়ে মানসিকভাবে একবারে ভেঙে পড়েছিলেন হনুফা বেগম। রোববার সকালে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের বাইরে থাকলে মানসিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। অনেকক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং সিলিং ফ্যানের সাথে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।সংবাদ পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই বিষয়ে ভৈরব থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার বসতবাড়ির একটি বন্ধ কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচানো অবস্থায় হনুফা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। ​পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঋণের কিস্তির চাপেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর প্রকৃত কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।​ঘটনার পর থেকে ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নেমে এসেছে এক বিষাদময় নীরবতা। স্ত্রী হারিয়ে দিশেহারা স্বামী আক্রাম হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সংসার চালানোর জন্যই ঋণ নিতে হয়েছিল। কিন্তু ঋণের সুদের বোঝা যে আমার স্ত্রীর প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কখনো ভাবিনি। পাওনাদারদের কথার আঘাত আর চাপ ও আর নিতে পারছিল না।" ​হনুফা বেগমের এমন করুণ পরিণতি পুরো এলাকাবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের মতে, এনজিওর সুদের হার এবং এলাকাভিত্তিক অননুমোদিত দাদন ব্যবসার নির্মম জাঁতাকলে পড়ে আজ একের পর এক নিম্নেবিত্ত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।​ভৈরবের এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন আত্মহত্যা নয়, বরং এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর চড়া সুদের অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তির চাপে পড়ে সাধারণ মানুষের আত্মাহুতির ঘটনা দেশে নতুন নয়। এনজিও ও স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের কিস্তি আদায়ের অমানবিক চাপ অনেক সময়ই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চরম মানসিক ট্রমার দিকে ঠেলে দেয়।​বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রান্তিক পর্যায়ে ঋণের সহজলভ্যতা থাকলেও তা পরিশোধের সঠিক আর্থিক পথ বা সুরক্ষা কৌশল না থাকায় নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার। কিস্তি আদায়ে আরো মানবিক আচরণ এবং স্থানীয় অননুমোদিত চড়া সুদের দাদন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।​নিহত হনুফা বেগমের মর্মান্তিক বিদায় যেন আরো একবার আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল—আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থসংস্থানের প্রক্রিয়ায় মানবিকতার অভাব কতটা গভীরে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সাংবাদিকের প্রথম পরিচয় হোক সত্যনিষ্ঠা

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি একটি বড় দায়িত্ব। মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া, অন্যায়-অনিয়ম তুলে ধরা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা সাংবাদিকতার অন্যতম কাজ। একটি সংবাদ মানুষের চিন্তা, সিদ্ধান্ত ও মতামতকে প্রভাবিত করতে পারে। একটি সত্য সংবাদ যেমন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ একজন ব্যক্তি, একটি প্রতিষ্ঠান এমনকি পুরো সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সাংবাদিকের হাতে থাকা কলমের ব্যবহার হতে হবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল।একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার সততা ও সত্যনিষ্ঠা। কোনো ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব না ফেলে। একটি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রকাশ করে দেওয়ার চেয়ে তথ্যটি কতটা সত্য, সেটি যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একাধিক সূত্র থেকে তথ্য নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই ছাড়া প্রকাশ না করাই একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ।সাংবাদিককে হতে হবে নিরপেক্ষ ও সাহসী। ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করার যেমন সাহস থাকতে হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের কথাও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে হবে। সাংবাদিক কারও পক্ষের মানুষ নন, তিনি সত্য ও জনস্বার্থের পক্ষের মানুষ। ক্ষমতাবানের অন্যায় হলে সেটিও তুলে ধরতে হবে, আবার সাধারণ মানুষের অপরাধ বা অনিয়ম থাকলেও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা প্রকাশ করতে হবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান যেন সত্য প্রকাশের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।একজন ভালো সাংবাদিকের মধ্যে প্রশ্ন করার অভ্যাস থাকতে হবে। একটি ঘটনা ঘটেছে, কেন ঘটেছে? এর পেছনে কারা রয়েছে? এর সঙ্গে আর কারা জড়িত? সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব কী? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। শুধু প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ফেসবুক পোস্ট কিংবা কারও বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে সাংবাদিকতা করলে সংবাদ হয়তো দ্রুত প্রকাশ করা যায়, কিন্তু সেখানে সাংবাদিকতার গভীরতা থাকে না। খবরের ভেতরের খবর খুঁজে বের করার আগ্রহই একজন সাংবাদিককে অন্যদের থেকে আলাদা করে।সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ভাষা ও লেখার দক্ষতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাংবাদিককে সহজ, সাবলীল ও নির্ভুল ভাষায় পাঠকের কাছে তথ্য তুলে ধরতে জানতে হবে। অপ্রয়োজনীয় শব্দ, অতিরঞ্জন কিংবা চটকদার ভাষা দিয়ে সংবাদকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা অনেক সময় মূল ঘটনাকেই আড়াল করে ফেলে। শিরোনাম অবশ্যই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, তবে সেই শিরোনাম যেন কোনোভাবেই বিভ্রান্তিকর না হয়। পাঠককে আকৃষ্ট করা এবং পাঠককে বিভ্রান্ত করা এক বিষয় নয়।বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতা। কে আগে খবর দেবে, সেই প্রতিযোগিতায় অনেক সময় তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব হারায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি সংবাদমাধ্যমেও চলে আসে। কিন্তু সাংবাদিকতার মূল কথা হওয়া উচিত, ‘সবার আগে’ নয়, ‘সবার আগে সঠিক’। একটি ভুল সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সংশোধনী দেওয়া হলেও সেই ভুলের প্রভাব অনেক সময় পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয় না।সাংবাদিককে মানবিকও হতে হবে। দুর্ঘটনা, মৃত্যু, নির্যাতন, আত্মহত্যা কিংবা পারিবারিক সংকটের সংবাদ সংগ্রহের সময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের মর্যাদার বিষয়টি মনে রাখতে হবে। একটি ছবি বা একটি তথ্য পাঠকের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু সেটি প্রকাশের কারণে কোনো পরিবার আরও বেশি সামাজিক বা মানসিক সংকটে পড়ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। মানুষের দুঃখ-কষ্টকে শুধু পাঠকের কৌতূহল মেটানোর উপকরণ বানানো সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হতে পারে না।একজন সাংবাদিককে অর্থ, উপহার, ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো সুবিধার বিনিময়ে সংবাদকে প্রভাবিত করলে হয়তো সাময়িকভাবে লাভবান হওয়া যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে হারাতে হয় পাঠকের আস্থা। একজন সাংবাদিকের কাছে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু হতে পারে না।সাংবাদিকতাকে সময়ের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিককে হতে হবে জ্ঞানপিপাসু। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করতে হবে। রাজনীতি, অর্থনীতি, আইন, প্রযুক্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা কিংবা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তথ্য যাচাই, তথ্যের উৎস শনাক্ত করা এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানাও এখন সাংবাদিকতার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন সাংবাদিককে মনে রাখতে হবে, তিনি শুধু একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন। তিনি সমাজের মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা একজন পেশাজীবী। তার একটি প্রতিবেদন কোনো নির্যাতিত মানুষের কথা সমাজের সামনে তুলে ধরতে পারে, কোনো দুর্নীতি প্রকাশ্যে আনতে পারে, কোনো অনিয়ম বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারে। আবার একটি ভুল প্রতিবেদনের কারণে একজন নির্দোষ মানুষও সামাজিকভাবে হেয় হতে পারেন।তাই সাংবাদিকের পরিচয় শুধু তার পদবি দিয়ে নয়, তার সততা, দায়িত্ববোধ, সাহস, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত দক্ষতা দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত। সাংবাদিকতা যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক আনুগত্য, অর্থের প্রলোভন কিংবা প্রতিষ্ঠানের চাপের কাছে হার না মানে। সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে সাংবাদিককে সবার আগে দায়বদ্ধ থাকতে হবে সত্যের কাছে এবং মানুষের কাছে।আজকের সময়ে যখন গুজব খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তখন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রয়োজন আরও বেড়েছে। একজন প্রকৃত সাংবাদিক খবরের পেছনে ছুটবেন, কিন্তু সত্যকে পেছনে ফেলবেন না। চাপ আসবে, সমালোচনা হবে, নানা ধরনের প্রলোভনও থাকবে। তারপরও যিনি নীতির জায়গা থেকে সরে যাবেন না, তিনিই প্রকৃত অর্থে সাংবাদিক।শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি তার গতি নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা। কলমের শক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই কলম সত্যের পক্ষে দাঁড়ায় এবং মানুষের স্বার্থকে সবার আগে রাখে।লেখক- মোঃ সোহেল রানা প্রধান

নওগাঁর বদলগাছীতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবি পালিত

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এলাকার বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও সুধিজনদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী পালিত হয়েছে।২৬-০৮-২০২৬ ইং তারিখ বুধবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানটিতে স্বাগত বক্তব্য দেন বদলগাছী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আলআমিন সরদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যথাক্রমে বদলগাছী থানার ওসি মুহম্মদ রুহুল আমিন ও উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ জাকির হোসেন চৌধুরী। অপরদিকে ওলামায়ে কেরামদের মধ্য থেকে বক্তব্যদেন বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব নাবিল আহসান, পবিত্র কোরআন পাঠ ও নাতে রসুল পরিবেশন করেন যথাক্রমে কারী মোঃ আব্দুর রহমান খতিব সোহসা উত্তরপাড়া জামে মসজিদ ও আততাব হোসেন খতিব ইসমাইলপুর জামে মসজিদ।বক্তরা বলেন আমাদের দৈনদৈনিক জীবনে প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আদেশ,উপদেশ ও নিষেধগুলো মেনে চললে সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে শান্তি ফিরে আসবে। অনুষ্ঠান শেষে দেশ এবং বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তর ঐক্য, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মৌলনা নাবিল আহসান।

মাজার ধ্বংসের চেষ্টা হলে এবার আর নীরব থাকব না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মাজার ধ্বংসের চেষ্টা হলে এবার আর নীরব থাকব না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীদেবীগঞ্জ (পঞ্চগড় )প্রতিনিধি:“কোনো মাজার ধ্বংস করা হলে আমরা ঘরে বসে থাকব না”—দৃঢ় হুঁশিয়ারি দিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, দেশে কোনো মাজার, পীরের তরিকা কিংবা ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর করতে দেওয়া হবে না।বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর সদরের বিজয় চত্বরে আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াত আয়োজিত জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের ১২৭টি মাজার ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং মাজারগুলো বন্ধ করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন মুসলমান মাজারের খাদেমকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো মাজার ধ্বংস করা হলে আমরা আর ঘরে বসে থাকব না।তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই পৃথিবীতে এসেছিলেন। আমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। নবীর তরিকা অনুসরণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাসুল (সা.)-এর নবুয়তি জীবন, নীতি ও আদর্শ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। মদিনায় ব্যবসায়ীদের সম্পদ চুরি হলে রাসুল (সা.) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে সময় হিলফুল ফুজুল গঠন করা হয়েছিল।আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াতের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হামিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গনি বসুনিয়া, পঞ্চগড় জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, পঞ্চগড় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান, দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কাদেরী কিবরিয়া রানা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াতের উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান গোলাম মাহবুব জিহাদিসহ অনেকে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আহলে সুন্নত ওয়াল জামা’য়াতের দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির কার্যকরী সদস্য সফিকুল ইসলাম। এতে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.): দেশবাসীকে দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শুভেচ্ছা / পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ, শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছে দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ পরিবার।মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে শান্তি, সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবনাদর্শ মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ, অন্যায় ও বিভেদ পরিহার করে সত্য, ন্যায়, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের পথে চলার শিক্ষা দেয়।পবিত্র এই দিনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছে দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ।ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় করা হচ্ছে বিশেষ মোনাজাত।দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ মনে করে, বর্তমান বিশ্বের সংঘাত, বৈষম্য, হিংসা ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, কল্যাণ ও বরকত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের তাওফিক দান করুন।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।শুভেচ্ছান্তেদৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ পরিবার

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মের জন্য নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। / মহানবী (সা.)-এর আদর্শ তরুণদের জন্য হতে পারে প্রেরণার উৎস

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মের জন্য নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। তাঁর সততা, ধৈর্য, সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেদের যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবীর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনায় আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা তরুণ প্রজন্মের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে তাঁর শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) শৈশব ও কৈশোর থেকেই সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য মানুষের আস্থা অর্জন করেন। সত্যবাদিতা ও আমানতদারির কারণে তিনি ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বাসী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, সংযম ও ন্যায়বিচারের পথ থেকে সরে না যাওয়ার শিক্ষা তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, সামাজিক চাপ ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.)-এর আত্মসংযম, অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা তরুণদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।মহানবী (সা.) জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষকে ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের প্রতিও দায়িত্বশীল হওয়ার পথ দেখায়।বিশেষ করে মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে সহনশীলতা, প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা এবং সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের যে দৃষ্টান্ত মহানবী (সা.) রেখে গেছেন, তা তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে তথ্যের অপব্যবহার, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বিভাজনের বিপরীতে সত্য, শালীনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.)-এর নৈতিক শিক্ষা এসব ক্ষেত্রে তরুণদের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।তরুণ প্রজন্ম যদি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করে, তাহলে তারা নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।