ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর গুজব, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর গুজব, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের দাবির কোনো বাস্তবতা নেই বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জারি করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন সব শিক্ষা বোর্ডে ফাঁস হয়েছে—এমন দাবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র এবং ২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশের কোনো কেন্দ্র থেকেই প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিন পর প্রশ্নফাঁসের খবর ছড়ানোকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতেই একটি মহল এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেও অপপ্রচার চালানো হতে পারে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এসব গুজবের সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্থ কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা চক্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা প্রশ্নফাঁসের নামে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র পরিবহন, সংরক্ষণ এবং উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিশেষ টিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোথাও প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অপপ্রচার, সন্দেহজনক তৎপরতা বা অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষাকে ঘিরে গুজব শুধু প্রশাসনিক চাপই বাড়ায় না, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয় এবং পরিবারগুলো অযথা উদ্বেগে পড়ে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

#আর

বিষয় : এসএসসি প্রশ্ন ফাঁস

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


এসএসসি প্রশ্নফাঁসের খবর গুজব, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবরকে সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এ ধরনের দাবির কোনো বাস্তবতা নেই বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জারি করা এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন সব শিক্ষা বোর্ডে ফাঁস হয়েছে—এমন দাবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র এবং ২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশের কোনো কেন্দ্র থেকেই প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিন পর প্রশ্নফাঁসের খবর ছড়ানোকে পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতেই একটি মহল এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যেও অপপ্রচার চালানো হতে পারে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত এসব গুজবের সঙ্গে মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্থ কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের নামে প্রতারণার ফাঁদে পা না দিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ দাবি করা চক্র থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা প্রশ্নফাঁসের নামে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র পরিবহন, সংরক্ষণ এবং উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিশেষ টিম এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জনগণকে অনুরোধ করেছে, কোথাও প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অপপ্রচার, সন্দেহজনক তৎপরতা বা অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে। একই সঙ্গে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষাকে ঘিরে গুজব শুধু প্রশাসনিক চাপই বাড়ায় না, শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয় এবং পরিবারগুলো অযথা উদ্বেগে পড়ে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ