ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সংসদে দাঁড়িয়ে নেতার সমালোচনা করতে চাই: হাসনাত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে দাঁড়িয়ে নেতার সমালোচনা করতে চাই: হাসনাত

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে সংসদের ভেতরে সরকারের পাশাপাশি সংসদ নেতারও সমালোচনা করার পরিবেশ থাকা জরুরি। তার ভাষায়, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের পাশাপাশি নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও মত প্রকাশের সুযোগ চান এবং সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতার বিরোধিতা করতে চাই, সরকারের সমালোচনা করতে চাই। আমাদের সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” তার মতে, সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে হলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ বাধাহীন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি মত প্রকাশের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মতপ্রকাশের কারণে এ পর্যন্ত ৯ জনকে বাসা থেকে তুলে আনা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক মতভিন্নতার কারণে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি তৈরি হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা বাড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তার মতে, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশকে এমন অবস্থায় নেওয়া উচিত নয় যেখানে দমননীতি ও ভয়ভীতির রাজনীতি আবার ফিরে আসে। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাউকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার প্রবণতা থেকে সরে আসা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা সহনশীলতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত। মতের ভিন্নতা থাকলেও সহিংসতা বা দমননীতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

অধিবেশনের শুরুতে বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য সমসাময়িক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠে আসে।

বিষয় : হাসনাত আবদুল্লাহ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


সংসদে দাঁড়িয়ে নেতার সমালোচনা করতে চাই: হাসনাত

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে সংসদের ভেতরে সরকারের পাশাপাশি সংসদ নেতারও সমালোচনা করার পরিবেশ থাকা জরুরি। তার ভাষায়, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের পাশাপাশি নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও মত প্রকাশের সুযোগ চান এবং সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতার বিরোধিতা করতে চাই, সরকারের সমালোচনা করতে চাই। আমাদের সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” তার মতে, সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর রাখতে হলে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ বাধাহীন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি মত প্রকাশের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মতপ্রকাশের কারণে এ পর্যন্ত ৯ জনকে বাসা থেকে তুলে আনা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক মতভিন্নতার কারণে দমন-পীড়নের সংস্কৃতি তৈরি হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা বাড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তার মতে, শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশকে এমন অবস্থায় নেওয়া উচিত নয় যেখানে দমননীতি ও ভয়ভীতির রাজনীতি আবার ফিরে আসে। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাউকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করার প্রবণতা থেকে সরে আসা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা সহনশীলতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত। মতের ভিন্নতা থাকলেও সহিংসতা বা দমননীতি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

অধিবেশনের শুরুতে বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর নিয়মিত সংসদীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিভিন্ন সংসদ সদস্য সমসাময়িক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়ে তার মন্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্নও উঠে আসে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ