ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই জমে উঠেছে মৌসুমি শ্রমিকের হাট। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে এবং ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন বিকেল হলেই ভিড় করছেন শত শত শ্রমিক। কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী দরদাম ঠিক করে এসব শ্রমিককে নিয়ে যাচ্ছেন ধান কাটার কাজে।
স্থানীয়দের মতে, এ সময়টায় শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় একটি অস্থায়ী শ্রমবাজার, যা এখন ‘শ্রমিকের হাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এখানে জড়ো হন কাজের আশায়।
বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। চাহিদা বেশি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এই মজুরি আরও বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের মতে, শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে শ্রম কিনতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় চা বিক্রেতা জলিল জানান, বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। তখন নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা ত্রিশালে এসে কাজ করেন। বিকেল হলেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ও মহাসড়কের পাশে তাদের ভিড় জমে।
কৃষক এমদাদুল হক বলেন, তিনি তার ধান কাটার জন্য পাঁচজন শ্রমিক নিয়েছেন। তার মতে, মৌসুম শুরু হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেছে। অন্যদিকে মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক শরাফ উদ্দিন জানান, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে, তাই তিনি চারজন শ্রমিক নিয়েছেন।
শ্রম বিক্রি করতে আসা শ্রমিক কালাম ও মঈন জানান, বছরের এই সময়টায় তারা তুলনামূলক ভালো মজুরি পান। তবে মৌসুম শেষ হলে কাজের চাপ কমে যায় এবং আয়ও কমে আসে। তাদের আশা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের মতে, বোরো মৌসুমে বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের কারণে শ্রমের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো কম। ফলে প্রতিদিনই এই শ্রমিক হাট আরও জমজমাট হয়ে উঠছে এবং এটি ত্রিশালের একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হতেই জমে উঠেছে মৌসুমি শ্রমিকের হাট। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে এবং ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন বিকেল হলেই ভিড় করছেন শত শত শ্রমিক। কৃষকরা প্রয়োজন অনুযায়ী দরদাম ঠিক করে এসব শ্রমিককে নিয়ে যাচ্ছেন ধান কাটার কাজে।
স্থানীয়দের মতে, এ সময়টায় শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় একটি অস্থায়ী শ্রমবাজার, যা এখন ‘শ্রমিকের হাট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এখানে জড়ো হন কাজের আশায়।
বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। চাহিদা বেশি থাকায় অনেক ক্ষেত্রে এই মজুরি আরও বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকদের মতে, শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটা নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে শ্রম কিনতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় চা বিক্রেতা জলিল জানান, বোরো মৌসুমে শ্রমিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। তখন নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা ত্রিশালে এসে কাজ করেন। বিকেল হলেই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে ও মহাসড়কের পাশে তাদের ভিড় জমে।
কৃষক এমদাদুল হক বলেন, তিনি তার ধান কাটার জন্য পাঁচজন শ্রমিক নিয়েছেন। তার মতে, মৌসুম শুরু হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেছে। অন্যদিকে মোক্ষপুর ইউনিয়নের কৃষক শরাফ উদ্দিন জানান, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা ও ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় দ্রুত ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে, তাই তিনি চারজন শ্রমিক নিয়েছেন।
শ্রম বিক্রি করতে আসা শ্রমিক কালাম ও মঈন জানান, বছরের এই সময়টায় তারা তুলনামূলক ভালো মজুরি পান। তবে মৌসুম শেষ হলে কাজের চাপ কমে যায় এবং আয়ও কমে আসে। তাদের আশা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয়দের মতে, বোরো মৌসুমে বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের কারণে শ্রমের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো কম। ফলে প্রতিদিনই এই শ্রমিক হাট আরও জমজমাট হয়ে উঠছে এবং এটি ত্রিশালের একটি মৌসুমি অর্থনৈতিক চিত্রে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন