ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি-র উত্তরাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ভূমিকম্প থেকে সুনামির ঝুঁকিও নেই।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে আন্তোফাগাস্তা অঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে কম্পনটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কালামা শহরের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে।

চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির বৈশিষ্ট্য সুনামি সৃষ্টির মতো নয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করায় চিলিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে। মূলত নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইতিহাস বলছে, ১৫৭০ সাল থেকে চিলিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ বা তার বেশি। দেশটির জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একটি ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয় চিলি।

দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল ১৯৬০ সালের ভালদিভিয়া ভূমিকম্প। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ওই কম্পনে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয় এবং দক্ষিণ চিলির বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সুনামির ঢেউ জাপান পর্যন্ত পৌঁছে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়। সরকারি হিসাবে এতে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।

এরপর ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা ‘২৭এফ’ নামে পরিচিত। ওই দুর্যোগে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে মাউলে ও বায়োবায়ো অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।

চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয় ১৯৩৯ সালের চিলান ভূমিকম্প। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার সেই কম্পনে চিলান শহরের অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে এবং সরকারি হিসাবে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


চিলিতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলি-র উত্তরাঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ভূমিকম্প থেকে সুনামির ঝুঁকিও নেই।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে আন্তোফাগাস্তা অঞ্চলে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। চিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে কম্পনটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কালামা শহরের ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে।

চিলির হাইড্রোগ্রাফিক অ্যান্ড ওশেনোগ্রাফিক সার্ভিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির বৈশিষ্ট্য সুনামি সৃষ্টির মতো নয়। ফলে উপকূলীয় এলাকায় কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থান করায় চিলিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে। মূলত নাজকা ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে নিয়মিত ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ইতিহাস বলছে, ১৫৭০ সাল থেকে চিলিতে প্রায় ১০০টি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০টির মাত্রা ছিল ৮ বা তার বেশি। দেশটির জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি দশকে অন্তত একটি ৮ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয় চিলি।

দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল ১৯৬০ সালের ভালদিভিয়া ভূমিকম্প। ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ওই কম্পনে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টি হয় এবং দক্ষিণ চিলির বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সুনামির ঢেউ জাপান পর্যন্ত পৌঁছে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটায়। সরকারি হিসাবে এতে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন।

এরপর ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৮ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা ‘২৭এফ’ নামে পরিচিত। ওই দুর্যোগে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ নিখোঁজ হন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে মাউলে ও বায়োবায়ো অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।

চিলির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয় ১৯৩৯ সালের চিলান ভূমিকম্প। ৮ দশমিক ৩ মাত্রার সেই কম্পনে চিলান শহরের অধিকাংশ ভবন ধসে পড়ে এবং সরকারি হিসাবে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ