ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিদর্শনে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাও



পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিদর্শনে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাও
ছবি : প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিদর্শন করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাও। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সফরকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত-অনুরাগী, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সচিবের আগমন উপলক্ষে মন্দির চত্বর সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। প্রবেশপথে ছিল আলোকসজ্জা, ফুলের তোড়ণ এবং শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র বর্মণ, সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, সনাতনী পবিত্র গীতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পীযুষ চন্দ্র মহন্ত, মন্দিরের ম্যানেজার পরিতোষ চন্দ্র বর্মণসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ভক্তবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে দেবেন্দ্রনাথ উরাও মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি রাধা-গোবিন্দের বিগ্রহ, কালী মায়ের মন্দির, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় পাঠশালা এবং মন্দির সংলগ্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। মন্দিরের শৈল্পিক নির্মাণশৈলী, কারুকাজ, পরিচ্ছন্নতা ও ধর্মীয় পরিবেশ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “এই মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।

বিশেষ করে মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে অবদান রাখা উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস-এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ত্যাগের মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তিনি সনাতনী পবিত্র গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থী বইয়ে দেবেন্দ্রনাথ উরাও একটি আবেগঘন বার্তা লিখে যান। কবিতার ছন্দে তিনি লেখেন-  “জীবন দিয়ে জানিয়ে দাও, জীবন অন্ধকার দূর হোক আলোর প্রভাবে…”। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “হরিদাস বাবুর মতো করে জীবন বদলানো দরকার”- যা উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জাগায়।

স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা জানান, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার আগমন মন্দিরের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে এর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মন্দিরটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিদর্শনে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাও

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিদর্শন করেছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্রনাথ উরাও। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই সফরকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত-অনুরাগী, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সচিবের আগমন উপলক্ষে মন্দির চত্বর সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। প্রবেশপথে ছিল আলোকসজ্জা, ফুলের তোড়ণ এবং শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র বর্মণ, সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, সনাতনী পবিত্র গীতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পীযুষ চন্দ্র মহন্ত, মন্দিরের ম্যানেজার পরিতোষ চন্দ্র বর্মণসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ভক্তবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে দেবেন্দ্রনাথ উরাও মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি রাধা-গোবিন্দের বিগ্রহ, কালী মায়ের মন্দির, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় পাঠশালা এবং মন্দির সংলগ্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। মন্দিরের শৈল্পিক নির্মাণশৈলী, কারুকাজ, পরিচ্ছন্নতা ও ধর্মীয় পরিবেশ দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “এই মন্দিরটি শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের জন্য একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি মন্দিরের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।

বিশেষ করে মন্দিরটির প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে অবদান রাখা উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস-এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ত্যাগের মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।”

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তিনি সনাতনী পবিত্র গীতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

পরিদর্শন শেষে দর্শনার্থী বইয়ে দেবেন্দ্রনাথ উরাও একটি আবেগঘন বার্তা লিখে যান। কবিতার ছন্দে তিনি লেখেন-  “জীবন দিয়ে জানিয়ে দাও, জীবন অন্ধকার দূর হোক আলোর প্রভাবে…”। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, “হরিদাস বাবুর মতো করে জীবন বদলানো দরকার”- যা উপস্থিত সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জাগায়।

স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা জানান, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার আগমন মন্দিরের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং ভবিষ্যতে এর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মন্দিরটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ