আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।
বর্তমানে হজের সফরে সৌদি আরবে অবস্থানরত এই আলেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পূর্বে দেওয়া সুপারিশগুলো আবারও সামনে আনেন।
তিনি বলেন, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অনাচারের ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নীরবতা বা উপেক্ষা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলবে। তাঁর মতে, সমস্যার বাস্তব সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন।
২০১৯ সালে দেওয়া তাঁর লিখিত সুপারিশমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মাদরাসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য আলাদা আবাসন ও নিয়মিত ছুটির ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন পৃথক রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা এবং নারী মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার মতো বিষয়গুলো।
এ ছাড়া নতুন প্রস্তাবে তিনি হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-এর অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের পরামর্শ দেন। এই কমিশন অভিযোগ পেলেই সরেজমিন তদন্ত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, যাতে তিনি ভবিষ্যতে কোনো মাদরাসায় দায়িত্ব নিতে না পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসমক্ষে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেক সময় মিডিয়া ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জনের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিকে জড়িয়ে ফেলে। সম্প্রতি ফেনীতে এক কিশোরীর ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় এক ইমামের নির্দোষ প্রমাণ মিলেছে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, হজ শেষে দেশে ফিরে তিনি এ সংকট নিরসনে এবং মাদরাসা শিক্ষার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। তিনি মাদরাসা ব্যবস্থাকে “দ্বীনের দুর্গ” হিসেবে রক্ষা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এস.আর

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।
বর্তমানে হজের সফরে সৌদি আরবে অবস্থানরত এই আলেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং পূর্বে দেওয়া সুপারিশগুলো আবারও সামনে আনেন।
তিনি বলেন, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অনাচারের ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নীরবতা বা উপেক্ষা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলবে। তাঁর মতে, সমস্যার বাস্তব সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এখনই নেওয়া প্রয়োজন।
২০১৯ সালে দেওয়া তাঁর লিখিত সুপারিশমালার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মাদরাসার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য আলাদা আবাসন ও নিয়মিত ছুটির ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন পৃথক রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থা এবং নারী মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার মতো বিষয়গুলো।
এ ছাড়া নতুন প্রস্তাবে তিনি হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-এর অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের পরামর্শ দেন। এই কমিশন অভিযোগ পেলেই সরেজমিন তদন্ত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, যাতে তিনি ভবিষ্যতে কোনো মাদরাসায় দায়িত্ব নিতে না পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনসমক্ষে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেক সময় মিডিয়া ভুল তথ্য বা অতিরঞ্জনের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিকে জড়িয়ে ফেলে। সম্প্রতি ফেনীতে এক কিশোরীর ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় এক ইমামের নির্দোষ প্রমাণ মিলেছে।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, হজ শেষে দেশে ফিরে তিনি এ সংকট নিরসনে এবং মাদরাসা শিক্ষার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। তিনি মাদরাসা ব্যবস্থাকে “দ্বীনের দুর্গ” হিসেবে রক্ষা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন