ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

৭০ ইউনিটে ১ লাখ টাকার বিল!

খাগড়াছড়ির রামগড়ে মাত্র ৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক কৃষক পরিবারের নামে ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকার বিল তৈরি হওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বহীনতা ও বিল প্রণয়নে অনিয়ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহবুব নগর গ্রামে। ভুক্তভোগী কৃষক হারুনুর রশীদের টিনশেড বাড়িতে তিনটি কক্ষ রয়েছে। পরিবারটির দৈনন্দিন বিদ্যুৎ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে তিনটি বাতি, দুটি ফ্যান এবং পানি তোলার একটি মোটর। স্বল্প আয়ের এই পরিবারে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয় না বলে জানিয়েছেন হারুনুর রশীদ।তিনি জানান, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগটি তার বোনের নামে হলেও নিয়মিত তিনিই বিল পরিশোধ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল আসে ৮৮ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ৯২ টাকা। কিন্তু মার্চ মাসের বিল হাতে পেয়ে তিনি বিস্মিত হন। শনিবার বিল পরিশোধের জন্য জালিয়াপাড়া বাজারে গেলে মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসের এক দোকানদার প্রথমে বিষয়টি লক্ষ্য করেন। বিলের কাগজে ১ লাখ ৪ হাজার ১১১ টাকা উল্লেখ থাকায় তিনিও হতবাক হয়ে যান।পরে দোকানদার হারুনকে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং বিলের কপির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। স্থানীয়দের মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রোববার সকালে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা হারুনুর রশীদের বাড়িতে যান। তারা বিলের কাগজ নিয়ে যান এবং দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন।রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ বলেন, মিটার রিডিং নোটে ভুল তথ্য ওঠায় এই বিল তৈরি হয়েছে। ৭০ ইউনিটের জায়গায় ৭ হাজার ইউনিট লেখা হওয়ায় প্রিন্ট হওয়া বিলে অতিরিক্ত টাকা দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, বিলটি সংশোধন করে নতুন কপি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে সতর্কতা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে মিটার না দেখে অনুমাননির্ভর রিডিং দেওয়া, অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল তৈরি এবং গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। জেলার দীঘিনালা, পানছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় আগেও এ ধরনের অভিযোগে গ্রাহকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় মৌখিক নির্দেশে বিলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ বা সিস্টেম লস সমন্বয়ের জন্য এমন অনিয়ম ঘটে থাকে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।ভুক্তভোগী হারুনুর রশীদ বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। নিয়মিত বিল দিই। এত টাকা বিল দেখে আমি ভয় পেয়ে গেছি। যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি না ছড়াত, তাহলে হয়তো আমাকে আরও ভোগান্তিতে পড়তে হতো।”এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে রিডিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এমন ভুল শুধু একটি বিলের সমস্যা নয়, এটি পুরো সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।

৭০ ইউনিটে ১ লাখ টাকার বিল!