গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে “মাদ্রাসার আড়ালে ব্যবসা: মুফতি মিলনের অর্থের উৎস নিয়ে রহস্য” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে পুনরায় অনুসন্ধান চালালে জানা যায়, অভিযুক্ত মুফতি মো. মাহমুদুল হাসান মিলন এলাকায় একজন ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মান্দা উপজেলা শাখার আমির এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পয়না আদর্শ বালিকা কওমি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
মাদ্রাসার খাদেম আবুল হোসেন বলেন, “মুফতি মাহমুদুল হাসান মিলনের হাত ধরেই এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে আবু বকর জানান, “আমার বাবা আজিজুর রহমান মাস্টার মারা যাওয়ার পর তার পেনশনের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিয়েও যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আমার বাবার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এখন হঠাৎ করে এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে।”
মাদ্রাসার সেক্রেটারি কাজী জিল্লুর রহমান বলেন, “মুফতি মিলন ব্যক্তিগত কারণে মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন। সে সময় তার কাছ থেকে সকল হিসাব-নিকাশ বুঝে নেওয়া হয় এবং সসম্মানে বিদায় দেওয়া হয়। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
মাদ্রাসার সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি গত আট মাস ধরে দায়িত্বে আছি। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে কেউ অপপ্রচার চালাতে পারে বলে মনে হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুফতি মিলনের আয়ের উৎস হিসেবে পারিবারিক জমি বিক্রি, দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, টিউশনি, কুলিহার বাজারে বিকাশ-নগদ ও চাল ব্যবসা, গরুর খামার এবং কৃষিকাজ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় তার খামারে ১৫ থেকে ১৬টি গরু ছিল, যেগুলোর বাজারমূল্য এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল। এছাড়া দুধ বিক্রি এবং বিদেশি একটি সংস্থার সহায়তাও তার আয়ের উৎসের অংশ বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কিছু পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে “মাদ্রাসার আড়ালে ব্যবসা: মুফতি মিলনের অর্থের উৎস নিয়ে রহস্য” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে পুনরায় অনুসন্ধান চালালে জানা যায়, অভিযুক্ত মুফতি মো. মাহমুদুল হাসান মিলন এলাকায় একজন ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মান্দা উপজেলা শাখার আমির এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পয়না আদর্শ বালিকা কওমি নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
মাদ্রাসার খাদেম আবুল হোসেন বলেন, “মুফতি মাহমুদুল হাসান মিলনের হাত ধরেই এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে আবু বকর জানান, “আমার বাবা আজিজুর রহমান মাস্টার মারা যাওয়ার পর তার পেনশনের টাকা উত্তোলনের বিষয়টি নিয়েও যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আমার বাবার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি। এখন হঠাৎ করে এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হচ্ছে।”
মাদ্রাসার সেক্রেটারি কাজী জিল্লুর রহমান বলেন, “মুফতি মিলন ব্যক্তিগত কারণে মাদ্রাসার দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন। সে সময় তার কাছ থেকে সকল হিসাব-নিকাশ বুঝে নেওয়া হয় এবং সসম্মানে বিদায় দেওয়া হয়। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
মাদ্রাসার সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি গত আট মাস ধরে দায়িত্বে আছি। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাইনি। সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে কেউ অপপ্রচার চালাতে পারে বলে মনে হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুফতি মিলনের আয়ের উৎস হিসেবে পারিবারিক জমি বিক্রি, দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, টিউশনি, কুলিহার বাজারে বিকাশ-নগদ ও চাল ব্যবসা, গরুর খামার এবং কৃষিকাজ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় তার খামারে ১৫ থেকে ১৬টি গরু ছিল, যেগুলোর বাজারমূল্য এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল। এছাড়া দুধ বিক্রি এবং বিদেশি একটি সংস্থার সহায়তাও তার আয়ের উৎসের অংশ বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, ধর্মীয় মতাদর্শগত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কিছু পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন