ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিটি ঘরেই গরু বা খাসির মাংসের উপস্থিতি থাকে। তবে এই মাংস খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণাও রয়েছে। কেউ মনে করেন, গরু বা খাসির মাংস খেলেই কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, আবার কেউ একে পুরোপুরি নির্দোষ খাদ্য হিসেবেও দেখেন। পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরীর মতে, বাস্তবতা এই দুই ধারণার মাঝামাঝি।
তিনি বলেন, কোনো একক খাবার সাধারণত একা কোনো রোগের কারণ হয় না। বরং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, মানসিক চাপ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে।
পুষ্টিবিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খান না। তবে অনেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, চিনি, কোমল পানীয়, বেকারি খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাটি লিভার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সঙ্গেও এসব সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে গরু ও খাসির মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকায় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। এ কারণে পরিমাণ ও রান্নার ধরনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পুষ্টিবিদ।
তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি-১২, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি-৬ এবং প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে, যা পেশির স্বাস্থ্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, শক্তি উৎপাদন ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, অ্যানিমিয়ায় ভোগা ব্যক্তি এবং পেশি গঠন করতে আগ্রহীদের জন্য পরিমিত মাংস উপকারী হতে পারে বলেও মত দেন সামিনা জামান কাজরী।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত তেল ও দৃশ্যমান চর্বি কমিয়ে, মাংস মেরিনেট করে এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, সালাদ ও আঁশযুক্ত খাবার রাখলে গরু বা খাসির মাংসও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
একই সঙ্গে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিশোধিত চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এসব কারণও কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী।

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিটি ঘরেই গরু বা খাসির মাংসের উপস্থিতি থাকে। তবে এই মাংস খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণাও রয়েছে। কেউ মনে করেন, গরু বা খাসির মাংস খেলেই কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, আবার কেউ একে পুরোপুরি নির্দোষ খাদ্য হিসেবেও দেখেন। পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরীর মতে, বাস্তবতা এই দুই ধারণার মাঝামাঝি।
তিনি বলেন, কোনো একক খাবার সাধারণত একা কোনো রোগের কারণ হয় না। বরং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, মানসিক চাপ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে।
পুষ্টিবিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত অতিরিক্ত গরু বা খাসির মাংস খান না। তবে অনেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, চিনি, কোমল পানীয়, বেকারি খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ করেন। এসব খাবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাটি লিভার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের সঙ্গেও এসব সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে গরু ও খাসির মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরল থাকায় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। এ কারণে পরিমাণ ও রান্নার ধরনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পুষ্টিবিদ।
তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি-১২, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি-৬ এবং প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে, যা পেশির স্বাস্থ্য, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, শক্তি উৎপাদন ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশু, কিশোরী, অন্তঃসত্ত্বা নারী, অ্যানিমিয়ায় ভোগা ব্যক্তি এবং পেশি গঠন করতে আগ্রহীদের জন্য পরিমিত মাংস উপকারী হতে পারে বলেও মত দেন সামিনা জামান কাজরী।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত তেল ও দৃশ্যমান চর্বি কমিয়ে, মাংস মেরিনেট করে এবং সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, সালাদ ও আঁশযুক্ত খাবার রাখলে গরু বা খাসির মাংসও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
একই সঙ্গে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিশোধিত চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এসব কারণও কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য দায়ী।

আপনার মতামত লিখুন