সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মাহাতাব হোসেন যেন সংগ্রামের আরেক নাম। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে অভাব-অনটন, দারিদ্র্য ও জীবনের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন তিনি। জীবনের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিশ্রম, আত্মসম্মানবোধ ও সীমাহীন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।
জীবনের শুরু থেকেই মাহাতাব হোসেনকে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। সংসারের চাহিদা মেটাতে যৌবনের পুরো সময়টাই কেটেছে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। জীবনের সুন্দর সময়গুলো তিনি কাটিয়েছেন কষ্ট, ঘাম আর নিরন্তর সংগ্রামে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও থেমে যায়নি তার জীবনযুদ্ধ।
স্থানীয়দের কাছে মাহাতাব হোসেন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে পরিচিত। চরম অভাবের মধ্যেও কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি তিনি। নিজের শ্রম আর সততার ওপর ভর করেই জীবনের প্রতিটি দিন পার করেছেন। ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মানুষ তাকে একজন প্রকৃত জীবনযোদ্ধা হিসেবেই জানেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “মানুষ কতটা কষ্ট সহ্য করতে পারে, তা মাহাতাব হোসেনকে না দেখলে বোঝা যায় না। দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি যেভাবে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন মাহাতাব হোসেন। তারপরও জীবিকার তাগিদে তাকে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি প্রায়ই ভাটড়া শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করেন। সেখানে বসেই কখনো কাজের আশায় অপেক্ষা করেন, আবার কখনো কাটিয়ে দেন দিনের দীর্ঘ সময়।
নিজের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে মাহাতাব হোসেন বলেন, “আমার বেশি কিছু দরকার নাই। দুমুঠো ভাত আর মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেলেই আমি খুশি।”
এই অসহায় ও সংগ্রামী মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়গুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারতেন মাহাতাব হোসেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “আমাদের সমাজে অনেকে ছোট ছোট সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু মাহাতাব হোসেন দেখিয়েছেন, প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, মনের শক্তি, সততা ও পরিশ্রম থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যেভাবে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা আমাদের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা। উপজেলা প্রশাসন সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মানুষদের সহায়তায় সচেষ্ট রয়েছে।”
মাহাতাব হোসেনের জীবন কেবল একজন ব্যক্তির সংগ্রামের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে মানুষ আত্মসম্মান ধরে রেখে টিকে থাকতে পারে, তারই এক নীরব উদাহরণ মাহাতাব হোসেন।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মাহাতাব হোসেন যেন সংগ্রামের আরেক নাম। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে অভাব-অনটন, দারিদ্র্য ও জীবনের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছেন তিনি। জীবনের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরিশ্রম, আত্মসম্মানবোধ ও সীমাহীন ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এই সংগ্রামী মানুষটি।
জীবনের শুরু থেকেই মাহাতাব হোসেনকে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে। সংসারের চাহিদা মেটাতে যৌবনের পুরো সময়টাই কেটেছে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। জীবনের সুন্দর সময়গুলো তিনি কাটিয়েছেন কষ্ট, ঘাম আর নিরন্তর সংগ্রামে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়লেও থেমে যায়নি তার জীবনযুদ্ধ।
স্থানীয়দের কাছে মাহাতাব হোসেন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে পরিচিত। চরম অভাবের মধ্যেও কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি তিনি। নিজের শ্রম আর সততার ওপর ভর করেই জীবনের প্রতিটি দিন পার করেছেন। ভাটড়া শেখপাড়া গ্রামের মানুষ তাকে একজন প্রকৃত জীবনযোদ্ধা হিসেবেই জানেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “মানুষ কতটা কষ্ট সহ্য করতে পারে, তা মাহাতাব হোসেনকে না দেখলে বোঝা যায় না। দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি যেভাবে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন মাহাতাব হোসেন। তারপরও জীবিকার তাগিদে তাকে প্রতিদিন কাজের সন্ধানে বের হতে হয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি প্রায়ই ভাটড়া শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান করেন। সেখানে বসেই কখনো কাজের আশায় অপেক্ষা করেন, আবার কখনো কাটিয়ে দেন দিনের দীর্ঘ সময়।
নিজের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে মাহাতাব হোসেন বলেন, “আমার বেশি কিছু দরকার নাই। দুমুঠো ভাত আর মাথা গোঁজার একটু জায়গা পেলেই আমি খুশি।”
এই অসহায় ও সংগ্রামী মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে সহায়তা পেলে জীবনের শেষ সময়গুলো কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারতেন মাহাতাব হোসেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “আমাদের সমাজে অনেকে ছোট ছোট সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু মাহাতাব হোসেন দেখিয়েছেন, প্রতিকূলতা যত বড়ই হোক না কেন, মনের শক্তি, সততা ও পরিশ্রম থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যেভাবে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তা আমাদের জন্য অনন্য অনুপ্রেরণা। উপজেলা প্রশাসন সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মানুষদের সহায়তায় সচেষ্ট রয়েছে।”
মাহাতাব হোসেনের জীবন কেবল একজন ব্যক্তির সংগ্রামের গল্প নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে মানুষ আত্মসম্মান ধরে রেখে টিকে থাকতে পারে, তারই এক নীরব উদাহরণ মাহাতাব হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন