মায়ের কোলজুড়ে এসেছে নতুন অতিথি। পরিবারের সবার আনন্দের সঙ্গে যেন পূর্ণতা পেয়েছে এক নারীর জীবনের নতুন অধ্যায়। মাতৃত্বের অনুভূতি যেমন গভীর ভালোবাসায় ভরা, তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্বও। তাই নবজাতকের যত্নের পাশাপাশি প্রসবের পর মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে শালদুধ পান করাতে হবে। এই দুধ শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এ সময় সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। নবজাতকের ঘাড় ও শরীরের পেশি খুবই নরম থাকে, তাই কোলে তোলার সময় মাথা ও ঘাড়ে ভালোভাবে সাপোর্ট দিতে হবে।
প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতোভাবে পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তুলিয়ে দিন। এতে পেটে জমে থাকা বাতাস বের হয়ে আসে এবং অস্বস্তি কমে।
ঘুমের সময় শিশুকে সবসময় চিত করে সমতল বিছানায় শোয়ান। নাক-মুখ ঢেকে যেতে পারে এমন বালিশ, কাঁথা বা নরম খেলনা শিশুর পাশে না রাখাই নিরাপদ।
নবজাতকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বাইরে থেকে আসা অতিথিদের ভিড় সীমিত রাখুন। শিশুকে অতিরিক্ত চুমু খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকা ভালো। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সব প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করুন।
শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময় নতুন মায়েরা নিজের বিশ্রামের কথা ভুলে যান। অথচ সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। শিশু যখন ঘুমাবে, তখন সুযোগ পেলেই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বুকের দুধের উৎপাদনও স্বাভাবিক থাকে।
দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার পান করুন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
প্রসবের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেকের মন খারাপ, অস্থিরতা বা ‘বেবি ব্লুজ’ দেখা দিতে পারে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে এসব অনুভূতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে, তারা অন্তত প্রথম কয়েক সপ্তাহ ভারী কোনো জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরুন।
মনে রাখবেন, সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ শিশুর সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই সন্তানের যত্নের পাশাপাশি নিজের শরীর ও মনের প্রতিও সমান যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
মায়ের কোলজুড়ে এসেছে নতুন অতিথি। পরিবারের সবার আনন্দের সঙ্গে যেন পূর্ণতা পেয়েছে এক নারীর জীবনের নতুন অধ্যায়। মাতৃত্বের অনুভূতি যেমন গভীর ভালোবাসায় ভরা, তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্বও। তাই নবজাতকের যত্নের পাশাপাশি প্রসবের পর মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে শালদুধ পান করাতে হবে। এই দুধ শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য শুধু মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট। এ সময় সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর শিশুকে দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। নবজাতকের ঘাড় ও শরীরের পেশি খুবই নরম থাকে, তাই কোলে তোলার সময় মাথা ও ঘাড়ে ভালোভাবে সাপোর্ট দিতে হবে।
প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতোভাবে পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তুলিয়ে দিন। এতে পেটে জমে থাকা বাতাস বের হয়ে আসে এবং অস্বস্তি কমে।
ঘুমের সময় শিশুকে সবসময় চিত করে সমতল বিছানায় শোয়ান। নাক-মুখ ঢেকে যেতে পারে এমন বালিশ, কাঁথা বা নরম খেলনা শিশুর পাশে না রাখাই নিরাপদ।
নবজাতকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বাইরে থেকে আসা অতিথিদের ভিড় সীমিত রাখুন। শিশুকে অতিরিক্ত চুমু খাওয়ানো থেকেও বিরত থাকা ভালো। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সব প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করুন।
শিশুর যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময় নতুন মায়েরা নিজের বিশ্রামের কথা ভুলে যান। অথচ সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। শিশু যখন ঘুমাবে, তখন সুযোগ পেলেই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। এতে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বুকের দুধের উৎপাদনও স্বাভাবিক থাকে।
দিনজুড়ে পর্যাপ্ত পানি, স্যুপ ও অন্যান্য তরল খাবার পান করুন, যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
প্রসবের পর হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অনেকের মন খারাপ, অস্থিরতা বা ‘বেবি ব্লুজ’ দেখা দিতে পারে। এটি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে এসব অনুভূতি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে, তারা অন্তত প্রথম কয়েক সপ্তাহ ভারী কোনো জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরুন।
মনে রাখবেন, সুস্থ মা-ই একটি সুস্থ শিশুর সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই সন্তানের যত্নের পাশাপাশি নিজের শরীর ও মনের প্রতিও সমান যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন