ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাটহাজারীতে শতবর্ষী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টা, উদ্বেগে এলাকাবাসী


প্রকাশ : ২৮ জুন ২০২৬

হাটহাজারীতে শতবর্ষী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টা, উদ্বেগে এলাকাবাসী

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ফয়জিয়া বাজার সংলগ্ন শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি এ খালের ওপর আবারও অবৈধভাবে বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটির বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছিল। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগ এবং সচেতন মহলের দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার করে। ওই সময় খালের ওপর নির্মিত বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পরও কয়েকজন ব্যক্তি আবার খালের ওপর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এতে প্রশাসনের আগের অভিযানের সুফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এই খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। খালটি দখল ও সংকুচিত হলে বর্ষাকালে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, খাল ও জলাশয় রক্ষা করা পরিবেশ, কৃষি এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি খাল দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, "বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হবে। তাঁর নির্দেশনা পেলে খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকারি খাল, জলাশয় কিংবা ভূমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাল উদ্ধার অভিযানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা খালটি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, পুনর্দখলের চেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, হাজারি খালকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা গেলে শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী খালই নয়, বরং এলাকার পরিবেশ, কৃষি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জনজীবনও সুরক্ষিত থাকবে। তাই খাল রক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি ও স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


হাটহাজারীতে শতবর্ষী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টা, উদ্বেগে এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ফয়জিয়া বাজার সংলগ্ন শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী হাজারি খাল পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি এ খালের ওপর আবারও অবৈধভাবে বহুতল ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালটির বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছিল। পরে এলাকাবাসীর অভিযোগ এবং সচেতন মহলের দাবির মুখে উপজেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালের দখলকৃত অংশ উদ্ধার করে। ওই সময় খালের ওপর নির্মিত বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানের পরও কয়েকজন ব্যক্তি আবার খালের ওপর নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। এতে প্রশাসনের আগের অভিযানের সুফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এই খালটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। খালটি দখল ও সংকুচিত হলে বর্ষাকালে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃষিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, খাল ও জলাশয় রক্ষা করা পরিবেশ, কৃষি এবং স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকারি খাল দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) শাহেদ আরমান বলেন, "বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হবে। তাঁর নির্দেশনা পেলে খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, সরকারি খাল, জলাশয় কিংবা ভূমি দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। উচ্ছেদ করা জায়গায় পুনরায় কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাল উদ্ধার অভিযানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা খালটি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, পুনর্দখলের চেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সচেতন মহলের মতে, হাজারি খালকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা গেলে শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী খালই নয়, বরং এলাকার পরিবেশ, কৃষি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জনজীবনও সুরক্ষিত থাকবে। তাই খাল রক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক তদারকি ও স্থানীয় জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ