ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি নিজের পারিবারিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পথচলা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি সংসদে পৌঁছেছেন।
অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে তার আসার কথা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, তার মরহুম বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তার ভাষায়, “আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে, সেই কারণে আল্লাহর অশেষ দয়ায় আজ আমি এই মহান সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, তার জীবনের পথচলা সহজ ছিল না। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নানা বাধা ও সংকটের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালায় টানা সাত মাস বন্দি থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময়টিকে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আয়নাঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত আসা একটি দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। তিনি দাবি করেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তিনি সংসদে আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন যে গুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, সরকারের প্রতি আস্থা রাখার জন্য। তার মতে, সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করছে।
অধিবেশনের শুরুতে বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সদস্য অধিবেশনে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। তার বক্তব্যে পারিবারিক ইতিহাস, ব্যক্তিগত বন্দিত্বের অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ ভবনের ভেতরে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর আবেগঘন বক্তব্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অধিবেশনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিষয় : হুম্মাম কাদের চৌধুরী

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অংশ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি নিজের পারিবারিক ইতিহাস, রাজনৈতিক পথচলা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি সংসদে পৌঁছেছেন।
অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে তার আসার কথা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, তার মরহুম বাবা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তার ভাষায়, “আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে, সেই কারণে আল্লাহর অশেষ দয়ায় আজ আমি এই মহান সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, তার জীবনের পথচলা সহজ ছিল না। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে নানা বাধা ও সংকটের মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালায় টানা সাত মাস বন্দি থাকার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময়টিকে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আয়নাঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত আসা একটি দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা। তিনি দাবি করেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ আইন আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
তিনি সংসদে আরও বলেন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন যে গুম ও নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, সরকারের প্রতি আস্থা রাখার জন্য। তার মতে, সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কাজ করছে।
অধিবেশনের শুরুতে বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সদস্য অধিবেশনে অংশ নেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়। তার বক্তব্যে পারিবারিক ইতিহাস, ব্যক্তিগত বন্দিত্বের অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে, যা অধিবেশনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।
অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ ভবনের ভেতরে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর আবেগঘন বক্তব্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অধিবেশনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন