ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গণশুনানির আপত্তি উপেক্ষা করে ফের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি

ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও দেশে পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে, যা ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি।একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুল প্রতি ইউনিটে ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সঞ্চালন মাশুল বেড়েছে ৭ দশমিক ৫১ পয়সা।খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের বিদ্যুৎ বিলে পড়বে।এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। তাদের আবেদনে ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল।প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল। গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। তবে আপত্তি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন মূল্যহার অনুমোদন করেছে। ফলে চলতি মাস থেকেই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়বে।

গণশুনানির আপত্তি উপেক্ষা করে ফের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি