ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

প্রসেনজিতের নীরব অভিনয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যায় ‘অভিমান’


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬

প্রসেনজিতের নীরব অভিনয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যায় ‘অভিমান’
ছবি: সংগৃহীত

টালিউডে সম্পর্কের গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই সম্পর্কের ভাঁজে জমে থাকা না বলা অনুভূতি, অপূর্ণতা, স্মৃতির ভার আর অভিমানের সূক্ষ্ম আবেগকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ‘অভিমান’। এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং মানুষের ভেতরের নীরব লড়াই, একাকিত্ব এবং স্মৃতির সঙ্গে বসবাসের গল্পও।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আকাশ চট্টোপাধ্যায়। চরিত্রটিতে বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যেন নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিপুণভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন। সংলাপের চেয়ে তার চোখের ভাষা, নীরবতা এবং মুখের অভিব্যক্তিই বেশি কথা বলে। অনেক দৃশ্যে তার অভিনয় এতটাই স্বাভাবিক যে চরিত্র আর অভিনেতার সীমারেখা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শুভশ্রী গাঙ্গুলিও সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি। তার চরিত্রে যেমন রয়েছে কোমলতা, তেমনি রয়েছে মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম প্রকাশ। সংযত ও পরিণত অভিনয়ে তিনি গল্পের আবেগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। অন্যদিকে যিশু সেনগুপ্ত নিজের চরিত্রে যথার্থ। রহস্য আর আবেগের ভারসাম্য ধরে রাখতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বল্প পরিসরে উপস্থিত হলেও সোহিনী সরকারও নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে ছাপ রেখে যান।

পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত গল্প বলার ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার বাইরে হাঁটতে চেয়েছেন। দৃশ্য নির্মাণ, আলো-আঁধারির ব্যবহার এবং আবহসংগীত সিনেমাটিকে দিয়েছে এক ধরনের কাব্যিক আবহ। প্রতীপ মুখোপাধ্যায়ের চিত্রগ্রহণ সেই আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি ক্লোজআপ এবং নীরব মুহূর্ত দীর্ঘ সময় দর্শকের মনে থেকে যায়। সংলাপও ছবির বড় সম্পদ। সম্পর্কের জটিলতা ও অভিমানের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে সহজ অথচ গভীর ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

তবে ছবিটি সব দর্শকের জন্য সমান স্বাচ্ছন্দ্যের অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে। অনেক জায়গায় গল্পের গতি ধীর হয়ে পড়ে, যা ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারে। আবার কয়েকটি দৃশ্যে প্রতীকী উপস্থাপনা এতটাই প্রাধান্য পেয়েছে যে সাধারণ দর্শকের কাছে তা কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে রহস্যের আবহ ধরে রাখার চেষ্টায় কিছু অংশ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘও মনে হয়।

সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ‘অভিমান’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবেগ। এখানে সম্পর্কের কোনো সহজ সমাধান নেই, নেই সাদাকালো ব্যাখ্যা। বরং মানুষ, তার স্মৃতি, ভালোবাসা, অভিমান এবং অপূর্ণতার নানা স্তরকে ধীরে ধীরে উন্মোচন করা হয়েছে। ছবিটি উত্তর দেওয়ার চেয়ে প্রশ্নই বেশি রেখে যায়। আর সেই কারণেই শেষ দৃশ্যের পরও এর আবেশ দীর্ঘ সময় দর্শকের মনে রয়ে যায়।

বাণিজ্যিক বিনোদনের ভিড়ে ‘অভিমান’ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এক সিনেমা। যারা ধীর ছন্দের, আবেগনির্ভর এবং শিল্পসম্মত গল্প উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


প্রসেনজিতের নীরব অভিনয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যায় ‘অভিমান’

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

টালিউডে সম্পর্কের গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই সম্পর্কের ভাঁজে জমে থাকা না বলা অনুভূতি, অপূর্ণতা, স্মৃতির ভার আর অভিমানের সূক্ষ্ম আবেগকে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরেছে পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের ‘অভিমান’। এটি শুধু একটি প্রেমের গল্প নয়, বরং মানুষের ভেতরের নীরব লড়াই, একাকিত্ব এবং স্মৃতির সঙ্গে বসবাসের গল্পও।

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আকাশ চট্টোপাধ্যায়। চরিত্রটিতে বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যেন নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিপুণভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন। সংলাপের চেয়ে তার চোখের ভাষা, নীরবতা এবং মুখের অভিব্যক্তিই বেশি কথা বলে। অনেক দৃশ্যে তার অভিনয় এতটাই স্বাভাবিক যে চরিত্র আর অভিনেতার সীমারেখা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

শুভশ্রী গাঙ্গুলিও সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি। তার চরিত্রে যেমন রয়েছে কোমলতা, তেমনি রয়েছে মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম প্রকাশ। সংযত ও পরিণত অভিনয়ে তিনি গল্পের আবেগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। অন্যদিকে যিশু সেনগুপ্ত নিজের চরিত্রে যথার্থ। রহস্য আর আবেগের ভারসাম্য ধরে রাখতে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্বল্প পরিসরে উপস্থিত হলেও সোহিনী সরকারও নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে ছাপ রেখে যান।

পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত গল্প বলার ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার বাইরে হাঁটতে চেয়েছেন। দৃশ্য নির্মাণ, আলো-আঁধারির ব্যবহার এবং আবহসংগীত সিনেমাটিকে দিয়েছে এক ধরনের কাব্যিক আবহ। প্রতীপ মুখোপাধ্যায়ের চিত্রগ্রহণ সেই আবহকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে কয়েকটি ক্লোজআপ এবং নীরব মুহূর্ত দীর্ঘ সময় দর্শকের মনে থেকে যায়। সংলাপও ছবির বড় সম্পদ। সম্পর্কের জটিলতা ও অভিমানের সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলোকে সহজ অথচ গভীর ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

তবে ছবিটি সব দর্শকের জন্য সমান স্বাচ্ছন্দ্যের অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে। অনেক জায়গায় গল্পের গতি ধীর হয়ে পড়ে, যা ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারে। আবার কয়েকটি দৃশ্যে প্রতীকী উপস্থাপনা এতটাই প্রাধান্য পেয়েছে যে সাধারণ দর্শকের কাছে তা কিছুটা দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে রহস্যের আবহ ধরে রাখার চেষ্টায় কিছু অংশ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘও মনে হয়।

সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ‘অভিমান’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবেগ। এখানে সম্পর্কের কোনো সহজ সমাধান নেই, নেই সাদাকালো ব্যাখ্যা। বরং মানুষ, তার স্মৃতি, ভালোবাসা, অভিমান এবং অপূর্ণতার নানা স্তরকে ধীরে ধীরে উন্মোচন করা হয়েছে। ছবিটি উত্তর দেওয়ার চেয়ে প্রশ্নই বেশি রেখে যায়। আর সেই কারণেই শেষ দৃশ্যের পরও এর আবেশ দীর্ঘ সময় দর্শকের মনে রয়ে যায়।

বাণিজ্যিক বিনোদনের ভিড়ে ‘অভিমান’ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী এক সিনেমা। যারা ধীর ছন্দের, আবেগনির্ভর এবং শিল্পসম্মত গল্প উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ