কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা-এর ২ নম্বর সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন-এ ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে ছেলের মৃত্যুর মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে শোকে কাতর হয়ে মারা গেছেন মা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ উদ্দিন শাহীন (৫৩) রোববার (২৫ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে গাজীপুর-এ অবস্থানকালে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আকস্মিক এই মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।আলতাফ উদ্দিন শাহীন ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের জন্য তিনি ২০১৪ সালে স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। তার পিতা হাজী মো. মনির উদ্দিন। কটিয়াদীর রায়খলা গ্রামে তাদের পৈতৃক বাড়ি হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, দুই ছেলে এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। রোববার আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।এদিকে, ছেলের মৃত্যুর খবর ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারজুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে না পেরে রোববার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তার মা মোছা. জুবাইদা মনি (৮০)। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ছেলের প্রতি গভীর মমতা ও ভালোবাসার কারণেই তিনি এই শোক সহ্য করতে পারেননি।মৃত শাহীনের ভাই শাহ আলম জানান, তাদের মা জুবাইদা মনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শাহীন মায়ের খুব কাছের সন্তান ছিলেন এবং নিয়মিত তাকে দেখতে বাড়িতে আসতেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও গাজীপুরে অবস্থান সত্ত্বেও মায়ের প্রতি তার টান ছিল প্রবল। সেই নাড়ির টানই হয়তো শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।২ নম্বর সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মহরম বলেন, ছেলের মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মায়ের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের মা ও ছেলের এমন পরপর মৃত্যু সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিরল ঘটনা। সব মিলিয়ে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু একটি পরিবারই নয়, পুরো এলাকাবাসী শোকাহত হয়ে পড়েছে। মা-ছেলের গভীর সম্পর্কের এই করুণ পরিণতি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে এবং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনা আলোচিত হয়ে থাকবে।