ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিদেশে বসে সম্পদ হস্তান্তরে সক্রিয় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

বিদেশে বসে সম্পদ হস্তান্তরে সক্রিয় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারের সুবিধাভোগী সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন ব্যক্তি পরিবারসহ বিদেশে চলে যান। হঠাৎ ক্ষমতার পালাবদলে দেশে থাকা সম্পদের ব্যবস্থাপনা ঠিক করে যেতে না পারলেও এখন বিদেশে বসেই সেই সম্পদ হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের অনেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক আমমোক্তারনামার আবেদন জমা পড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা জমা পড়তে শুরু করে। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা, সাবেক সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী Summit Group-এর কয়েকজন কর্ণধার এবং বিতর্কিত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান-এর মেয়ের নামও রয়েছে এ তালিকায়।

সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—অর্থ পাচার, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকেই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ড থেকেও আবেদন এসেছে। আবেদনকারীদের বড় অংশই দ্বৈত নাগরিক এবং তারা দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক আমমোক্তারনামায় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে প্রতিনিধিদের। ফলে তারা সম্পত্তি দেখভাল, বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা বিনিময় করতে পারবেন।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-কে চিঠি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা চায়। চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে অবস্থান করে অবৈধ সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা সম্পন্ন করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এসব আবেদন আসা শুরু হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আমমোক্তারনামা অনুমোদনের জন্য নিয়মিত তদবিরও চলছে। তদবিরকারীদের মধ্যে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

আবেদনকারীদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম-এর পরিবারের সদস্যরা, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাত, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লে. জে. (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিরা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


বিদেশে বসে সম্পদ হস্তান্তরে সক্রিয় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারের সুবিধাভোগী সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন ব্যক্তি পরিবারসহ বিদেশে চলে যান। হঠাৎ ক্ষমতার পালাবদলে দেশে থাকা সম্পদের ব্যবস্থাপনা ঠিক করে যেতে না পারলেও এখন বিদেশে বসেই সেই সম্পদ হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের অনেকে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক আমমোক্তারনামার আবেদন জমা পড়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা জমা পড়তে শুরু করে। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা, সাবেক সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী Summit Group-এর কয়েকজন কর্ণধার এবং বিতর্কিত রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান-এর মেয়ের নামও রয়েছে এ তালিকায়।

সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—অর্থ পাচার, হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত অনেকেই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ড থেকেও আবেদন এসেছে। আবেদনকারীদের বড় অংশই দ্বৈত নাগরিক এবং তারা দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন করে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক আমমোক্তারনামায় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে প্রতিনিধিদের। ফলে তারা সম্পত্তি দেখভাল, বিক্রি, হস্তান্তর কিংবা বিনিময় করতে পারবেন।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। গত বছরের জুনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-কে চিঠি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হালনাগাদ তালিকা চায়। চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশে অবস্থান করে অবৈধ সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা সম্পন্ন করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে এসব আবেদন আসা শুরু হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর বিদেশে থাকা ব্যক্তিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আমমোক্তারনামা অনুমোদনের জন্য নিয়মিত তদবিরও চলছে। তদবিরকারীদের মধ্যে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

আবেদনকারীদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন আজিজ খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম-এর পরিবারের সদস্যরা, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাত, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লে. জে. (অব.) মোল্লা ফজলে আকবর, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিরা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ