ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শেরপুরে ৪৬৩ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬

শেরপুরে ৪৬৩ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক
ছবিঃ সংগ্রহীত

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শেরপুর জেলার ৪৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। জেলার মোট ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বিদ্যালয় এখন চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। তবে অনেকেরই প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কাজ করার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই। ফলে পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলো কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় নিয়মিত পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটছে।

সদর উপজেলার ৩৭ নম্বর চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন,

“আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়। এতে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।”

শ্রীবরদী উপজেলার ঘোণাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“প্রধান শিক্ষকের অভাব সহকারী শিক্ষকরা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেন না। অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে জটিলতা নিরসন হলে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের পাঁচ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৬টি, নালিতাবাড়ীতে ৮২টি, ঝিনাইগাতীতে ৬৮টি, নকলায় ৭৫টি এবং শ্রীবরদীতে ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


শেরপুরে ৪৬৩ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শেরপুর জেলার ৪৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। জেলার মোট ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ বিদ্যালয় এখন চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। তবে অনেকেরই প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কাজ করার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নেই। ফলে পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলো কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও কমছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় নিয়মিত পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটছে।

সদর উপজেলার ৩৭ নম্বর চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৌসুমী আক্তার বলেন,

“আমাদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকেই সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রায়ই দাপ্তরিক কাজে শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়। এতে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।”

শ্রীবরদী উপজেলার ঘোণাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“প্রধান শিক্ষকের অভাব সহকারী শিক্ষকরা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেন না। অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে জটিলতা নিরসন হলে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের পাঁচ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৬টি, নালিতাবাড়ীতে ৮২টি, ঝিনাইগাতীতে ৬৮টি, নকলায় ৭৫টি এবং শ্রীবরদীতে ১২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ