ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬

তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার বাধা পেরিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। মঙ্গলবার নেপাল সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নিম্নি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখরে ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। প্রায় ১৪ বছর পর আবার কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নুরুন্নাহার নিম্নি। কাঠমান্ডু ও লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখকে এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের উদ্দেশ্যে বেজক্যাম্প ত্যাগ করেন নিম্নি। ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেদিন শিখরের পথে এগিয়ে গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কয়েকদিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার অপেক্ষা করেন।

২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও যাত্রা শুরু করেন তিনি। সোমবার ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে সন্ধ্যায় শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান নিম্নি। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা।

বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি–এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তাঁর এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরে বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ঘোরাঘুরি এবং ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের বিভিন্ন পর্বতে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে পর্বতারোহণে আরও আগ্রহী করে তোলে।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও উঁচু শৃঙ্গে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্নি। ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করার পর পেশাদার পর্বতারোহণে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন এবং একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। পরে এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করেন সজল খালেদ, তবে নামার পথে মারা যান তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী। আর ২০২৫ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন ইকরামুল হাসান শাকিল। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার বাধা পেরিয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। মঙ্গলবার নেপাল সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নিম্নি। এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখরে ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। প্রায় ১৪ বছর পর আবার কোনো বাংলাদেশি নারী এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নুরুন্নাহার নিম্নি। কাঠমান্ডু ও লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখকে এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত ১৭ মে চূড়ান্ত অভিযানের উদ্দেশ্যে বেজক্যাম্প ত্যাগ করেন নিম্নি। ২৩ মে ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেদিন শিখরের পথে এগিয়ে গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরে কয়েকদিন ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার অপেক্ষা করেন।

২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবারও যাত্রা শুরু করেন তিনি। সোমবার ক্যাম্প-৪ এ পৌঁছে সন্ধ্যায় শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। অবশেষে মঙ্গলবার ভোরে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান নিম্নি। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা।

বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি–এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তাঁর এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরে বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে ঘোরাঘুরি এবং ভুটান, ভারতের সিকিম ও নেপালের বিভিন্ন পর্বতে ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁকে পর্বতারোহণে আরও আগ্রহী করে তোলে।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্প ভ্রমণের পর আরও উঁচু শৃঙ্গে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্নি। ২০২০ সালে এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক সম্পন্ন করার পর পেশাদার পর্বতারোহণে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নেন এবং একই বছর বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। পরে এম এ মুহিত দুবার এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় করেন সজল খালেদ, তবে নামার পথে মারা যান তিনি।

দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে এভারেস্ট জয় করেন বাবর আলী। আর ২০২৫ সালে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন ইকরামুল হাসান শাকিল। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ