বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনই এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙন এবং শুষ্ক সময়ে পানির তীব্র সংকটে উত্তরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে।
তিনি জানান, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সেই অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কোনো দেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, তবে দেশের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে জনগণের স্বার্থের চেয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি থেকে সরে আসছে। তিস্তা ও গঙ্গাসহ ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে নদী শাসন ও ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।
এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা তীরবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনই এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙন এবং শুষ্ক সময়ে পানির তীব্র সংকটে উত্তরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হবে।
তিনি জানান, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সেই অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক উদ্যোগে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কোনো দেশের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, তবে দেশের সার্বভৌম স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অতীতে জনগণের স্বার্থের চেয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি থেকে সরে আসছে। তিস্তা ও গঙ্গাসহ ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে নদী শাসন ও ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।
এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন