ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হতেই নাড়ির টানে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রেন, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর সঙ্গে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় কয়েকটি পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে যানজট। সোমবার সকাল থেকেই দুই মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, গাজীপুরা ও টঙ্গী এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় গাজীপুরা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকাতেও ছিল যানবাহনের ধীরগতি। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে লেন। এতে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। বলাকা পরিবহনের চালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, “ঢাকা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে আছে। তার ওপর এলোমেলো পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে ৪৫ শতাংশে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। বাকি কারখানাগুলো মঙ্গলবার ছুটি দেবে বলে জানা গেছে। সোমবার দুপুরের পর ছুটি পাওয়া শ্রমিকদের দলবেঁধে গ্রামের পথে রওনা হতে দেখা যায়। কেউ রিজার্ভ বাসে পরিবার নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে তাদের অনেককেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শ্রমিক গোলাম রসুল বলেন, “ঈদে যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতে হবে। তাই কম ভাড়ার জন্য ট্রাকে উঠেছি।” রাজশাহীগামী যাত্রী সফিকুল ইসলাম জানান, “ঝামেলা এড়াতে সকালে বের হয়েছি। এখনো বড় যানজট পাইনি, তবে দুপুরের পর চাপ অনেক বেড়েছে।” নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। সোমবার অনেক কারখানা ছুটি হওয়ায় দুপুরের পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। তবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন। এস.আর

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হতেই নাড়ির টানে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। বাস, ট্রেন, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর সঙ্গে বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় কয়েকটি পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে যানজট। সোমবার সকাল থেকেই দুই মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার, গাজীপুরা ও টঙ্গী এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ায় গাজীপুরা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকাতেও ছিল যানবাহনের ধীরগতি। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে লেন। এতে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। বলাকা পরিবহনের চালক মিনহাজুল আবেদীন বলেন, “ঢাকা থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতে সাড়ে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে আছে। তার ওপর এলোমেলো পার্কিংয়ের কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।” খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুরের প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কারখানার মধ্যে ৪৫ শতাংশে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই হাজারের বেশি পোশাক কারখানা। বাকি কারখানাগুলো মঙ্গলবার ছুটি দেবে বলে জানা গেছে। সোমবার দুপুরের পর ছুটি পাওয়া শ্রমিকদের দলবেঁধে গ্রামের পথে রওনা হতে দেখা যায়। কেউ রিজার্ভ বাসে পরিবার নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে চড়ে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে তাদের অনেককেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শ্রমিক গোলাম রসুল বলেন, “ঈদে যেভাবেই হোক বাড়ি ফিরতে হবে। তাই কম ভাড়ার জন্য ট্রাকে উঠেছি।” রাজশাহীগামী যাত্রী সফিকুল ইসলাম জানান, “ঝামেলা এড়াতে সকালে বের হয়েছি। এখনো বড় যানজট পাইনি, তবে দুপুরের পর চাপ অনেক বেড়েছে।” নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। সোমবার অনেক কারখানা ছুটি হওয়ায় দুপুরের পর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এই চাপ ঈদের আগের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। তবে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন। এস.আর

আপনার মতামত লিখুন