ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পদ্মা সেতুতে কমেছে লঞ্চযাত্রী, বদলে গেছে সদরঘাট


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

পদ্মা সেতুতে কমেছে লঞ্চযাত্রী, বদলে গেছে সদরঘাট
ছবিঃ সংগ্রহীত

ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির দুদিন পেরিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল পুরোপুরি থামেনি। রাজধানীর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে এখনও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র মিলেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম যাতায়াত মাধ্যম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে।

একসময় ঈদ এলেই যেখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না, সেই সদরঘাট এবার অনেকটাই শান্ত, নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের বড় অংশ সড়কপথে ঝুঁকেছেন। ফলে নৌপথে যাত্রীচাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, লঞ্চের ডেকে অন্য বছরের মতো গাদাগাদি ভিড় নেই। যাত্রীরা স্বস্তিতে বসে আছেন, কোথাও নেই হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা। তবে ডেক ফাঁকা থাকলেও প্রায় সব বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিন ছিল পুরোপুরি বুকড। পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে যাত্রা করতে আগেভাগেই কেবিন নিশ্চিত করেছেন অনেক যাত্রী।

ঈদ উপলক্ষে যাত্রী কম হলেও অতিরিক্ত আয়ের আশায় বিভিন্ন রুটে বিশেষ লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু সোমবারই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে নয়টি বিলাসবহুল লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

এবারের ঈদে সদরঘাটের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শৃঙ্খলায়। অতীতে ঈদযাত্রা মানেই ছিল কুলিদের টানাটানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হকারদের দখলে পন্টুন এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

ঘাট কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থাপনায় কুলিদের লাগাম টানা হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়া বন্ধ করে তাদের পারিশ্রমিক সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা এখন নির্বিঘ্নে ট্রলিতে মালপত্র তুলে লঞ্চে উঠতে পারছেন। যদিও কোথাও কোথাও সুযোগ বুঝে কিছু কুলি এখনও টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হকারমুক্ত করা হয়েছে পুরো টার্মিনাল এলাকা। ফলে যাত্রীরা ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই নির্দিষ্ট লঞ্চে উঠতে পারছেন। প্রশাসন অবশ্য জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হকারদের জন্য আলাদা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ। গত ঈদে নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার পর এবার মাঝনদীতে ডিঙি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এবার সদরঘাটে এসে দীর্ঘদিন পর স্বস্তির অভিজ্ঞতা হয়েছে। আগে যেখানে লঞ্চে উঠতেই যুদ্ধ করতে হতো, এবার সেখানে পুরো পরিবেশ ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ও আরামদায়ক।

তবে নৌপথে যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পদ্মা সেতু। লঞ্চের স্টাফ ও মালিকপক্ষ বলছেন, আগে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পুরো রাত লেগে যেত, এখন বাসে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। সময় বাঁচানো এবং সহজ যাতায়াতের কারণে মানুষ দ্রুত সড়কমুখী হয়ে পড়ছেন। এতে লঞ্চ ব্যবসায় স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।

তারপরও নৌপথের প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে চাওয়া যাত্রীরা এখনও কেবিনভিত্তিক লঞ্চ ভ্রমণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাই ডেকে যাত্রী কম থাকলেও কেবিনে ছিল উপচে পড়া চাপ।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের লক্ষ্য ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কুলি নিয়ন্ত্রণ, হকারমুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা নজরদারি এবং যাত্রীসেবায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


পদ্মা সেতুতে কমেছে লঞ্চযাত্রী, বদলে গেছে সদরঘাট

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির দুদিন পেরিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল পুরোপুরি থামেনি। রাজধানীর রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে এখনও উপচে পড়া ভিড় দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র মিলেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম যাতায়াত মাধ্যম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে।

একসময় ঈদ এলেই যেখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকত না, সেই সদরঘাট এবার অনেকটাই শান্ত, নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের বড় অংশ সড়কপথে ঝুঁকেছেন। ফলে নৌপথে যাত্রীচাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, লঞ্চের ডেকে অন্য বছরের মতো গাদাগাদি ভিড় নেই। যাত্রীরা স্বস্তিতে বসে আছেন, কোথাও নেই হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা। তবে ডেক ফাঁকা থাকলেও প্রায় সব বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিন ছিল পুরোপুরি বুকড। পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে যাত্রা করতে আগেভাগেই কেবিন নিশ্চিত করেছেন অনেক যাত্রী।

ঈদ উপলক্ষে যাত্রী কম হলেও অতিরিক্ত আয়ের আশায় বিভিন্ন রুটে বিশেষ লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা রেখেছে কর্তৃপক্ষ। শুধু সোমবারই বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে নয়টি বিলাসবহুল লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

এবারের ঈদে সদরঘাটের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শৃঙ্খলায়। অতীতে ঈদযাত্রা মানেই ছিল কুলিদের টানাটানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হকারদের দখলে পন্টুন এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি। কিন্তু এবার সেই চিরচেনা দৃশ্য অনেকটাই অনুপস্থিত।

ঘাট কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থাপনায় কুলিদের লাগাম টানা হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেওয়া বন্ধ করে তাদের পারিশ্রমিক সরকারিভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে যাত্রীরা এখন নির্বিঘ্নে ট্রলিতে মালপত্র তুলে লঞ্চে উঠতে পারছেন। যদিও কোথাও কোথাও সুযোগ বুঝে কিছু কুলি এখনও টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হকারমুক্ত করা হয়েছে পুরো টার্মিনাল এলাকা। ফলে যাত্রীরা ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই নির্দিষ্ট লঞ্চে উঠতে পারছেন। প্রশাসন অবশ্য জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হকারদের জন্য আলাদা পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবার বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ-পুলিশ। গত ঈদে নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠানামার সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনার পর এবার মাঝনদীতে ডিঙি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

যাত্রীদের অনেকে বলছেন, এবার সদরঘাটে এসে দীর্ঘদিন পর স্বস্তির অভিজ্ঞতা হয়েছে। আগে যেখানে লঞ্চে উঠতেই যুদ্ধ করতে হতো, এবার সেখানে পুরো পরিবেশ ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক ও আরামদায়ক।

তবে নৌপথে যাত্রী কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পদ্মা সেতু। লঞ্চের স্টাফ ও মালিকপক্ষ বলছেন, আগে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে পুরো রাত লেগে যেত, এখন বাসে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে। সময় বাঁচানো এবং সহজ যাতায়াতের কারণে মানুষ দ্রুত সড়কমুখী হয়ে পড়ছেন। এতে লঞ্চ ব্যবসায় স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।

তারপরও নৌপথের প্রতি আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা করতে চাওয়া যাত্রীরা এখনও কেবিনভিত্তিক লঞ্চ ভ্রমণকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাই ডেকে যাত্রী কম থাকলেও কেবিনে ছিল উপচে পড়া চাপ।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের লক্ষ্য ছিল নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কুলি নিয়ন্ত্রণ, হকারমুক্ত পরিবেশ, নিরাপত্তা নজরদারি এবং যাত্রীসেবায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ