বিশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সংগ্রামের পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ — বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত। এমনটাই মনে করছেন প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচন এবং গণভোটে ৬৯ শতাংশ হ্যাঁ ভোট — উভয়ই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের সরাসরি সমর্থনের প্রমাণ।
লেখক তুলে ধরেছেন, নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির হাল ধরেছে যেখানে রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির বিরাট ক্ষত। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৬০ কোটি ডলার। ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪ টাকায় ওঠার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংককে তিন বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়েছে। দেশি-বিদেশি ঋণ প্রথমবারের মতো ছুঁয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি এবং মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার টাকায়।
লেখকের মতে, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধ এবং চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিরোধী মতকে শত্রু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষা করাও নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ধ্বংসস্তূপ থেকেই একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন লেখক।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সংগ্রামের পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সামনে এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ — বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন থেকে শুরু করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত। এমনটাই মনে করছেন প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচন এবং গণভোটে ৬৯ শতাংশ হ্যাঁ ভোট — উভয়ই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের সরাসরি সমর্থনের প্রমাণ।
লেখক তুলে ধরেছেন, নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির হাল ধরেছে যেখানে রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির বিরাট ক্ষত। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৬০ কোটি ডলার। ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৪ টাকায় ওঠার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংককে তিন বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়েছে। দেশি-বিদেশি ঋণ প্রথমবারের মতো ছুঁয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি এবং মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার টাকায়।
লেখকের মতে, নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি ও অর্থ পাচার রোধ এবং চলতি বছরের নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাতেও সরকারকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিরোধী মতকে শত্রু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম রক্ষা করাও নতুন সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে ধ্বংসস্তূপ থেকেই একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন লেখক।

আপনার মতামত লিখুন