ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পুলিশ-র‍্যাবের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র‍্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (২৬ মে) পুলিশ সদর দফতরের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে, সেগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা সামনে আরও দৃশ্যমান হবে।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে আইনের শাসন দুর্বল ছিল, যার ফলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিয়ম-কানুনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় বদ্ধপরিকর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়েও কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের মনিটরিং সেল ঈদের সাত দিন আগে ও পরে পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে এবং পশুর হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে।তিনি বলেন, যেসব এলাকায় সিসিটিভি নেই, সেখানে বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তদারকি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলকভাবে দুর্ঘটনা কম হলেও কিছু ঘটনায় চালক ও যাত্রীদের অসচেতনতা দায়ী। বিশেষ করে সাম্প্রতিক একটি দুর্ঘটনায় যাত্রীরা ট্রাকের ওপর ওঠায় ভারসাম্য হারিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে। জাল নোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে পশুর হাটে বিশেষ মেশিন বসানো হয়েছে। সবাইকে লেনদেনের সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।এস.আর 

বোর্ড বাজারে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এশিয়ান ব্যাংক ডেভোলপমেন্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি বার্ষিক ঋণ প্রতিশ্রুতিও ধাপে ধাপে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সোমবার (২৫ মে) সকালে এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।নতুন সহায়তা কাঠামোর আওতায় “ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।এডিবি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পাওয়া যাবে, যা তাদের বর্ধিত বার্ষিক ঋণ কাঠামোর অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা মধ্যমেয়াদে ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।সংস্থাটি আরও বলছে, এই অতিরিক্ত অর্থায়ন ব্যবহার হবে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার কাজে।এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে এডিবি। পাশাপাশি দেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, যেখানে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের অর্থায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে এডিবি।এস.আর 

গাজীপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা

বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এশিয়ান ব্যাংক ডেভোলপমেন্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি বার্ষিক ঋণ প্রতিশ্রুতিও ধাপে ধাপে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সোমবার (২৫ মে) সকালে এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।নতুন সহায়তা কাঠামোর আওতায় “ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।এডিবি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পাওয়া যাবে, যা তাদের বর্ধিত বার্ষিক ঋণ কাঠামোর অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা মধ্যমেয়াদে ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।সংস্থাটি আরও বলছে, এই অতিরিক্ত অর্থায়ন ব্যবহার হবে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার কাজে।এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে এডিবি। পাশাপাশি দেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, যেখানে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের অর্থায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে এডিবি।এস.আর 

কুমারখালীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে এশিয়ান ব্যাংক ডেভোলপমেন্ট। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশটিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন দেওয়া হবে। পাশাপাশি বার্ষিক ঋণ প্রতিশ্রুতিও ধাপে ধাপে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।সোমবার (২৫ মে) সকালে এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।নতুন সহায়তা কাঠামোর আওতায় “ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ” নামে একটি কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।এডিবি জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন পাওয়া যাবে, যা তাদের বর্ধিত বার্ষিক ঋণ কাঠামোর অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে সংস্থাটির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার, যা মধ্যমেয়াদে ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।সংস্থাটি আরও বলছে, এই অতিরিক্ত অর্থায়ন ব্যবহার হবে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার কাজে।এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে এডিবি। পাশাপাশি দেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, উন্নয়ন সহযোগিতায় নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, যেখানে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের অর্থায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে এডিবি।এস.আর 

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ:  ডা. টিপু

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ: ডা. টিপু

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন আশরাফ উদ্দিন নিজানের

অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন আশরাফ উদ্দিন নিজানের

মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বুধবার ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজ, পশু কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয়েছে ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার জিলহজ মাসের নবম দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ হাজি সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। ভোর থেকেই শুভ্র ইহরামে সজ্জিত হাজিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আরাফাত প্রান্তর।ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী আরাফাতে অবস্থান হজের প্রধান রুকন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা আরাফাতের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে নামাজ, তওবা-ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আসকারে সময় কাটান। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় দোয়া ও প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন তারা।দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। এবার বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।খুতবা শেষে হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করে সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন তারা। একই সঙ্গে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কঙ্কর সংগ্রহ করেন হাজিরা।১০ জিলহজ সকালে মিনার জামারায় বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করবেন হাজিরা। কুরবানি শেষে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে ইহরাম ত্যাগ করবেন তারা। এরপর কাবা শরিফ তাওয়াফের মধ্য দিয়ে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন।এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় মুসলমানদের অনেকে আগেই কুরবানির পশু কিনেছেন। পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিয়েছেন নানা প্রস্তুতি। হজ ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে সৌদি সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তীব্র গরমে হাজিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন স্থানে পানির ফোয়ারা ও ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ২৪ হাজার বিশেষ বাস পরিচালনা করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

৩২ লাখ টাকার গরু নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন পানিসম্পদমন্ত্রীর ছেলে

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩২ লাখ টাকায় গরু কেনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার ছেলে সারিয়ান চৌধুরী।মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী দাবি করেন, তাদের পরিবার প্রতি বছরই একাধিক গরু কুরবানির জন্য ক্রয় করে থাকে। তিনি জানান, তার বাবা ও চাচারা পারিবারিক কুরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদরাসার জন্য নিয়মিত ৬ থেকে ৮টি গরু কেনেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ৬টি গরু কেনা হয়েছে।পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার বাবা মন্ত্রী হওয়ায় কি অযৌক্তিক সমালোচনার শিকার হচ্ছেন। তিনি লেখেন, ভবিষ্যতে তার বাবা মন্ত্রী না থাকলেও পরিবারের সদস্যরা বেশি সংখ্যক গরু কুরবানি দিলে একই ধরনের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে কি না, সেটিও ভাবার বিষয়।সারিয়ান আরও দাবি করেন, কুরবানির গরুগুলোর মাংস গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তার ভাষায়, “সবগুলো গরুই গরিব মানুষের হক। মানুষের হক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।”পোস্টের শেষাংশে ধর্মীয় অনুভূতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ সব দেখেন ও জানেন। সম্প্রতি ৩২ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই সারিয়ান চৌধুরীর এই ব্যাখ্যামূলক পোস্ট নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সব বিভাগের খবর

বোর্ড বাজারে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজার এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দোকানদার, পথচারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং ফুটপাত ঘেঁষে অস্থায়ীভাবে বসা দোকান, অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও হকারদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে টাকা আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে হুমকি দেওয়া, দোকান বসাতে বাধা দেওয়া কিংবা জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।ফুটপাত ব্যবহারকারী একাধিক হকার জানান, নির্দিষ্ট কিছু লোক প্রতিদিন এসে “ভাড়া” বা “চাঁদা” নামে টাকা নিয়ে যায়। তারা বলেন, “প্রতিদিন টাকা না দিলে এখানে দাঁড়াতেও দেয় না। বাধ্য হয়ে দিতে হয়।”অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দখল হওয়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে। এতে ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় পরিস্থিতি আরও অব্যবস্থাপূর্ণ হয়ে ওঠে।এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাদের।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বোর্ড বাজার এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।এস.আর 

গাজীপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা

গাজীপুরের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল সম্পাদন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, দলিল করতে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তি।ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের সুযোগ করে দিচ্ছে একটি দালাল ও দলিল লেখক চক্র। এতে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে, দলিল সম্পাদনের জন্য স্বাভাবিক ফি’র বাইরে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এই বাড়তি অর্থ কার পকেটে যাচ্ছে—অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, দালাল চক্র নাকি অন্য কেউ—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হয় সেবা প্রত্যাশীদের। অথচ অর্থ দিলেই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছে, প্রকাশ্য এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, “সাধারণ মানুষ যদি ন্যায্য সেবা না পায়, তাহলে এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?” দ্রুত সমাধান ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সেবাগ্রহীতারা।এস.আর 

কুমারখালীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়াহেদ আলী (৫০) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।গ্রেফতার হওয়া ওয়াহেদ আলী উপজেলার তারাপুর গ্রামের মৃত রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি আমবাগানের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু মাঠে ছাগল চরাতে যায়। একপর্যায়ে পাশের একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে অভিযুক্ত ওয়াহেদ তাকে জোরপূর্বক ধরে মুখ চেপে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে মাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে শিশুটির বাবা সোমবার রাতে কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।মামলার বাদী শিশুটির বাবা বলেন, “আমার ছেলেকে মাঠে নিয়ে গিয়ে এমন নির্যাতন করা হয়েছে। আমি চাই, দোষীর এমন শাস্তি হোক যাতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।”কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো ধরনের গ্রাম্য সালিশের সুযোগ নেই।”এস.আর 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেফতার ১জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা পুলিশের অভিযানে চুরি যাওয়া একটি TVS Apache RTR 160 CC মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২ মে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে বাদী তার মোটরসাইকেলটি নাচোলের শ্রীরামপুর গ্রামের স্টেশন বাজার ছাগল হাটের পাশে রেখে হাটে যান। বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ফিরে এসে দেখেন বাইকটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয় একটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় দেখা যায়, এক যুবক বাইকটি নিয়ে ফতেপুর ইউনিয়নের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে।এ ঘটনায় বাদী, বাদী হয়ে নাচোল থানায় মামলা করেন। মামলা নং- ১৩, তারিখ ২৫ মে ২০২৬, ধারা ৩৭৯ পেনাল কোড।যেভাবে ধরা পড়ল আসামী চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে টিমটি প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।২৪ মে রাত ৩টা ২৫ মিনিটে শিবগঞ্জ থানার আইড়ামাড়ি গ্রামে আসামীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মোঃ জিহাদ হোসেন (২০), পিতা সোবহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া TVS Apache RTR 160 CC মোটরসাইকেলটি। রেজিঃ নং: নওয়াবগঞ্জ-ল-১-৫২৭ ইঞ্জিন নং: 0E4DJ22011568চেসিস নং: MD634KE44J2D09948গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এস.আর 

বগুড়াতে জমি বিক্রির টাকা লুটে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা

বগুড়ার গাবতলীতে জমি বিক্রির টাকা চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে পরিচিতি ধরা পড়ায় রিতা রানী মজুমদার (৫০) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন মমিনহাটা গ্রামের শাওন মিয়া (২০) ও আনোয়ার হোসেন (৩৫)। তারা দুজনই দিনমজুরের কাজ করতেন। পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে আনোয়ার হোসেন জানতে পারেন বিধান মজুমদারের বাড়িতে জমি বিক্রির কিছু টাকা রাখা আছে। এরপর শাওনকে সঙ্গে নিয়ে টাকা চুরির পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি হাসুয়া সংগ্রহ করেন। গত ২০ মে রাতে বিধান মজুমদার ও তার স্ত্রী বাড়ির বাইরে ধান ও খড়ের কাজে গেলে তারা সুযোগ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। পরে রাত গভীর হলে তারা চুরির চেষ্টা শুরু করে। রাত সোয়া ১২টার দিকে শব্দ করে দরজায় ধাক্কা দিলে রিতা রানী মজুমদার টর্চ হাতে বাইরে বের হন। এ সময় তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেলেন। পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে আনোয়ার হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়, কোনো টাকা না নিয়েই। পাশের ঘর থেকে শব্দ পেয়ে বাইরে এসে বিধান মজুমদার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পর গাবতলী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। পরে শাওনকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে আনোয়ারের নাম জানান। এরপর অভিযান চালিয়ে আনোয়ারকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আসামিদের দেখানো মতে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি হাসুয়া কচুরিপানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত পোশাক, মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতার দুইজনকে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এস.আর 

তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সাবেক স্বামী আল আমিন (২৪) কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।সোমবার (২৪ মে) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।গ্রেফতার আল আমিন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় আড়াই বছর আগে আল আমিন বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে গত বছরের ১৯ অক্টোবর তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন।এরপর পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আল আমিন অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী গত ৫ মে গোবিন্দগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩, সিপিসি-৩ (গাইবান্ধা) এবং র‍্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর, সাভার) এর যৌথ অভিযানে শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য গ্রেফতার আল আমিনকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।এস.আর 

জামালপুরে পশুর হাটে মহিষের আক্রমণ, দুইজনের মৃত্যু

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ী কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আকস্মিক আক্রমণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে রোববার (২৪ মে)। ওইদিন হাটে বিক্রির জন্য আনা একটি মহিষ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর এটি হাটের ভেতরে ছোটাছুটি শুরু করে এবং সামনে থাকা লোকজনকে আক্রমণ করে। এতে হাটে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, মানুষজন নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন।এ সময় কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার জাউনিয়ার কড়াইডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় রুহুল আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।একই ঘটনায় আহত মজিবুর রহমানকে প্রথমে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার (২৫ মে) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।মৃত মজিবুর রহমান সানন্দবাড়ী এলাকার চর মাদার গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। অন্যদিকে রুহুল আমিন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বাসিন্দা। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, মহিষের আকস্মিক আক্রমণে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।এস.আর 

বরিশালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের স্বামী-স্ত্রী-সন্তান প্রাণ হারালেন

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফিরোজ মাহমুদ (৩৭), তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের শিশু কন্যা জান্নাত। স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, উজিরপুরের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজটের কারণে তারা থেমে ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির তাজ আনন্দ গ্রুপের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বাসটি ভাঙচুর করে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালক ও হেলপারকে আটক করতে অভিযান চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।এস.আর 

টাঙ্গাইলের দুর্ঘটনা: রাজেন্দ্রবাটিতে পাশাপাশি ৬ জনের দাফন সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে প্রাণ হারানো নওগাঁর একই গ্রামের ছয়জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে জানাজা শেষে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়।সকাল থেকেই গ্রামজুড়ে ছিল শোকের ভারী পরিবেশ। একের পর এক খাটিয়া আনা হয় জানাজা স্থলে। ছয়টি মরদেহ সারিবদ্ধভাবে রাখা হয় পাশাপাশি। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আশপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে আসে শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে।এর আগে সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। রাতভর পরিবহনের পর মঙ্গলবার ভোরে মরদেহগুলো রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে পৌঁছায়। পরে নিজ নিজ গ্রামেও পৃথকভাবে জানাজা শেষে অন্যান্য নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়।জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারি টিপুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নিয়ে নিহতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। একসঙ্গে একই গ্রামের ছয়জন মানুষের মৃত্যু সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি, পাকুড়িয়া ও নিয়ামতপুর এলাকার বাসিন্দারা ছিলেন। তারা সবাই ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।এস.আর 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টির কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।বুধবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে পশ্চিম আকাশে কালো মেঘ জমে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ভারি বৃষ্টি শুরু হলে দুর্ঘটনা এড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।এদিকে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে। মঙ্গলবার গভীর রাতেও ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের লাইন তৈরি হয়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ২৬টি ফেরি, ৩২টি লঞ্চ এবং ৬৭টি স্পিডবোট চলাচল করছে।

কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যের ধারায় বড় স্বপ্নে মরক্কো

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়া আফ্রিকার দলটি এবারও যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আসরে চমক দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে যাচ্ছে।২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলে মরক্কো। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা। ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা একাধিক তারকার উপস্থিতিতে দলটিকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মরক্কো। যদিও সেনেগালের বিপক্ষে বিতর্কিত ফাইনালের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাদের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়া হয়েছিল।দলের নেতৃত্বে রয়েছেন তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। পিএসজির এই ফুলব্যাকের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। স্কোয়াডে আরও আছেন ব্রাহিম দিয়াজ, সফিয়ান আমরাবাত ও নুসাইর মাজরাউইয়ের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা।২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রার অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো এবারও পোস্টের নিচে দলের ভরসা হয়ে থাকছেন।মরক্কান বংশোদ্ভূত ইউরোপিয়ান ফুটবলারদের বিশাল ভান্ডার থেকে এবারও দল গঠন করেছে মরক্কো। পিএসভির ইসমাইল সাইবারি ও স্টুটগার্টের বিলাল এল খান্নুস প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবেন। তবে নতুন কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ সফিয়ান বোফলের।আগামী ১৩ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মরক্কো।মরক্কোর ২৬ সদস্যের স্কোয়াডগোলরক্ষক: ইয়াসিন বোনো, মুনির এল কাজৌই, আহমেদ রেদা তাগনাউতি।রক্ষণভাগ: আশরাফ হাকিমি, নায়েফ আগুয়ের্দ, নুসাইর মাজরাউই, আনাস সালাহ-এদ্দিন, শাদি রিয়াদ, ইউসুফ বেলামারি, ইসা দিয়প, রেদোয়ান হাহলাল, জাকারিয়া এল ওয়াহদি।মিডফিল্ডার: সফিয়ান আমরাবাত, ইসমাইল সাইবারি, নিল এল আয়নাউই, বিলাল এল খান্নুস, আজ্জেদিন ওনাহি, বুয়াদ্দি, সামির এল মুরাবেত। ফরোয়ার্ড: ব্রাহিম দিয়াজ, শেমসদ্দিন তালবি, আইয়ুব এল কাবি, সৌফিয়ান রহিমি, আব্দে এজ্জালজৌলি, আয়ুবে আমাইমৌনি, ইয়াসিন গেসিমে।

ঈদের আনন্দে সচেতনতার ছোঁয়া, দেবীগঞ্জে ব্যতিক্রমী মেহেদী উৎসব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মেহেদী উৎসব। ঈদুল আযহাকে ঘিরে আয়োজিত এ উৎসব স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও সাড়া ফেলেছে।বুধবার (২৭ মে) সকালে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।আয়োজকরা জানান, ঈদের আনন্দঘন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দেবীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও তরুণীরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে প্রায় ২০ জন মেহেদী শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। সারাদিনে পাঁচ শতাধিক নারী ও শিশু মেহেদির রঙে নিজেদের হাত রাঙান। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।মেহেদী শিল্পী রাহা মেহজাবিন বলেন, “প্রথমবারের মতো এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া উচিত।”এক শিক্ষার্থী জানান, “ঈদের আগের আনন্দকে এই আয়োজন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই মিলে খুব সুন্দর সময় কাটিয়েছি।”আয়োজকদের অন্যতম ওয়াসিস আলম বলেন, “নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সমাজে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতেই আমাদের এই উদ্যোগ। নারীদের অংশগ্রহণমূলক আয়োজন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।”অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ১০ জন সেরা মেহেদী ডিজাইনারকে পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

লালাবাজারে ইউকে-বাংলার ফ্রি সেমিনারের সফল সমাপ্তি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারস্থ ল্যান্ডমার্ক শপিং কমপ্লেক্সে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার ফল প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ফ্রি ক্যারিয়ার সেমিনার। গতকাল রোববার (২৪ মে) আয়োজিত এ সেমিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার সুরমান আলী। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাছুম রানা। শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ফ্যাকাল্টি মেম্বার জিয়াউর রহমান।সেমিনারে বক্তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে শুধু ভালো ফলাফল নয়, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল একটি কম্পিউটার উপহার। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজন সৌভাগ্যবান শিক্ষার্থী কম্পিউটারটি জিতে নেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছালেহা নূর চৌধুরী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফালাকুজ্জামান জগলু, ল্যান্ডমার্ক শপিং কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়রুল আফিয়ান চৌধুরী, ইউকে-বাংলা লালাবাজার ব্রাঞ্চের সিইও আবু বকর, প্রজেক্ট ডিরেক্টর তজমুল হোসাইন, ফুয়াদ আহমদ, আমির আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এস.আর 

দুপুরের মধ্যে ৭ অঞ্চলে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

দেশের সাত অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

রংপুরে এক মাসে বিশেষ অভিযানে ৪৪২ জন গ্রেফতার

রংপুর মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক মাসে ৪৪২ জনকে গ্রেফতার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে ওয়ারেন্টভুক্ত, মাদক মামলার আসামি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতরা রয়েছেন।মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীতে পুলিশিং কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ১১০ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৮৭ জন মাদক মামলার আসামি এবং ২৪৫ জন বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে মোট গ্রেফতার দাঁড়ায় ৪৪২ জনে।অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৮ কেজি গাঁজা, ১,৪৭৫ পিস ইয়াবা, ৮৮ বোতল ফেনসিডিল, ৩.২ গ্রাম হেরোইন, ২৫টি ইনজেকশন এবং ৩১ লিটার চোলাই মদ।কমিশনার আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। তিনি এ কাজে স্থানীয় জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক মাস আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিশেষ অভিযান কার্যক্রম জোরদার করেন।এস.আর 

ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু: মর্মান্তিক ঘটনায় জমিয়তের শোক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক উল্টে ১৫ জনের প্রাণহানি এবং বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।সোমবার (২৫ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষের আনন্দঘন যাত্রা এমন দুর্ঘটনায় রূপ নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। নেতারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।তারা আরও বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।এ ছাড়া ট্রাকসহ ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাতায়াত এড়িয়ে চলা, নিরাপদ পরিবহন ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন নেতারা। বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানায় সংগঠনটি।এস.আর 

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ: ইসলামের প্রথম বিজয় স্মরণে

আজ ১৭ রমজান, ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন—ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ, মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ বদর যুদ্ধ।বদর যুদ্ধে ৩১৩ জন সাহাবি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুসলিমরা তৎকালীন সময়ের আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মক্কার কাফের-মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিমদের এই বিজয় সম্ভব হয়েছিল।ঐতিহাসিক হিসেবে জানা যায়, মুসলিমদের মধ্যে ১৪ জন সাহাবি শহীদ হন। কাফেরদের মধ্যে ৭০ জন নিহত ও ৭০ জন বন্দি হন। মুসলিমদের এই অভাবনীয় বিজয় ইসলামের বিজয়ের সূচনা হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত।প্রতি বছর ১৭ রমজান বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বদর দিবস হিসেবে, মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি মহান আল্লাহর সাহায্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা স্মরণ করার দিন।

আরাফার ময়দানই হজের প্রাণ, অনুপস্থিতিতে হজ অসম্পূর্ণ

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক রোকন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। শরিয়াহ অনুযায়ী, ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে উপস্থিত না হলে হজ আদায় হয় না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯)ফিকহবিদদের সর্বসম্মত মতে, ৯ জিলহজ দুপুরের পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা হজের ফরজ অংশ। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া ও ফতোয়ায়ে আলমগিরি অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য হলেও আরাফার সীমানায় উপস্থিত থাকলে ফরজ আদায় হয়ে যায়। এমনকি কেউ রাতের বেলায় পৌঁছালেও তার হজ সহিহ হবে।তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব। বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (স.) জোহরের পর আরাফায় অবস্থান করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থাকেন, এরপর মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)। এই বিধান অমান্য করে সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করলে দম বা কোরবানি ওয়াজিব হয় বলে ফতোয়ায়ে শামিতে উল্লেখ রয়েছে।আরাফার দিনকে হাদিসে সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)। এ সময় হাজিদের জন্য তাওবা, ইস্তেগফার ও দোয়াই প্রধান আমল।হাদিসে আরও বলা হয়েছে, আরাফার দিনের দোয়া সর্বোত্তম দোয়া। এ দিনে রাসুলুল্লাহ (স.) যে জিকির বেশি পড়তেন তা হলো: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…”।হাজিদের জন্য এ দিনটি কোরআন তেলাওয়াত, তালবিয়া, তাসবিহ-তাহলিল ও দরুদ শরিফে কাটানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। একই সঙ্গে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করার নির্দেশনাও রয়েছে।আরাফার দিন মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। এরপর জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে (জমে তাকদিম) আদায় করা সুন্নত। তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারেন না, তারা নিজ নিজ স্থানে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করবেন।আলেমদের মতে, এই সময় অহেতুক কথাবার্তা, ছবি তোলা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় না করে পুরো সময় ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ আরাফার ময়দান কিয়ামতের হাশরের দৃশ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়—যেখানে সবাই একই পোশাকে, একই সমতলে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। আল্লাহ তাআলা যেন সকল হাজির হজ কবুল করেন, তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমিন।এস.আর 

আরাফার রোজা নিয়ে বিভ্রান্তি নয়, বাংলাদেশে তা আগামীকাল

মধ্যপ্রাচ্যে আজ আরাফাহ দিবস পালিত হওয়ায় অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে—আরাফার রোজা আজই রাখতে হবে কি না। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল বুধবার (২৭ মে) ৯ জিলহজ হওয়ায় এখানকার মুসলমানদের জন্য আরাফার রোজা হবে সেই দিনই। ইসলামি স্কলারদের মতে, ইয়াওমে আরাফা কোনো স্থানভিত্তিক নয়, বরং এটি জিলহজ মাসের ৯ তারিখকে নির্দেশ করে। তাই প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব চাঁদ দেখা অনুযায়ী তারিখ গণনা করাই শরিয়তসম্মত বলে ফিকহবিদরা মত দিয়েছেন। হাদিস ও ফিকহগ্রন্থে এসেছে, ভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানরা নিজ নিজ চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই রোজা, ঈদসহ ধর্মীয় বিধান পালন করবেন। এ কারণে সৌদি আরবের তারিখের সঙ্গে সরাসরি মিল না হলেও স্থানীয় তারিখ অনুযায়ীই আরাফার রোজা নির্ধারিত হবে। আরাফার দিনের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, এই দিনে রোজা রাখলে আল্লাহ তায়ালা এক বছরের আগের ও পরের গুনাহ মাফ করে দেন। এছাড়া এটি এমন একটি দিন, যেদিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন বলেও বর্ণিত হয়েছে। আলেমরা বলেন, এ দিনের মূল আমল হলো রোজার পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া, জিকির, তওবা-ইস্তেগফার ও ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া। যারা আজ রোজা রাখতে পারেননি, তারা হতাশ না হয়ে আগামীকাল রোজা পালনের নিয়ত করতে পারেন—কারণ এই দিনের সুযোগ হাতছাড়া না করাই মূল বিষয়।এস.আর 

কুরবানী শুধু পশু জবাই নয়, আত্মত্যাগ ও তাকওয়ার শিক্ষা-ড. মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। কুরবানী কেবল পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এক মহিমান্বিত ইবাদত।শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট নিয়মে কিছু চতুষ্পদ প্রাণী জবাই করাকেই কুরবানী বলা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, মানুষ যেন নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করে এবং তিনি যে গৃহপালিত পশু দান করেছেন তা থেকে আহার করে ও অসহায়-দরিদ্রদের আহার করায়।সূরা হাজ্জের ৩৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত তাঁর কাছে পৌঁছে না; বরং পৌঁছে মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি। অর্থাৎ কুরবানির মূল উদ্দেশ্য বাহ্যিক আয়োজন নয়, বরং অন্তরের আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি।ইসলামে কিছু পশুকে কুরবানির জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে দেব-দেবীর নামে উৎসর্গ করা বা বিশেষ কুসংস্কারের সঙ্গে জড়িত ‘বহিরা’, ‘সায়েবা’, ‘ওয়াছিলা’ ও ‘হ্যাম’ ধরনের পশু কুরবানির উপযোগী নয়।কুরবানির সময় ও নিয়মইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানী করা যায়। তবে প্রথম দিন কুরবানী করা উত্তম। ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে না। রাতের বেলায় কুরবানী করাকে মাকরুহ বলা হয়েছে।শরীকী কুরবানির ক্ষেত্রে সকল অংশীদারের নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি। কারও উপার্জন হারাম হলে বা কেউ শুধু গোশত ভক্ষণ করার উদ্দেশ্যে শরীক হলে কারও কুরবানীই সহীহ হবে না। একই সঙ্গে প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে এবং গোশত পাল্লা দিয়ে মেপে বণ্টন করতে হবে।আলেমরা বলেন, একটি বড় পশুর সাত ভাগের এক ভাগকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা বৈধ নয়। কারণ এতে সাত ভাগের পরিবর্তে আট ভাগ হয়ে যায়, যা শরীয়তসম্মত নয়।কার ওপর কুরবানী ওয়াজিবযে ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিংবা যার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব, তার ওপর কুরবানী করাও ওয়াজিব। কুরবানী আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ইবাদত। হাদিসে এসেছে, কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে বান্দা একটি করে নেকি লাভ করে।কুরবানির জন্য উপযুক্ত পশুহাদিস অনুযায়ী, উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু বা মহিষের দুই বছর এবং ছাগল বা ভেড়ার এক বছর হতে হবে। তবে দুম্বা ছয় মাসের হলেও চলবে যদি তা দেখতে এক বছরের মতো হয়।কুরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত। স্পষ্ট কানা, গুরুতর অসুস্থ, খোঁড়া বা অতিরিক্ত দুর্বল পশু কুরবানির জন্য বৈধ নয়। একইভাবে কান কাটা, শিং গোড়া থেকে উপড়ানো কিংবা চলাফেরায় অক্ষম পশুও কুরবানির অনুপযোগী।গোশত বণ্টন ও সংরক্ষণইসলামে কুরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং অপর ভাগ দরিদ্রদের জন্য রাখা উত্তম। তবে সম্পূর্ণ গোশত নিজে রেখে দিলেও কুরবানী সহীহ হবে, যদিও তা অনুচিত বলে উল্লেখ করেছেন আলেমরা।রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমরা খাও, সদকা করো এবং কিছু সংরক্ষণ করো।” অর্থাৎ কুরবানির মাধ্যমে যেমন নিজের পরিবার উপকৃত হবে, তেমনি সমাজের অসহায় মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে হবে।পেটে বাচ্চা থাকা পশু সম্পর্কে বিধানহাদিসে এসেছে, যদি কুরবানির পশুর পেটে বাচ্চা থাকে তবে মায়ের জবাইয়ের সঙ্গে বাচ্চার জবাইও হয়ে যায়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, জবাইয়ের পর জীবিত বাচ্চা পাওয়া গেলে সেটিকে আলাদাভাবে জবাই করে খাওয়া বৈধ। মৃত পাওয়া গেলে তা না খাওয়াই উত্তম।কুরবানির শিক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মানুষের হৃদয়ে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আল্লাহভীতির চেতনা জাগ্রত করে। তাই কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাসের সঙ্গে এই ইবাদত পালন করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের কুরবানী কবুল করুন। আমিন। লেখক: ড. মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন শিক্ষক, গবেষক ও প্রিন্সিপাল শহীদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কামারপাড়া, তুরাগ, উত্তরা, ঢাকা।

মিনার আমল: আজান ও ইকামতের প্রচলিত বিধান

হজের দিনগুলোতে মিনায় নামাজ আদায়ের সময় আজান ও ইকামত নিয়ে অনেক হাজির মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। বিশেষ করে আরাফা ও মুজদালিফার বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলার কারণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী মিনার আমল আলাদা এবং সুস্পষ্ট।প্রতিটি নামাজের জন্য আলাদা আজান ও ইকামতমিনায় জোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজর—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়েই পৃথকভাবে আদায় করা হয়। এখানে নামাজ একত্রে পড়ার বিধান নেই। ফলে জামাতে প্রতিটি ফরজ নামাজের আগে আলাদা আজান ও ইকামত দেওয়া সুন্নত হিসেবে প্রচলিত।হাদিসে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) মিনায় অবস্থানকালে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ স্বাভাবিক নিয়মেই আদায় করেছেন (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)।আরাফা ও মুজদালিফার সঙ্গে পার্থক্যআরাফায় জোহর ও আছর একত্রে এবং মুজদালিফায় মাগরিব ও এশা একসঙ্গে আদায় করা হয়। এসব ক্ষেত্রে একটি আজান ও দুইটি ইকামত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে মিনায় এই বিধান প্রযোজ্য নয়। অধিকাংশ ফিকহবিদের মতে, এখানে প্রতিটি নামাজ আলাদা হওয়ায় আলাদা আজান-ইকামতই অনুসরণযোগ্য।কেন্দ্রীয় আজানের বিধানমিনায় মসজিদুল খাইফ থেকে সাধারণত কেন্দ্রীয়ভাবে আজান দেওয়া হয়। এই আজান শোনা গেলে পুনরায় আজান দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবে আলাদা করে দেওয়া মুস্তাহাব হিসেবে বিবেচিত হয়। ইকামত প্রতিটি জামাতের জন্য আলাদাভাবে দেওয়া সুন্নত।কসর নামাজেও একই নিয়মমিনায় চার রাকাতের ফরজ নামাজ কসর করে দুই রাকাত আদায় করা হয়। তবে আজান ও ইকামতের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন নেই—পূর্ণ নিয়মেই তা পালন করতে হবে।সারকথা মিনায় প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজ আলাদাভাবে আদায় করা হয়, তাই প্রতিটি নামাজের জন্য পৃথক আজান ও ইকামতই সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি। আরাফা ও মুজদালিফার বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়। কেন্দ্রীয় আজান শোনা গেলেও আলাদা ইকামত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।এস.আর