ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আরাফার ময়দানই হজের প্রাণ, অনুপস্থিতিতে হজ অসম্পূর্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬

আরাফার ময়দানই হজের প্রাণ, অনুপস্থিতিতে হজ অসম্পূর্ণ
ছবিঃ সংগ্রহীত

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক রোকন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। শরিয়াহ অনুযায়ী, ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে উপস্থিত না হলে হজ আদায় হয় না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯)

ফিকহবিদদের সর্বসম্মত মতে, ৯ জিলহজ দুপুরের পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা হজের ফরজ অংশ। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া ও ফতোয়ায়ে আলমগিরি অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য হলেও আরাফার সীমানায় উপস্থিত থাকলে ফরজ আদায় হয়ে যায়। এমনকি কেউ রাতের বেলায় পৌঁছালেও তার হজ সহিহ হবে।

তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব। বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (স.) জোহরের পর আরাফায় অবস্থান করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থাকেন, এরপর মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)। এই বিধান অমান্য করে সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করলে দম বা কোরবানি ওয়াজিব হয় বলে ফতোয়ায়ে শামিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরাফার দিনকে হাদিসে সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)। এ সময় হাজিদের জন্য তাওবা, ইস্তেগফার ও দোয়াই প্রধান আমল।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, আরাফার দিনের দোয়া সর্বোত্তম দোয়া। এ দিনে রাসুলুল্লাহ (স.) যে জিকির বেশি পড়তেন তা হলো: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…”।

হাজিদের জন্য এ দিনটি কোরআন তেলাওয়াত, তালবিয়া, তাসবিহ-তাহলিল ও দরুদ শরিফে কাটানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। একই সঙ্গে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করার নির্দেশনাও রয়েছে।

আরাফার দিন মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। এরপর জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে (জমে তাকদিম) আদায় করা সুন্নত। তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারেন না, তারা নিজ নিজ স্থানে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করবেন।

আলেমদের মতে, এই সময় অহেতুক কথাবার্তা, ছবি তোলা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় না করে পুরো সময় ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ আরাফার ময়দান কিয়ামতের হাশরের দৃশ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়—যেখানে সবাই একই পোশাকে, একই সমতলে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে।

আল্লাহ তাআলা যেন সকল হাজির হজ কবুল করেন, তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমিন।




এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


আরাফার ময়দানই হজের প্রাণ, অনুপস্থিতিতে হজ অসম্পূর্ণ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক রোকন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। শরিয়াহ অনুযায়ী, ৯ জিলহজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেখানে উপস্থিত না হলে হজ আদায় হয় না। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯)

ফিকহবিদদের সর্বসম্মত মতে, ৯ জিলহজ দুপুরের পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা হজের ফরজ অংশ। হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়া ও ফতোয়ায়ে আলমগিরি অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য হলেও আরাফার সীমানায় উপস্থিত থাকলে ফরজ আদায় হয়ে যায়। এমনকি কেউ রাতের বেলায় পৌঁছালেও তার হজ সহিহ হবে।

তবে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব। বিদায় হজে রাসুলুল্লাহ (স.) জোহরের পর আরাফায় অবস্থান করেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থাকেন, এরপর মাগরিব না পড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)। এই বিধান অমান্য করে সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করলে দম বা কোরবানি ওয়াজিব হয় বলে ফতোয়ায়ে শামিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরাফার দিনকে হাদিসে সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৮)। এ সময় হাজিদের জন্য তাওবা, ইস্তেগফার ও দোয়াই প্রধান আমল।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, আরাফার দিনের দোয়া সর্বোত্তম দোয়া। এ দিনে রাসুলুল্লাহ (স.) যে জিকির বেশি পড়তেন তা হলো: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…”।

হাজিদের জন্য এ দিনটি কোরআন তেলাওয়াত, তালবিয়া, তাসবিহ-তাহলিল ও দরুদ শরিফে কাটানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। একই সঙ্গে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করার নির্দেশনাও রয়েছে।

আরাফার দিন মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। এরপর জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে (জমে তাকদিম) আদায় করা সুন্নত। তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারেন না, তারা নিজ নিজ স্থানে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করবেন।

আলেমদের মতে, এই সময় অহেতুক কথাবার্তা, ছবি তোলা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় না করে পুরো সময় ইবাদতে মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ আরাফার ময়দান কিয়ামতের হাশরের দৃশ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়—যেখানে সবাই একই পোশাকে, একই সমতলে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে।

আল্লাহ তাআলা যেন সকল হাজির হজ কবুল করেন, তাদের গুনাহ মাফ করেন এবং সবাইকে তাঁর পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার তাওফিক দান করেন। আমিন।




এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ