জাতীয়

শ্রীপুরে ১৩ নং আবদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি হলেন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার

⎙ প্রিন্ট
শ্রীপুরে ১৩ নং আবদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি হলেন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ১৩ নং আবদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন, শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রবীণ শিক্ষকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিতে সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার হাজেরা মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মাদবর বাড়ী মোহাম্মদীয়া কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পাখিরচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

১৯৭২ সালে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ নং আবদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়ে বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে শ্রম ও আর্থিক সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন এলাকার মানুষ। প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন চারজন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। তাঁরা হলেন—বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ মোছলেহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার এবং আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল কাদির মাস্টার।

প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ মোছলেহ উদ্দিন পরবর্তী সময়ে তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। অপর প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাখাওয়াত হোসেন ২০২৬ সালে ইন্তেকাল করেন। আরেক প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল কাদির মাস্টার বর্তমানে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন।

আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার অতীতে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাকালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন পর নিজের হাতে গড়ে তোলা বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জীবনে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ মোছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টারের সাবেক শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব আশরাফুল জান্নাত হ্যাপি। বর্তমান পরিচালনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ফলে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সাবেক শিক্ষার্থীদের নিবিড় সম্পর্ক ও প্রজন্মের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় অনেক গুণী ব্যক্তি ও সমাজসেবকের অবদান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে মরহুম ইয়াকুব আলী, আলহাজ্ব আবদুল আউয়াল ব্যাপারী, মরহুম আছমত আলী মেম্বার, মরহুম আবদুল কাদির প্রধান (লেচু মেম্বার), মরহুম কাছুম আলী, মরহুম হাছেন আলী মাদবর ও মরহুম সূর্যত আলী মাদবর উল্লেখযোগ্য। বিদ্যালয়ের জমি দানে মরহুম আছমত আলী মেম্বার ও তাঁর পরিবারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর বড় ছেলে উসমান গণি খোকা বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য এবং ছোট ছেলে তারেক হাসান বাচ্চু পদাধিকারবলে কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও আয়কর আইনজীবী এস এম তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমার বাবা আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টার এই বিদ্যালয়ের একজন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। আমিও এ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাবার শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি ও অবদানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে তাঁর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তি আমাদের পরিবারের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সব ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বৃহৎ পুনর্মিলনী আয়োজনের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা সাবেক শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ এবং প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান জানানো সময়ের দাবি।”

এস এম তোফাজ্জল হোসেন প্রস্তাব করেন, বিদ্যালয়ের জীবিত তিন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাখাওয়াত হোসেনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হোক। পাশাপাশি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা প্রয়াত সমাজসেবক ও জমিদাতাদের স্মরণে বিশেষ শ্রদ্ধা ও স্মরণসভার আয়োজনেরও আহ্বান জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, ১৩ নং আবদার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি আবদার ও আশপাশের এলাকার কয়েক প্রজন্মের শিক্ষা, স্মৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহ্য। প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকদের অবদান সংরক্ষণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা তাঁদের।

নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান মাস্টারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন তাঁর সাবেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা সকল মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন তাঁরা।

সম্পর্কিত সংবাদ