ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অর্থনীতি

চিনিতে লোকসান, ডিস্টিলারি ইউনিটের আয়ে রেকর্ড মুনাফা অর্জন

চিনি উৎপাদনে ধারাবাহিক লোকসান থাকলেও অন্যান্য ইউনিটের আয়ে সামগ্রিকভাবে রেকর্ড মুনাফা করেছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।এই মুনাফা প্রতিষ্ঠানটির আগের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।কেরুর সামগ্রিক মুনাফায় সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা লাভের হিসাব দেখানো হয়েছে। একই সময়ে বায়ো-ফার্টিলাইজার ইউনিটে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার, বাণিজ্যিক খামারে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪ হাজার, আকন্দবাড়িয়া ইউনিটে ৭ লাখ ৬২ হাজার এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিটে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।অন্যদিকে চিনি কারখানায় লোকসানের ধারাবাহিকতা এখনো কাটেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্ভাব্য হিসাবে এই ইউনিটে লোকসানের পরিমাণ ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আগের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে চিনি বিভাগে লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা ছিল ১১২ কোটি ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা। ওই বছর চিনি শিল্পে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ফলে দুই অর্থবছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ১১২ কোটি থেকে বেড়ে ১৬৫ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।কেরুর মুনাফার এই ঊর্ধ্বগতির বিপরীতে চিনি কারখানার দীর্ঘদিনের লোকসান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরোনো যন্ত্রপাতি, আখের মান, কম রিকভারি রেটসহ বিভিন্ন কারণে চিনি উৎপাদনে ব্যয় ও লোকসান বেশি হচ্ছে। তবে ডিস্টিলারি ও অন্যান্য উপজাতনির্ভর ইউনিটের আয় সেই ঘাটতি পূরণ করে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফাকে শক্তিশালী করছে।১৯৩৮ সালে দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি ও ডিস্টিলারি কারখানার যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে দৈনিক ১ হাজার টন আখ মাড়াই এবং ১৮ হাজার প্রুফ লিটার স্পিরিট উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল প্রতিষ্ঠানটির। সময়ের সঙ্গে চিনি, ডিস্টিলারি, ওষুধ, কৃষি খামার ও জৈবসারসহ বিভিন্ন ইউনিট যুক্ত হয়ে এটি বড় একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বির হাসান বলেন, আগের বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ইউনিট থেকে বেশি মুনাফা এসেছে। একই সঙ্গে চিনি শিল্পের লোকসানও কিছুটা কমেছে। ভবিষ্যতে চিনি বিভাগের লোকসান আরও কমিয়ে সামগ্রিক মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।

চিনিতে লোকসান, ডিস্টিলারি ইউনিটের আয়ে রেকর্ড মুনাফা অর্জন