সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামে আলোচিত শাহ আলম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব বিরোধের জেরে একটি মহল মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার।সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরের একটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বদরুল আলম (উরফে তৈমুছ আলী)-এর ছেলে রেজাউল করিম।লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাকে এবং তার পরিবারকে টার্গেট করে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করে আসছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে এতদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতেও সাহস পাননি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল প্রতাবপুরে হানিফ শাহ চিশতী (রহ.) মাজারের খাদেম শাহ আলমকে কুড়াল দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রামপাশা ইউনিয়নের ধলীপাড়া গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে মিজানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে। ওই মামলায় তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবেও রয়েছেন।রেজাউল করিমের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র মামলা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। তারা নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। একই চক্র তার কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।তিনি আরও বলেন, গত ২৪ এপ্রিল শাহ আলম হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত একটি মানববন্ধনে তার পিতা বদরুল আলমের ছবি ব্যবহার করে গলায় ফাঁসির দড়ি প্রদর্শন করা হয়, যা তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার একটি অপচেষ্টা। এ ঘটনায় তারা মানসিকভাবে চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।রেজাউল করিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।