ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে
ছবিঃ সংগ্রহীত

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। এই সুযোগেই বিভিন্ন রুটে বাসভাড়ায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একাধিক পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কমলাপুর, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, টিটিপাড়া ও মানিকনগর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কোথাও টিকিট কাটতে অপেক্ষা, কোথাও আবার বাসের জন্য ব্যাগপত্র নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। কোথাও ৪৫০ টাকার টিকিট ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।

সায়েদাবাদে লক্ষ্মীপুরগামী এক যাত্রী বলেন, কয়েক দিন আগেও যে ভাড়া ৫৫০ টাকা ছিল, আজ সেটি ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে, কারণ বাড়ি যেতেই হবে।

নোয়াখালী রুটের যাত্রীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের দাবি, আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, সেখানে এখন নেওয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। একজন যাত্রী এটিকে সরাসরি “ডাকাতি” বলে মন্তব্য করেন।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, একই রুটে ভাড়ার ক্ষেত্রে কাউন্টারভেদে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ৭০০ টাকা, কোথাও ৮৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো নেই, ফলে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এক কাউন্টার ম্যানেজার দাবি করেন, ঈদে ফিরতি পথে বাস অনেক সময় খালি আসে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে যাত্রীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল।

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ বেড়ে যায়, আবার ফিরতি পথে যাত্রী কম থাকে। ফলে সামগ্রিক ক্ষতি সামাল দিতে ভাড়া সমন্বয় করা হয়।

এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সময় বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই অতিরিক্ত ভাড়ার এই নৈরাজ্য দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি খরচে বাড়ি ফিরছেন এবং অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাও বেছে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার এই সময়ে স্বস্তির বদলে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপই বেশি অনুভব করছেন রাজধানী ছাড়তে থাকা মানুষ।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপ। এই সুযোগেই বিভিন্ন রুটে বাসভাড়ায় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একাধিক পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে কমলাপুর, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, টিটিপাড়া ও মানিকনগর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কোথাও টিকিট কাটতে অপেক্ষা, কোথাও আবার বাসের জন্য ব্যাগপত্র নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। নারী, শিশু ও বয়স্কদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম রুটে টিকিটের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। কোথাও ৪৫০ টাকার টিকিট ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।

সায়েদাবাদে লক্ষ্মীপুরগামী এক যাত্রী বলেন, কয়েক দিন আগেও যে ভাড়া ৫৫০ টাকা ছিল, আজ সেটি ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে, কারণ বাড়ি যেতেই হবে।

নোয়াখালী রুটের যাত্রীরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের দাবি, আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, সেখানে এখন নেওয়া হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। একজন যাত্রী এটিকে সরাসরি “ডাকাতি” বলে মন্তব্য করেন।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, একই রুটে ভাড়ার ক্ষেত্রে কাউন্টারভেদে পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ৭০০ টাকা, কোথাও ৮৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙানো নেই, ফলে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এক কাউন্টার ম্যানেজার দাবি করেন, ঈদে ফিরতি পথে বাস অনেক সময় খালি আসে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে যাত্রীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, এটি নিয়মের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল।

অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় যাত্রীচাপ বেড়ে যায়, আবার ফিরতি পথে যাত্রী কম থাকে। ফলে সামগ্রিক ক্ষতি সামাল দিতে ভাড়া সমন্বয় করা হয়।

এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সময় বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার উপস্থিতি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই অতিরিক্ত ভাড়ার এই নৈরাজ্য দেখা দেয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি খরচে বাড়ি ফিরছেন এবং অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাও বেছে নিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে ঈদযাত্রার এই সময়ে স্বস্তির বদলে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপই বেশি অনুভব করছেন রাজধানী ছাড়তে থাকা মানুষ।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ