ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মুকসুদপুরে এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি



মুকসুদপুরে এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
ছবি : মুকসুদপুরে এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে খালি থাকায় ভূমি সংক্রান্ত নানা সেবা কার্যত ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জমা পড়া অন্তত দেড় হাজার নামজারি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা হস্তান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে আছে। ফলে আর্থিক লেনদেনেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা যায়, মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর থেকে নামজারি ছাড়াও আদালত সংশ্লিষ্ট মামলা, মিসকেসসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে জট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে এসব কাজ যথাসময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। অনেকেই জমি ক্রয়ের পরও নামজারি সম্পন্ন করতে না পারায় আইনি জটিলতায় পড়ছেন। জিনাত হোসেন ও সুজন শেখসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন আগে জমি কিনলেও নামজারি না হওয়ায় তারা জমির পূর্ণ মালিকানা ভোগ করতে পারছেন না। বারবার অফিসে গিয়ে শুধুই আশ্বাস পাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক নজরদারিও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটার কার্যক্রম বেড়ে গেছে। নিয়মিত বাজার তদারকি ও আইনগত পদক্ষেপের অভাবে এসব অনিয়ম আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই, বরং সীমিত পরিসরে তা চালু রয়েছে। তবে বর্তমানে তাকে পৌরসভাসহ একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যার কারণে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাও অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


মুকসুদপুরে এসিল্যান্ড না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে খালি থাকায় ভূমি সংক্রান্ত নানা সেবা কার্যত ধীরগতিতে চলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে জমা পড়া অন্তত দেড় হাজার নামজারি আবেদন এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা হস্তান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে আছে। ফলে আর্থিক লেনদেনেও স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জানা যায়, মুকসুদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল হাসনাত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। এরপর থেকে নামজারি ছাড়াও আদালত সংশ্লিষ্ট মামলা, মিসকেসসহ বিভিন্ন ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে জট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে এসব কাজ যথাসময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। অনেকেই জমি ক্রয়ের পরও নামজারি সম্পন্ন করতে না পারায় আইনি জটিলতায় পড়ছেন। জিনাত হোসেন ও সুজন শেখসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন আগে জমি কিনলেও নামজারি না হওয়ায় তারা জমির পূর্ণ মালিকানা ভোগ করতে পারছেন না। বারবার অফিসে গিয়ে শুধুই আশ্বাস পাচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক নজরদারিও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সুযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি কাটার কার্যক্রম বেড়ে গেছে। নিয়মিত বাজার তদারকি ও আইনগত পদক্ষেপের অভাবে এসব অনিয়ম আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চেয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, নামজারি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ নেই, বরং সীমিত পরিসরে তা চালু রয়েছে। তবে বর্তমানে তাকে পৌরসভাসহ একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যার কারণে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল বাজার মনিটরিং এবং অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাও অব্যাহত রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জনগণের ভোগান্তি কমাতে তিনি নিজ উদ্যোগে নামজারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ