ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায়, নৈতিকতা থেকে সরে যাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায়, নৈতিকতা থেকে সরে যাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নৈতিকতা থেকে সরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতায় ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই দায়িত্বশীল আচরণের বদলে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে, যা উদ্বেগজনক।

রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন এমন একটি সময় চলছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে অনেকে উদ্দেশ্যহীন ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। অনেক সময় এসব মন্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকে না, তবুও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা শালীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, শিক্ষার্থী পরিচয়ে থাকা অনেকেও শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়েও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না।

মন্ত্রী বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু সেই তরুণ সমাজ যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তাহলে জাতীয় অগ্রগতির বড় সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি আমাদের তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারছি? আমরা কি তাদের দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? নাকি এমন এক পরিবেশ তৈরি করছি, যেখানে জনপ্রিয়তা অর্জনই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্ববোধ গড়ে তোলার ওপরও জোর দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজকে এ ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়েও কথা বলেন। তার মতে, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না। ফলে দেশীয় উদ্ভাবনের স্বীকৃতি অনেক সময় বিদেশে চলে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক উদ্ভাবন, ব্র্যান্ড বা সৃজনশীল ধারণা বিদেশে গিয়ে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে। অথচ নিজ দেশে সেগুলো সময়মতো সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং সচেতনতার অভাব এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও আধুনিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় আরও সক্রিয় হতে হবে এবং নতুন ধারণাকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে, তবে এর অপব্যবহারও বাড়ছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা, ডিজিটাল নৈতিকতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গবেষণা-উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নয়ন, পেটেন্ট নিবন্ধন সহজীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

#আর

বিষয় : শিক্ষার্থী ভাইরাল

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায়, নৈতিকতা থেকে সরে যাচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নৈতিকতা থেকে সরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতায় ঝুঁকছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই দায়িত্বশীল আচরণের বদলে দ্রুত পরিচিতি পাওয়ার সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে, যা উদ্বেগজনক।

রোববার রাজধানীতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন এমন একটি সময় চলছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে অনেকে উদ্দেশ্যহীন ও অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। অনেক সময় এসব মন্তব্যের কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকে না, তবুও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে এমন ভাষা ব্যবহার করেন, যা শালীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, শিক্ষার্থী পরিচয়ে থাকা অনেকেও শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়েও অশালীন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছে না।

মন্ত্রী বলেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু সেই তরুণ সমাজ যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তাহলে জাতীয় অগ্রগতির বড় সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি আমাদের তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারছি? আমরা কি তাদের দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? নাকি এমন এক পরিবেশ তৈরি করছি, যেখানে জনপ্রিয়তা অর্জনই একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, নৈতিকতা, শিষ্টাচার, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্ববোধ গড়ে তোলার ওপরও জোর দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজকে এ ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের মেধাস্বত্ব ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়েও কথা বলেন। তার মতে, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে না। ফলে দেশীয় উদ্ভাবনের স্বীকৃতি অনেক সময় বিদেশে চলে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অনেক উদ্ভাবন, ব্র্যান্ড বা সৃজনশীল ধারণা বিদেশে গিয়ে নিবন্ধন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে। অথচ নিজ দেশে সেগুলো সময়মতো সুরক্ষা দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং সচেতনতার অভাব এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত, কার্যকর ও আধুনিক মেধাস্বত্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় আরও সক্রিয় হতে হবে এবং নতুন ধারণাকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তরুণদের জন্য সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে, তবে এর অপব্যবহারও বাড়ছে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা, ডিজিটাল নৈতিকতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তার চর্চা বাড়ানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির কর্মকর্তারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গবেষণা-উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নয়ন, পেটেন্ট নিবন্ধন সহজীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্ভাবন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ