ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ঈদকে ঘিরে জমজমাট কামারপাড়া, বাড়তি চাপে কারিগররা



ঈদকে ঘিরে জমজমাট কামারপাড়া, বাড়তি চাপে কারিগররা
ছবি: প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই নীলফামারীর কামারপাড়াগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কামাররা। নীলফামারী বাজারের কামারপাড়ায় গেলেই কানে আসে লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ, আর চোখে পড়ে ব্যস্ত কারিগরদের ছুটে চলা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অর্ধশত বছর ধরে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এ কামারপাড়ায় এমন কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে এলেই কয়েকগুণ বেড়ে যায় কাজের চাপ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন কারিগররা।

কারিগররা জানান, ঈদের মৌসুমে কাজ বাড়লেও আগের মতো লাভ থাকছে না। লোহাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। তবুও বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

নীলফামারী সদর উপজেলার আমতলী বাজারের কামার পরিমল রায় বলেন, “সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে। তবে কোরবানির ঈদ এলে ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করতে হয়।”

প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিমল রায় আরও বলেন, “এটা আমাদের পারিবারিক পেশা। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কঠিন পরিশ্রমের কাজ হওয়ায় তরুণরা অন্য পেশায় ঝুঁকছে। তাই ভবিষ্যতে এই শিল্প টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

কোরবানির জন্য ছুরি ও চাপাতি কিনতে আসা ক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, “বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই লোহার তৈরি সরঞ্জামের দামও আগের তুলনায় বেশি। তারপরও কোরবানির প্রয়োজনেই কিনতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও কামার শিল্প এখনো টিকে আছে মানুষের প্রয়োজনের কারণেই। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ঈদকে ঘিরে জমজমাট কামারপাড়া, বাড়তি চাপে কারিগররা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই নীলফামারীর কামারপাড়াগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কামাররা। নীলফামারী বাজারের কামারপাড়ায় গেলেই কানে আসে লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ, আর চোখে পড়ে ব্যস্ত কারিগরদের ছুটে চলা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অর্ধশত বছর ধরে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এ কামারপাড়ায় এমন কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে এলেই কয়েকগুণ বেড়ে যায় কাজের চাপ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করছেন কারিগররা।

কারিগররা জানান, ঈদের মৌসুমে কাজ বাড়লেও আগের মতো লাভ থাকছে না। লোহাসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে অনেক। তবুও বাপ-দাদার পেশা ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

নীলফামারী সদর উপজেলার আমতলী বাজারের কামার পরিমল রায় বলেন, “সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে। তবে কোরবানির ঈদ এলে ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দিন-রাত পরিশ্রম করে ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করতে হয়।”

প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিমল রায় আরও বলেন, “এটা আমাদের পারিবারিক পেশা। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কঠিন পরিশ্রমের কাজ হওয়ায় তরুণরা অন্য পেশায় ঝুঁকছে। তাই ভবিষ্যতে এই শিল্প টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

কোরবানির জন্য ছুরি ও চাপাতি কিনতে আসা ক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, “বর্তমানে সবকিছুর দাম বেড়েছে। তাই লোহার তৈরি সরঞ্জামের দামও আগের তুলনায় বেশি। তারপরও কোরবানির প্রয়োজনেই কিনতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্যবাহী পেশা হারিয়ে গেলেও কামার শিল্প এখনো টিকে আছে মানুষের প্রয়োজনের কারণেই। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের উচ্চমূল্য এবং নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ