ঢাকা    বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কুকুরের কামড়ে বাড়ছে দুর্ভোগ, টিকা কিনতে রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়

দোহাজারী হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিন সংকট



দোহাজারী হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিন সংকট
ছবি : প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। 

সম্প্রতি এলাকায় বেড়ে যাওয়া কুকুরের উপদ্রবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা ও তাদের স্বজনরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে রেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই টিকা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক রোগী টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে তাদের স্থানীয় ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসিতে প্রতিটি রেবিস ভ্যাকসিন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একজন রোগীকে সাধারণত চারটি ডোজ নিতে হয়। গুরুতর ক্ষতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে দরিদ্র, নিম্নআয়ের ও দিনমজুর পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে দোহাজারী পৌরসভা এলাকার অনেক ফার্মেসিতেও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের সাতকানিয়ার কেরানিহাটসহ দূরের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে দূরে যাতায়াতে পরিবারগুলোকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা না পেয়ে অর্থ সংকটে কেউ কেউ কবিরাজের ঝাড়ফুঁক কিংবা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার আশ্রয় নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, “চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সব সময়ই কম থাকে। গত কয়েক মাস ধরে সংকট চলছে। আমরা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্ষত পরিষ্কারের ব্যবস্থা ও ব্যথানাশক ওষুধ দিতে পারছি। কিন্তু মূল ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে রোগীরা চিকিৎসকদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে রোগীরা দ্রুত ও সহজে চিকিৎসাসেবা পেতেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, “কুকুরের কামড়ের কিছু ভ্যাকসিন এখনো রয়েছে, যা স্ব-ব্যবস্থাপনায় কেনা হয়েছে। তবে আমাদের দুটি হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় দোহাজারী হাসপাতালে সরবরাহ করা ভ্যাকসিন দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। আবারও ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একজন রোগীকে চারটি ডোজ দিতে হওয়ায় পর্যাপ্ত মজুদ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে এমপি মহোদয়, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


দোহাজারী হাসপাতালে রেবিস ভ্যাকসিন সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন দোহাজারী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে। 

সম্প্রতি এলাকায় বেড়ে যাওয়া কুকুরের উপদ্রবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রেবিস ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা ও তাদের স্বজনরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে রেবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই টিকা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক রোগী টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। বাধ্য হয়ে তাদের স্থানীয় ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিভিন্ন ফার্মেসিতে প্রতিটি রেবিস ভ্যাকসিন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একজন রোগীকে সাধারণত চারটি ডোজ নিতে হয়। গুরুতর ক্ষতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। এতে দরিদ্র, নিম্নআয়ের ও দিনমজুর পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে দোহাজারী পৌরসভা এলাকার অনেক ফার্মেসিতেও পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকায় রোগীদের সাতকানিয়ার কেরানিহাটসহ দূরের বিভিন্ন স্থানে ছুটতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের নিয়ে দূরে যাতায়াতে পরিবারগুলোকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজন জানান, হাসপাতালে বিনামূল্যে টিকা না পেয়ে অর্থ সংকটে কেউ কেউ কবিরাজের ঝাড়ফুঁক কিংবা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার আশ্রয় নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, “চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সব সময়ই কম থাকে। গত কয়েক মাস ধরে সংকট চলছে। আমরা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্ষত পরিষ্কারের ব্যবস্থা ও ব্যথানাশক ওষুধ দিতে পারছি। কিন্তু মূল ভ্যাকসিন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে রোগীরা চিকিৎসকদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে রোগীরা দ্রুত ও সহজে চিকিৎসাসেবা পেতেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, “কুকুরের কামড়ের কিছু ভ্যাকসিন এখনো রয়েছে, যা স্ব-ব্যবস্থাপনায় কেনা হয়েছে। তবে আমাদের দুটি হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকায় দোহাজারী হাসপাতালে সরবরাহ করা ভ্যাকসিন দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। আবারও ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একজন রোগীকে চারটি ডোজ দিতে হওয়ায় পর্যাপ্ত মজুদ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে এমপি মহোদয়, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ