ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগর: বাংলাদেশের সামনে কৌশলগত সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বঙ্গোপসাগর: বাংলাদেশের সামনে কৌশলগত সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বৈশ্বিক মহাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হচ্ছে, ততই বাংলাদেশের সামনে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

লেখক জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ — আনুমানিক ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য — দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। চীনের তেল আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে 'মালাক্কা ডিলেমা' নামে পরিচিত। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় পাকিস্তানের গোয়াদর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা এবং মিয়ানমারের কিয়াউকফিউতে বিনিয়োগ করছে। বঙ্গোপসাগর এই সমগ্র করিডোরের কেন্দ্রে থাকায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

ভারতও 'নেবারহুড ফার্স্ট' ও 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে নিজ প্রভাববলয়ে রাখতে সচেষ্ট। বাংলাদেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন এবং বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানো — এই দুটিই ভারতের আঞ্চলিক নীতির কেন্দ্রবিন্দু। ফলে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত — এই তিন শক্তির স্বার্থের ত্রিভুজের মাঝখানে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন লেখক।

নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে লেখক জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' থেকে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ টন সামুদ্রিক মাছ আহরিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ। এখানে তেল-গ্যাস ও অন্তত ১৩ ধরনের খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয় এবং বছরে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি জাহাজ এই বাণিজ্যে অংশ নেয়।

কৌশলগত দিকনির্দেশনা হিসেবে লেখক বলেন, বাংলাদেশের উচিত 'ব্যালেন্সিং' বা ভারসাম্য নীতি অনুসরণ করা — চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ গ্রহণ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। এছাড়া বিমসটেক প্ল্যাটফর্ম ও আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সক্রিয় সামুদ্রিক কূটনীতি জোরদার করারও পরামর্শ দেন তিনি।

নিবন্ধের শেষে লেখক মার্কিন নৌ-কৌশলবিদ আলফ্রেড থায়ার মাহানের দর্শনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সামুদ্রিক দূরদর্শী নীতি ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য সেই একই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


বঙ্গোপসাগর: বাংলাদেশের সামনে কৌশলগত সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বৈশ্বিক মহাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা যতই তীব্র হচ্ছে, ততই বাংলাদেশের সামনে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. শাহিন আলম এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

লেখক জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ — আনুমানিক ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য — দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে। চীনের তেল আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণে 'মালাক্কা ডিলেমা' নামে পরিচিত। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় চীন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় পাকিস্তানের গোয়াদর, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা এবং মিয়ানমারের কিয়াউকফিউতে বিনিয়োগ করছে। বঙ্গোপসাগর এই সমগ্র করিডোরের কেন্দ্রে থাকায় এর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

ভারতও 'নেবারহুড ফার্স্ট' ও 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরকে নিজ প্রভাববলয়ে রাখতে সচেষ্ট। বাংলাদেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ স্থাপন এবং বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত উপস্থিতি বাড়ানো — এই দুটিই ভারতের আঞ্চলিক নীতির কেন্দ্রবিন্দু। ফলে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত — এই তিন শক্তির স্বার্থের ত্রিভুজের মাঝখানে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন লেখক।

নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে লেখক জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' থেকে প্রতিবছর প্রায় ছয় লাখ টন সামুদ্রিক মাছ আহরিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ। এখানে তেল-গ্যাস ও অন্তত ১৩ ধরনের খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয় এবং বছরে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিদেশি জাহাজ এই বাণিজ্যে অংশ নেয়।

কৌশলগত দিকনির্দেশনা হিসেবে লেখক বলেন, বাংলাদেশের উচিত 'ব্যালেন্সিং' বা ভারসাম্য নীতি অনুসরণ করা — চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ গ্রহণ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। এছাড়া বিমসটেক প্ল্যাটফর্ম ও আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সক্রিয় সামুদ্রিক কূটনীতি জোরদার করারও পরামর্শ দেন তিনি।

নিবন্ধের শেষে লেখক মার্কিন নৌ-কৌশলবিদ আলফ্রেড থায়ার মাহানের দর্শনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সামুদ্রিক দূরদর্শী নীতি ও দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য সেই একই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ