ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অনলাইন জুয়ার দেনা মেটাতে দাদীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩ জন



অনলাইন জুয়ার দেনা মেটাতে দাদীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩ জন
ছবি : অনলাইন জুয়ার দেনা মেটাতে দাদীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩ জন

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন নাতি। হেরে গিয়ে কাঁধে চেপেছিল ঋণের বোঝা। সেই দেনা মেটানোর টাকা জোগাড় করতে নিজের বৃদ্ধা দাদীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীকে নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী দাদীকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পূর্ব পালশা গ্রামে এই ঘটনায় নিহতের নাতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি উপজেলার ডুগডুগীহাটের মৃত আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে ও নিহত বৃদ্ধার আপন নাতি রাব্বি (২৯), ও উপজেলার পশ্চিম পালশা গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মশফিকুর রহমান (৩৪) এবং জেলা সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন জানান, গত ২১ এপ্রিল পূর্ব পালশা গ্রামে ওয়ালেদা খাতুনকে তাঁর নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের নাতি রাব্বি ও তাঁর বন্ধুরা অনলাইন জুয়ায় বিপুল টাকা হেরে ঋণে জর্জরিত ছিলেন। এই অভাব দূর করতেই তাঁরা চুরির পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানায়, চুরির পরিকল্পনার সময় রাব্বি তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর ফুফু বিদেশ থেকে ফেরায় দাদীর কাছে অনেক স্বর্ণালঙ্কার আছে। ফুফু দিনের বেলা দোকানে কাজ করতে যাওয়ায় দাদী বাড়িতে একা থাকেন। এমনকি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় দেখালে রাব্বি সহযোগীদের আশ্বস্ত করেছিলেন এই বলে যে, "নিজেদের মধ্যে ঘটনা হলে মিটমাট করে নেওয়া যাবে।"

হত্যার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই তিনজন ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা ওয়ালেদার হাত-পা স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে লুটপাট চালান।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সোমবার ঢাকার আশুলিয়া ও ঘোড়াঘাটের দেওগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত হার, বালা, চেইন ও কানের দুলসহ বেশ কিছু স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) মো: আলমগীর হোসেন, পিপিএম, ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


অনলাইন জুয়ার দেনা মেটাতে দাদীকে শ্বাসরোধে হত্যা, নাতিসহ গ্রেপ্তার ৩ জন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন নাতি। হেরে গিয়ে কাঁধে চেপেছিল ঋণের বোঝা। সেই দেনা মেটানোর টাকা জোগাড় করতে নিজের বৃদ্ধা দাদীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন নাতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই সহযোগীকে নিয়ে ৭৫ বছর বয়সী দাদীকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করেন।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পূর্ব পালশা গ্রামে এই ঘটনায় নিহতের নাতিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি উপজেলার ডুগডুগীহাটের মৃত আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে ও নিহত বৃদ্ধার আপন নাতি রাব্বি (২৯), ও উপজেলার পশ্চিম পালশা গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে মশফিকুর রহমান (৩৪) এবং জেলা সদরের বাহাদুর বাজার এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদা শান্ত (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন জানান, গত ২১ এপ্রিল পূর্ব পালশা গ্রামে ওয়ালেদা খাতুনকে তাঁর নিজ বাড়িতে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহতের নাতি রাব্বি ও তাঁর বন্ধুরা অনলাইন জুয়ায় বিপুল টাকা হেরে ঋণে জর্জরিত ছিলেন। এই অভাব দূর করতেই তাঁরা চুরির পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানায়, চুরির পরিকল্পনার সময় রাব্বি তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছিলেন, তাঁর ফুফু বিদেশ থেকে ফেরায় দাদীর কাছে অনেক স্বর্ণালঙ্কার আছে। ফুফু দিনের বেলা দোকানে কাজ করতে যাওয়ায় দাদী বাড়িতে একা থাকেন। এমনকি ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় দেখালে রাব্বি সহযোগীদের আশ্বস্ত করেছিলেন এই বলে যে, "নিজেদের মধ্যে ঘটনা হলে মিটমাট করে নেওয়া যাবে।"

হত্যার বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই তিনজন ঘরে ঢুকে বৃদ্ধা ওয়ালেদার হাত-পা স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে লুটপাট চালান।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল সোমবার ঢাকার আশুলিয়া ও ঘোড়াঘাটের দেওগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত হার, বালা, চেইন ও কানের দুলসহ বেশ কিছু স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ডিবি) মো: আলমগীর হোসেন, পিপিএম, ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ