ঢাকা    শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের প্রয়াণ


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ সাব-এডিটর
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের প্রয়াণ

ঢাকার বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৬ মে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরিবার যা বলছে

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কারিনা কায়সার। শুরুতে সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরে চিকিৎসকরা জানান, কারিনা মূলত হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন। আগে থেকেই তার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। নতুন সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যের অবনতি

গত সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাই নেওয়ার পর তাকে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তার লিভারের অবস্থা বিবেচনায় যকৃৎ প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন সহকর্মী, অনুসারী ও ভক্তরা।

যেভাবে পরিচিতি পান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন কারিনা কায়সার। বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তথা রিলস, অভিনয়নির্ভর কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিনোদন অঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থানও তৈরি করেছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি ওটিটি ও নাটকের জগতেও থিতু হন তিনি। ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’ তার সেরা কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অল্প সময়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন এই তরুণী। 

সহকর্মীদের শোক

তার অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সহকর্মীরা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি তুলে ধরছেন। পরিবার জানিয়েছে, কারিনার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে আনার পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে দেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের আকস্মিক সমাপ্তি ঘটলো বলে মনে করছেন অনেকে।

বিষয় : কারিনা কায়সার

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের প্রয়াণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

ঢাকার বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার। লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১৬ মে) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পরিবার যা বলছে

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কারিনা কায়সার। শুরুতে সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা মনে হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরে চিকিৎসকরা জানান, কারিনা মূলত হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন। আগে থেকেই তার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। নতুন সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যের অবনতি

গত সপ্তাহে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে স্থানান্তর করা হয়।

গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাই নেওয়ার পর তাকে ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে তার লিভারের অবস্থা বিবেচনায় যকৃৎ প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

তবে শেষ পর্যন্ত সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন সহকর্মী, অনুসারী ও ভক্তরা।

যেভাবে পরিচিতি পান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে তরুণদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন কারিনা কায়সার। বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তথা রিলস, অভিনয়নির্ভর কনটেন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিনোদন অঙ্গনে নিজের আলাদা অবস্থানও তৈরি করেছিলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি ওটিটি ও নাটকের জগতেও থিতু হন তিনি। ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’ তার সেরা কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া, চিত্রনাট্যকার হিসেবেও অল্প সময়ে সুনাম কুড়িয়েছিলেন এই তরুণী। 

সহকর্মীদের শোক

তার অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সহকর্মীরা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি তুলে ধরছেন। পরিবার জানিয়েছে, কারিনার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে আনার পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে দেশের ডিজিটাল বিনোদন অঙ্গনে একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের আকস্মিক সমাপ্তি ঘটলো বলে মনে করছেন অনেকে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ