ফরিদপুর সদর উপজেলায় নৃশংস এক ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডে গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (রাত আনুমানিক ৯টা) কোতোয়ালী থানার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদারডাঙ্গী গ্রামে কোদাল দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে হঠাৎ করেই এ হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত আকাশ (২৮) কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই উপস্থিত লোকজনের ওপর কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। তার আকস্মিক ও উন্মত্ত হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) এবং কাবুল (৪৫)।
এ সময় গুরুতর আহত হন রিয়াজ মোল্লা (৪৫)। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন আচরণ করে আসছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন ভয়াবহ হামলা চালালেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এদিকে, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গদারডাঙ্গী গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাটি ভারী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুর সদর উপজেলায় নৃশংস এক ত্রিমুখী হত্যাকাণ্ডে গভীর আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (রাত আনুমানিক ৯টা) কোতোয়ালী থানার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদারডাঙ্গী গ্রামে কোদাল দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে হঠাৎ করেই এ হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত আকাশ (২৮) কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই উপস্থিত লোকজনের ওপর কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। তার আকস্মিক ও উন্মত্ত হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) এবং কাবুল (৪৫)।
এ সময় গুরুতর আহত হন রিয়াজ মোল্লা (৪৫)। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন আচরণ করে আসছিলেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন ভয়াবহ হামলা চালালেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এদিকে, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গদারডাঙ্গী গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাটি ভারী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন