।আবুল কালাম মজুমদার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিকুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির ভয়াবহ সব অভিযোগ।
একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে দ্বৈত বেতন গ্রহণ, সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এমনকি নারী অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরণের মতো ১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর গণ-আবেদন করেছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এক শিক্ষক, দুই প্রতিষ্ঠান: দ্বৈত বেতনের কারিশমাঅনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ ২০১৩ সালে বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে সরকারি বেতন গ্রহণ করছেন।
অথচ অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি একই সাথে পার্শ্ববর্তী এমপিওভুক্ত 'পাবলিক হাই স্কুল'-এর প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত বেতন ও সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন। যা সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী চরম অপরাধ।
অনুদান আত্মসাৎ ও অর্থকড়ি বাণিজ্যঅভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ৫ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আসা সরকারি বাজেট এবং বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া অনুদানের বড় একটি অংশ তিনি কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।
এমনকি ২০২১ সালে অনিয়মের কারণে তার দুই মাসের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত ১,৫০,০০০ টাকা কোনো উন্নয়ন কাজে ব্যয় না করে নিজের পকেটে ভরেছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন।প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং বাণিজ্যশিক্ষার মান বজায় রাখার পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে একটি 'কোচিং সেন্টারে' রূপান্তর করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে:নিজ পছন্দের 'প্যারা শিক্ষকদের' মাধ্যমে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। কোচিং বাবত ১০০০ টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অভিভাবক মহলের।পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের 'সাজেশন' নামে উত্তর সরবরাহ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে প্রশ্নের উত্তর লিখিয়ে এনে মূল খাতার সাথে সংযুক্ত করে বেশি নম্বর দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।সহকর্মী হয়রানি ও অদৃশ্য শক্তির প্রভাববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অত্যন্ত দক্ষ প্যারা শিক্ষক আসাদুজ্জামান নূরকে বিজিবি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে চাকরিচ্যুত করা, এবং নতুন প্যারা ফেরদৌসী আক্তার অতিরিক্ত সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিভাবক মহল থেকে জানা যায় এবং বিতর্কিত নারী প্যারা শিক্ষকদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের (এটিইও) দামী উপহার দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অশোভন আচরণবিদ্যালয়টিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের পানীয় জলের জন্য মাত্র একটি মগ ব্যবহার করা হয় এবং ওয়াশরুমগুলো বছরের পর বছর তালাবদ্ধ থাকে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো- বিগত সময়ে বেশ কয়েকজন মহিলা অভিভাবক তার কুদৃষ্টি ও অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় বরাবর পাঠানো আবেদনে অভিভাবকরা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনের অনুলিপি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় উপ-পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হলেও তাঁরা কেউ কোন ব্যবস্হা নেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে একজন ব্যক্তির 'দুর্নীতির আখড়া' হওয়া থেকে বাঁচাতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
।আবুল কালাম মজুমদার কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিকুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির ভয়াবহ সব অভিযোগ।
একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে দ্বৈত বেতন গ্রহণ, সরকারি অনুদান আত্মসাৎ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এমনকি নারী অভিভাবকদের সাথে অশোভন আচরণের মতো ১৫টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর গণ-আবেদন করেছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
এক শিক্ষক, দুই প্রতিষ্ঠান: দ্বৈত বেতনের কারিশমাঅনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ ২০১৩ সালে বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হওয়ার পর থেকে সরকারি বেতন গ্রহণ করছেন।
অথচ অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি একই সাথে পার্শ্ববর্তী এমপিওভুক্ত 'পাবলিক হাই স্কুল'-এর প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উভয় প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত বেতন ও সরকারি সুবিধা ভোগ করেছেন। যা সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী চরম অপরাধ।
অনুদান আত্মসাৎ ও অর্থকড়ি বাণিজ্যঅভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ৫ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আসা সরকারি বাজেট এবং বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া অনুদানের বড় একটি অংশ তিনি কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।
এমনকি ২০২১ সালে অনিয়মের কারণে তার দুই মাসের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত সংসদ সদস্যের বরাদ্দকৃত ১,৫০,০০০ টাকা কোনো উন্নয়ন কাজে ব্যয় না করে নিজের পকেটে ভরেছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন।প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কোচিং বাণিজ্যশিক্ষার মান বজায় রাখার পরিবর্তে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়টিকে একটি 'কোচিং সেন্টারে' রূপান্তর করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে:নিজ পছন্দের 'প্যারা শিক্ষকদের' মাধ্যমে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। কোচিং বাবত ১০০০ টাকা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে অভিভাবক মহলের।পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের 'সাজেশন' নামে উত্তর সরবরাহ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে প্রশ্নের উত্তর লিখিয়ে এনে মূল খাতার সাথে সংযুক্ত করে বেশি নম্বর দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।সহকর্মী হয়রানি ও অদৃশ্য শক্তির প্রভাববিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অত্যন্ত দক্ষ প্যারা শিক্ষক আসাদুজ্জামান নূরকে বিজিবি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে চাকরিচ্যুত করা, এবং নতুন প্যারা ফেরদৌসী আক্তার অতিরিক্ত সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিভাবক মহল থেকে জানা যায় এবং বিতর্কিত নারী প্যারা শিক্ষকদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের (এটিইও) দামী উপহার দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অশোভন আচরণবিদ্যালয়টিতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের পানীয় জলের জন্য মাত্র একটি মগ ব্যবহার করা হয় এবং ওয়াশরুমগুলো বছরের পর বছর তালাবদ্ধ থাকে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো- বিগত সময়ে বেশ কয়েকজন মহিলা অভিভাবক তার কুদৃষ্টি ও অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন, যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় বরাবর পাঠানো আবেদনে অভিভাবকরা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনের অনুলিপি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় উপ-পরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হলেও তাঁরা কেউ কোন ব্যবস্হা নেননি।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্ত এলাকার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে একজন ব্যক্তির 'দুর্নীতির আখড়া' হওয়া থেকে বাঁচাতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন