ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলায় উত্তপ্ত সংসদ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলায় উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদে জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্য ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে হইচই ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, সংসদের প্রথম দিন থেকেই একটি ‘আননেসেসারি’ বা অপ্রয়োজনীয় জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই জুলাইকে কিংবা জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় বিভিন্ন আসন থেকে সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে অধিবেশন কক্ষে হইচই শুরু হয়। একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সবাইকে স্পিকারকে সম্বোধন করে কথা বলতে হবে। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং সবার অনুভূতি বা মত এক হতে পারে না।

স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। জাতীয় সংসদ এমন একটি জায়গা যেখানে বাকস্বাধীনতার ভিত্তিতে সদস্যরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তবে তা অবশ্যই সংসদীয় শালীনতা ও নিয়মের মধ্যে হতে হবে।

স্পিকার বক্তব্য দেওয়ার সময়ও কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। তখন তিনি কঠোর সুরে বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে নিজ নিজ আসনে বসে নীরব থাকতে হবে।

কিছু সময়ের উত্তেজনার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। তবে জুলাই সনদ ইস্যুতে সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতীকী ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে মন্তব্য সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করাই স্বাভাবিক।

তারা বলছেন, নতুন সংসদের শুরুতেই এমন বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক মতবিরোধের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার মতো আনুষ্ঠানিক অধিবেশনেও যখন উত্তেজনা তৈরি হয়, তখন সামনের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও নীতিনির্ধারণী বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

সব মিলিয়ে জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে এদিন জাতীয় সংসদে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিষয় : জাতীয় সংসদ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলায় উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে জুলাই সনদকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্য ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কিছু সময়ের জন্য সংসদে হইচই ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের সমালোচনা করে বলেন, সংসদের প্রথম দিন থেকেই একটি ‘আননেসেসারি’ বা অপ্রয়োজনীয় জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। সেই জুলাইকে কিংবা জুলাই সনদকে অপ্রয়োজনীয় বলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় বিভিন্ন আসন থেকে সংসদ সদস্যরা একযোগে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করলে অধিবেশন কক্ষে হইচই শুরু হয়। একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হস্তক্ষেপ করেন। তিনি সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় সবাইকে স্পিকারকে সম্বোধন করে কথা বলতে হবে। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং সবার অনুভূতি বা মত এক হতে পারে না।

স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। জাতীয় সংসদ এমন একটি জায়গা যেখানে বাকস্বাধীনতার ভিত্তিতে সদস্যরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তবে তা অবশ্যই সংসদীয় শালীনতা ও নিয়মের মধ্যে হতে হবে।

স্পিকার বক্তব্য দেওয়ার সময়ও কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন। তখন তিনি কঠোর সুরে বলেন, স্পিকার যখন কথা বলেন তখন সবাইকে নিজ নিজ আসনে বসে নীরব থাকতে হবে।

কিছু সময়ের উত্তেজনার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় এবং অধিবেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। তবে জুলাই সনদ ইস্যুতে সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ শুধু একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতীকী ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে। ফলে এ বিষয়ে মন্তব্য সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করাই স্বাভাবিক।

তারা বলছেন, নতুন সংসদের শুরুতেই এমন বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক মতবিরোধের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার মতো আনুষ্ঠানিক অধিবেশনেও যখন উত্তেজনা তৈরি হয়, তখন সামনের দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ আইন ও নীতিনির্ধারণী বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

সব মিলিয়ে জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে এদিন জাতীয় সংসদে সৃষ্ট উত্তেজনা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শক্তিগুলোর অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ