বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। ফসল ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চরের কৃষকেরা।
শনিবার সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
তিনি জানান, উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে চরাঞ্চলের বহু জমি পানির নিচে চলে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে। পরে তা ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে দুপুর ১২টায় ৫২ দশমিক ০ মিটারে পৌঁছায়, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে।
স্থানীয়রা জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ পানির এই বৃদ্ধি। চরাঞ্চলের কৃষকেরা বলছেন, নদীতে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প পানি বাড়লেই আশপাশের জমি দ্রুত ডুবে যায়।
চর গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, “নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য পানি বাড়লেই আমাদের জমি ডুবে যায়। এখন বাদাম ও শাকসবজি পানির নিচে চলে গেছে। পানি বেশি দিন থাকলে বড় ক্ষতি হবে।”
চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। পানি না নামলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে, এখন তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তিস্তা ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী আরও জানান, পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে ব্যারেজে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সব জলকপাট খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। ফসল ডুবে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চরের কৃষকেরা।
শনিবার সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
তিনি জানান, উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে চরাঞ্চলের বহু জমি পানির নিচে চলে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে। পরে তা ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে দুপুর ১২টায় ৫২ দশমিক ০ মিটারে পৌঁছায়, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে।
স্থানীয়রা জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ পানির এই বৃদ্ধি। চরাঞ্চলের কৃষকেরা বলছেন, নদীতে দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় অল্প পানি বাড়লেই আশপাশের জমি দ্রুত ডুবে যায়।
চর গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, “নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য পানি বাড়লেই আমাদের জমি ডুবে যায়। এখন বাদাম ও শাকসবজি পানির নিচে চলে গেছে। পানি বেশি দিন থাকলে বড় ক্ষতি হবে।”
চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। পানি না নামলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তিনি।
চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, হঠাৎ পানি বাড়ায় সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে, এখন তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তিস্তা ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী আরও জানান, পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে ব্যারেজে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং সব জলকপাট খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন