ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভোলায় মতবিনিময় সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

ভোলায় মতবিনিময় সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সব ধরনের প্রলোভন ও প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে জিয়া পরিবারের প্রতি তাঁর আনুগত্য থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি।

তিনি বলেন, “এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি। আমি যদি তাঁর কথা শুনতাম, তাহলে তাঁর পরেই আমার অবস্থান হতো।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর বয়স ৮০ বছর এবং এই বয়সে এসে নীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শেখ হাসিনাকে তিনি তাঁর বক্তব্যে “মাফিয়া” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দল ত্যাগের জন্য তাঁর ওপর বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে তিনি আমৃত্যু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অনুগত ছিলেন বলে জানান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপিতে তিনি অনেক সিনিয়র নেতা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পাননি। তাঁর পরে রাজনীতিতে আসা অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে গেছেন, একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া।

তবে এসব নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভোলা অঞ্চলের জনগণের সেবা করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন, আর আল্লাহ তাঁকে সেই সম্মান দিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার বলেন, তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ খুব সীমিত হলেও তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তাঁর সঙ্গে আমার জীবনে মাত্র দুই দিন কথা হয়েছে। এর বাইরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবুও তিনি আমাকে এই দায়িত্বে সম্মানিত করেছেন।”

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় স্পিকার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিষয় : রাজনীতি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


ভোলায় মতবিনিময় সভায় হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া সব ধরনের প্রলোভন ও প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বর্তমান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনা তাঁকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে জিয়া পরিবারের প্রতি তাঁর আনুগত্য থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি।

তিনি বলেন, “এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি। আমি যদি তাঁর কথা শুনতাম, তাহলে তাঁর পরেই আমার অবস্থান হতো।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর বয়স ৮০ বছর এবং এই বয়সে এসে নীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

শেখ হাসিনাকে তিনি তাঁর বক্তব্যে “মাফিয়া” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, দল ত্যাগের জন্য তাঁর ওপর বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে তিনি আমৃত্যু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি অনুগত ছিলেন বলে জানান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপিতে তিনি অনেক সিনিয়র নেতা হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পাননি। তাঁর পরে রাজনীতিতে আসা অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে গেছেন, একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া।

তবে এসব নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ভোলা অঞ্চলের জনগণের সেবা করা এবং গণতান্ত্রিকভাবে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ছিল তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন, আর আল্লাহ তাঁকে সেই সম্মান দিয়েছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার বলেন, তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ খুব সীমিত হলেও তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তাঁর সঙ্গে আমার জীবনে মাত্র দুই দিন কথা হয়েছে। এর বাইরে কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবুও তিনি আমাকে এই দায়িত্বে সম্মানিত করেছেন।”

জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় স্পিকার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ