ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশে তোমার মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল’

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা।শনিবার (১৬ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে তিনি কারিনার সাহস, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক অবস্থানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান। একই সঙ্গে কারিনার অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কারিনা কায়সার। দীর্ঘদিন ধরে লিভারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরে তার শরীরে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে। হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর হয়।অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন এবং লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ তার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।তার প্রয়াণে ফেসবুক পোস্টে পরে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও রাজনীতিবিদ তাসনিম জারা লেখেন, কারিনার সঙ্গে তার কখনো ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি। তবে তিনি কারিনাকে দেখেছেন একজন সাহসী নারী হিসেবে, যিনি সামাজিক চাপ ও অনলাইন সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থান থেকে সরেননি।তিনি আরও লেখেন, এ দেশে একজন নারীকে তার মুখ, শরীর, কণ্ঠ কিংবা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। সেই বাস্তবতার মধ্যেও কারিনা নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং নিজের বক্তব্য সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন।কারিনার রসবোধের প্রশংসা করে তাসনিম জারা বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার বুদ্ধিমত্তা থেকেই হাস্যরস তৈরি হতো। সমাজ নারীদের শরীর, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিসত্তাকে যেভাবে বিচার করে, কারিনা তার কনটেন্টে সেই বিষয়গুলো ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরতেন।তাসনিম জারার ভাষায়, “২০২৬ সালে বাংলাদেশে যেসব বিষয় নিয়ে কারিনা হাস্যরস করতেন, সেগুলো নিয়ে হাসতে মেরুদণ্ড লাগে।”তিনি আরও বলেন, কারিনা ইতোমধ্যে ভালো কাজ করেছেন এবং সামনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সম্ভাবনা ছিল। তার ভাষায়, “আমরা তার জীবনের মধ্যভাগ ও শেষ অধ্যায়—দুটো থেকেই বঞ্চিত হলাম।”কারিনার অসুস্থতার সময় সামাজিক মাধ্যমে কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, কারিনা লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায়ও কেউ কেউ তার অসুস্থতাকে ‘সৃষ্টিকর্তার শাস্তি’ বলে মন্তব্য করেছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক।পোস্টের শেষ অংশে তাসনিম জারা লেখেন, কারিনার সঙ্গে কখনো দেখা না হওয়ার আফসোস তার থেকে যাবে। সুযোগ হলে তিনি হয়তো বলতেন, “চালিয়ে যাও, এই দেশের তোমার মতো সাহসী মানুষের প্রয়োজন আছে।”সামাজিক মাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্টের মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা। সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন তিনি। তার আলোচিত কাজের মধ্যে রয়েছে ইন্টার্নশিপ এবং ৩৬-২৪-৩৬। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তিনি মাঠ পর্যায়ে অংশ নিয়েছিলেন।তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন ভক্ত, সহকর্মী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

‘বাংলাদেশে তোমার মতো সাহসী মানুষের দরকার ছিল’