ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরনো প্রশ্নপত্র বিতরণ, তদন্ত কমিটি গঠন ও ৫ জনকে অব্যাহতি



শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরনো প্রশ্নপত্র বিতরণ, তদন্ত কমিটি গঠন ও ৫ জনকে অব্যাহতি
ছবি : প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দাখিল গণিত পরীক্ষায় নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থীদের ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচজনকে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার এবং শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন। কমিটিকে ঘটনার কারণ উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের হল সুপার হায়দার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদকে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল গণিত পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘি মাদ্রাসার ১৩ জন, চকসাদি মাদ্রাসার ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নতুন সিলেবাসের নিয়মিত পরীক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর পর তাদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি শুরুতে কেউ বুঝতে না পারায় তারা ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। বাড়ি ফিরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পরিবার ও প্রতিষ্ঠানে জানান। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরে বিষয়টি জানার পর তিনি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


শেরপুরে দাখিল গণিত পরীক্ষায় পুরনো প্রশ্নপত্র বিতরণ, তদন্ত কমিটি গঠন ও ৫ জনকে অব্যাহতি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দাখিল গণিত পরীক্ষায় নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থীদের ভুলবশত পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পাঁচজনকে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার এবং শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন। কমিটিকে ঘটনার কারণ উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রের হল সুপার হায়দার আলী এবং কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদকে পরীক্ষার সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত রোববার শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল গণিত পরীক্ষা দেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, রাজারদীঘি মাদ্রাসার ১৩ জন, চকসাদি মাদ্রাসার ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মাদ্রাসার ৩ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নতুন সিলেবাসের নিয়মিত পরীক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর পর তাদের হাতে ভুলবশত ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি শুরুতে কেউ বুঝতে না পারায় তারা ওই প্রশ্নেই পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং পরে কেন্দ্র ত্যাগ করেন। বাড়ি ফিরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা পরিবার ও প্রতিষ্ঠানে জানান। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা।

কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরে বিষয়টি জানার পর তিনি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “শিক্ষার্থীরা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ