
পটুয়াখালীর গলাচিপা এনজেড আলিম মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বইপত্র সংরক্ষণে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক এসব বই যথাযথভাবে সংরক্ষণের পরিবর্তে অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। মাদ্রাসার অভিভাবকদের বসার জন্য নির্ধারিত কক্ষে বইগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বইপত্রের এমন অব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন অভিভাবক ও স্থানীয় মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ শিখবে মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা পরিপাটি জীবন ব্যবস্থা আর সেখানেই বইয়ের প্রতি এত অবহেলা কেন? ধর্মীয় শিক্ষার এসব বই শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উপকরণগুলোর সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।ধর্মীয় শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই পড়ে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল কিংবা সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী আদর্শ, নৈতিক চরিত্র, মানবিকতা, শৃঙ্খলাবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা গড়ে তোলা। এসব শিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যেন বাস্তব জীবনে নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেটিই ধর্মীয় শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।এমন গুরুত্বপূর্ণ বইপত্র যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরেই অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকে, তাহলে তা শিক্ষার পরিবেশ ও বই সংরক্ষণের দায়িত্বশীলতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।সচেতন মহলের মতে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উচিত ধর্মীয় শিক্ষার বইগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট পাঠাগার বা উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা। পাশাপাশি বইপত্রের তালিকা প্রস্তুত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইপত্র ও শিক্ষা উপকরণের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই গলাচিপা এনজেড আলিম মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা অভিভাবক ও সচেতন মহলের।
শেয়ার করুন-






















































