ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে “বাংলাদেশে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও বীমা খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যাংকার ও ইসলামী স্কলাররা অংশ নেন।

সেমিনারটি এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রথমবারের মতো ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে স্বল্প খরচে মানসম্মত বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করেছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও শরিয়াহ পরামর্শক মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো, সুদবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ কে এম ইকবাল আজিম। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ধারার বিস্তার হলেও দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই ঘাটতি পূরণে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জনাব আবুল কাসেম হায়দার। তিনি বলেন, ইসলামী ফাইন্যান্স কেবল একটি ধর্মীয় ধারণা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও টেকসই অর্থনৈতিক মডেল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ড. (মুফতি) ইউসুফ সুলতান, যিনি মালয়েশিয়াভিত্তিক এডিএল অ্যাডভাইজরির ফাউন্ডার ও সিইও এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার।

এছাড়া বক্তব্য দেন ড. কে. এম. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ফাইন্যান্সের সহকারী প্রোগ্রাম পরিচালক; মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট; এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান। তাঁরা বলেন, ইসলামী ফাইন্যান্স খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ছিলেন মুফতি আহসানুল ইসলাম, মুফতি সাজ্জাদুর রহমান, মুফতি আব্দুল মালেক এবং মুফতি তাওহিদুল ইসলাম। তাঁরা ইসলামী অর্থনীতির নৈতিক ভিত্তি ও সমাজে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাত ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক গবেষণা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ।

সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও নেটওয়ার্কিংয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিষয় : ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে “বাংলাদেশে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোতে ইসলামী অর্থনীতি, ব্যাংকিং ও বীমা খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে শিক্ষাবিদ, গবেষক, ব্যাংকার ও ইসলামী স্কলাররা অংশ নেন।

সেমিনারটি এমন এক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়, যখন বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বাড়ছে। এই ধারাবাহিকতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রথমবারের মতো ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিষয়ে স্বল্প খরচে মানসম্মত বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করেছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও শরিয়াহ পরামর্শক মুফতি আবদুল্লাহ মাসুম। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় ইসলামী অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো, সুদবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) প্রফেসর ড. এ কে এম ইকবাল আজিম। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ধারার বিস্তার হলেও দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই ঘাটতি পূরণে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জনাব আবুল কাসেম হায়দার। তিনি বলেন, ইসলামী ফাইন্যান্স কেবল একটি ধর্মীয় ধারণা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক ও টেকসই অর্থনৈতিক মডেল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন ড. (মুফতি) ইউসুফ সুলতান, যিনি মালয়েশিয়াভিত্তিক এডিএল অ্যাডভাইজরির ফাউন্ডার ও সিইও এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় বাজার।

এছাড়া বক্তব্য দেন ড. কে. এম. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ফাইন্যান্সের সহকারী প্রোগ্রাম পরিচালক; মো. হাবিবুর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট; এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. আবুল বাশার খান। তাঁরা বলেন, ইসলামী ফাইন্যান্স খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিনিধি, যাদের মধ্যে ছিলেন মুফতি আহসানুল ইসলাম, মুফতি সাজ্জাদুর রহমান, মুফতি আব্দুল মালেক এবং মুফতি তাওহিদুল ইসলাম। তাঁরা ইসলামী অর্থনীতির নৈতিক ভিত্তি ও সমাজে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স খাত ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল তৈরি, আধুনিক গবেষণা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ।

সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও নেটওয়ার্কিংয়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন ইসলামী অর্থনীতি বিষয়ে একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ