সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল। হাসপাতালের অনেক রোগী ও স্বজনের কাছে তিনি এখন আস্থার নাম।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগী বিদ্যা বলেন, “আমি চিকিৎসা নিতে এসে খুব বিপদে পড়েছিলাম। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। ঠিক তখনই একটা ছেলে এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। সে আমার মাথায় হাত রেখে বলে, ‘মা, আপনার কোনো সমস্যা আছে?’ পরে আমার সমস্যার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু আমি না, আমার মতো অনেক গরিব অসহায় মানুষের পাশে সে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়িয়েছে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র রোগী চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহায়তা করে থাকেন। কখনও রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, কখনও ওষুধ সংগ্রহ, আবার কখনও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করছেন তিনি।
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে সাইফুল বলেন, “আমি খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান। কোনো বড়লোক পরিবারের ছেলে নই। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছি। দুঃখ-কষ্ট নিয়েই আমার জীবন। এই চাকরি করে হয়তো পরিবার নিয়ে দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু হাসপাতালে অনেক গরিব অসহায় মানুষ আসে, যাদের একটি ওষুধ কেনার টাকাও থাকে না। আমি চেষ্টা করি তাদের পাশে দাঁড়ানোর।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আমি না, সমাজের প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।”
হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকেই জানান, ব্যস্ততার মাঝেও সাইফুলের আন্তরিক আচরণ ও মানবিক সহায়তা তাদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে হাসপাতালের ‘মানবিক মুখ’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।
মানবসেবার এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল। হাসপাতালের অনেক রোগী ও স্বজনের কাছে তিনি এখন আস্থার নাম।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগী বিদ্যা বলেন, “আমি চিকিৎসা নিতে এসে খুব বিপদে পড়েছিলাম। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। ঠিক তখনই একটা ছেলে এসে আমার পাশে দাঁড়ায়। সে আমার মাথায় হাত রেখে বলে, ‘মা, আপনার কোনো সমস্যা আছে?’ পরে আমার সমস্যার কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু আমি না, আমার মতো অনেক গরিব অসহায় মানুষের পাশে সে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়িয়েছে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য দরিদ্র রোগী চিকিৎসা, ওষুধ কিংবা বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ নিয়ে বিপাকে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড মাস্টার সাইফুল নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহায়তা করে থাকেন। কখনও রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা, কখনও ওষুধ সংগ্রহ, আবার কখনও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করছেন তিনি।
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে সাইফুল বলেন, “আমি খেটে খাওয়া মানুষের সন্তান। কোনো বড়লোক পরিবারের ছেলে নই। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছি। দুঃখ-কষ্ট নিয়েই আমার জীবন। এই চাকরি করে হয়তো পরিবার নিয়ে দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু হাসপাতালে অনেক গরিব অসহায় মানুষ আসে, যাদের একটি ওষুধ কেনার টাকাও থাকে না। আমি চেষ্টা করি তাদের পাশে দাঁড়ানোর।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আমি না, সমাজের প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের উচিত গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।”
হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের অনেকেই জানান, ব্যস্ততার মাঝেও সাইফুলের আন্তরিক আচরণ ও মানবিক সহায়তা তাদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই তাকে হাসপাতালের ‘মানবিক মুখ’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।
মানবসেবার এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন