সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’।
শনিবার সিলেট নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের জনগণের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া।
তিনি দাবি করেন, সিলেট বাংলাদেশের একমাত্র অঞ্চল যেখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজস্ব বর্ণমালা সমৃদ্ধ একটি ভাষা বিদ্যমান, যার নাম ‘সিলটি’ এবং যার লিপি ‘সিলটি নাগরী’ নামে পরিচিত। এই ভাষা ও লিপি নিয়ে দেশ-বিদেশে গবেষণা হয়েছে এবং অনেক গবেষক এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আরও জানান, গত ১৮ এপ্রিল তারা একই দাবিতে একটি জনসভা আয়োজনের উদ্যোগ নেন এবং এ লক্ষ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর অনুমতির জন্য আবেদন করেন।
তবে পরদিন পুলিশ কমিশনার তাদের ডেকে প্রথম দুটি দাবি- 'স্বায়ত্তশাসন' ও 'ভাষার স্বীকৃতি' -বাদ দিয়ে জনসভা করার পরামর্শ দেন। এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে সংগঠনটি প্রতিবাদ জানায় এবং শেষ পর্যন্ত জনসভা স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গণতান্ত্রিকভাবে দাবি তুলে ধরার সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। তারা বলেন, একটি অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি আদায় করা কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি নাগরিক অধিকারের অংশ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিশ্বে বহু দেশে একাধিক রাষ্ট্রভাষা বা অফিসিয়াল ভাষা বিদ্যমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও শ্রীলঙ্কার কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, এসব দেশে প্রধান ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাও সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশেও সিলেট অঞ্চলের ভাষাভাষী মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ সিলটি ভাষায় কথা বলেন।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং তাদের দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায়, তারা এই ইস্যু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উত্থাপন করতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিলটি পাঞ্চায়িতের সাধারণ সম্পাদক এম তাজ রীহান জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে তারা তাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে নতুন করে সরব হয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’।
শনিবার সিলেট নগরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন এবং সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের জনগণের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং ‘সিলটি’ ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া।
তিনি দাবি করেন, সিলেট বাংলাদেশের একমাত্র অঞ্চল যেখানে বাংলা ভাষার পাশাপাশি নিজস্ব বর্ণমালা সমৃদ্ধ একটি ভাষা বিদ্যমান, যার নাম ‘সিলটি’ এবং যার লিপি ‘সিলটি নাগরী’ নামে পরিচিত। এই ভাষা ও লিপি নিয়ে দেশ-বিদেশে গবেষণা হয়েছে এবং অনেক গবেষক এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আরও জানান, গত ১৮ এপ্রিল তারা একই দাবিতে একটি জনসভা আয়োজনের উদ্যোগ নেন এবং এ লক্ষ্যে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বরাবর অনুমতির জন্য আবেদন করেন।
তবে পরদিন পুলিশ কমিশনার তাদের ডেকে প্রথম দুটি দাবি- 'স্বায়ত্তশাসন' ও 'ভাষার স্বীকৃতি' -বাদ দিয়ে জনসভা করার পরামর্শ দেন। এই শর্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে সংগঠনটি প্রতিবাদ জানায় এবং শেষ পর্যন্ত জনসভা স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গণতান্ত্রিকভাবে দাবি তুলে ধরার সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে। তারা বলেন, একটি অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতির স্বীকৃতি আদায় করা কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি নাগরিক অধিকারের অংশ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিশ্বে বহু দেশে একাধিক রাষ্ট্রভাষা বা অফিসিয়াল ভাষা বিদ্যমান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও শ্রীলঙ্কার কথা উল্লেখ করে নেতারা বলেন, এসব দেশে প্রধান ভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাও সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশেও সিলেট অঞ্চলের ভাষাভাষী মানুষের কথা বিবেচনা করে ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব বলে তারা মনে করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ সিলটি ভাষায় কথা বলেন।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং তাদের দাবি বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায়, তারা এই ইস্যু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উত্থাপন করতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিলটি পাঞ্চায়িতের সাধারণ সম্পাদক এম তাজ রীহান জামানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে তারা তাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন