দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর এবারই দেশে হামের সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকার বিকল্প নেই। এ কারণে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও এখনও প্রতিদিন হাজারের বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর আসছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গ্রামে ২০ শতাংশের বেশি এবং শহরে ৩০ শতাংশের বেশি শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে। তাই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
বাংলাদেশে হাম-রুবেলা টিকা সরবরাহ করে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে চার দফায় মোট ৬২ লাখ ১৭ হাজার ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়। পরের বছর ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ডোজে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।
তবে ২০২৫ সালে টিকা সরবরাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই বছর আট মাসে ইউনিসেফ সরবরাহ করে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা। সম্পূরক টিকাদানের জন্য অতিরিক্ত ৭০ লাখ ডোজসহ মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডোজে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
ইউনিসেফের দাবি, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চাহিদার ৫০ শতাংশ টিকা এ পদ্ধতিতে কেনার পরিকল্পনার কারণে সংকট দেখা দেয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হয়েছে। এর পেছনে কর্মী সংকটসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে টিকা কেনার নিয়ম পরিবর্তনেরও দাবি জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে উন্মুক্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেই টিকা সংগ্রহ করবে সরকার।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের পর এবারই দেশে হামের সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকার বিকল্প নেই। এ কারণে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু থাকলেও এখনও প্রতিদিন হাজারের বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর আসছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গ্রামে ২০ শতাংশের বেশি এবং শহরে ৩০ শতাংশের বেশি শিশু এখনও টিকার বাইরে রয়েছে। তাই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
বাংলাদেশে হাম-রুবেলা টিকা সরবরাহ করে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে চার দফায় মোট ৬২ লাখ ১৭ হাজার ডোজ টিকা সরবরাহ করা হয়। পরের বছর ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ডোজে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম।
তবে ২০২৫ সালে টিকা সরবরাহে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়। ওই বছর আট মাসে ইউনিসেফ সরবরাহ করে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৫০০ ডোজ টিকা। সম্পূরক টিকাদানের জন্য অতিরিক্ত ৭০ লাখ ডোজসহ মোট সরবরাহ দাঁড়ায় ৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ডোজে। যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
ইউনিসেফের দাবি, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়েছিল। চাহিদার ৫০ শতাংশ টিকা এ পদ্ধতিতে কেনার পরিকল্পনার কারণে সংকট দেখা দেয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হয়েছে। এর পেছনে কর্মী সংকটসহ বিভিন্ন কারণ রয়েছে। জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে টিকা কেনার নিয়ম পরিবর্তনেরও দাবি জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে উন্মুক্ত পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেই টিকা সংগ্রহ করবে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন