ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় একটি হালকা প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় নারী পাইলট আহত হলেও তার উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকেলে কাসগঞ্জ জেলার একটি নির্মাণাধীন ছয় লেনের মহাসড়কের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিমানটি স্বাভাবিকভাবে উড়তে পারছিল না। কয়েকবার নিচু দিয়ে চক্কর দেওয়ার পর সেটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে। তবে অবতরণের ঠিক আগে বিদ্যুতের তারে আঘাত লেগে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত নারী পাইলটকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
জানা গেছে, বিমানটি আলিগড় থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। একই সময়ে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিমানটি ভারসাম্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পাইলট জনবসতি এড়িয়ে নির্মাণাধীন মহাসড়কে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিদ্যুতের তারে আটকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরে বিমানের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও আবহাওয়া, উড্ডয়নের প্রযুক্তিগত তথ্য, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ এবং বিমানের কারিগরি অবস্থাসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ছিল। মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কিছু সময় বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে জানা যায়, সেটি কাসগঞ্জে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করছেন অনেকে। তাদের দাবি, জনবসতি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় একটি হালকা প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় নারী পাইলট আহত হলেও তার উপস্থিত বুদ্ধি ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার বিকেলে কাসগঞ্জ জেলার একটি নির্মাণাধীন ছয় লেনের মহাসড়কের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিমানটি স্বাভাবিকভাবে উড়তে পারছিল না। কয়েকবার নিচু দিয়ে চক্কর দেওয়ার পর সেটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে। তবে অবতরণের ঠিক আগে বিদ্যুতের তারে আঘাত লেগে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত নারী পাইলটকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
জানা গেছে, বিমানটি আলিগড় থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে অংশ নিয়েছিল। উড্ডয়নের কিছু সময় পরই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। একই সময়ে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিমানটি ভারসাম্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পাইলট জনবসতি এড়িয়ে নির্মাণাধীন মহাসড়কে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিদ্যুতের তারে আটকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরে বিমানের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণ করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসন পৃথকভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলেও আবহাওয়া, উড্ডয়নের প্রযুক্তিগত তথ্য, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ এবং বিমানের কারিগরি অবস্থাসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ছিল। মাঝ আকাশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর কিছু সময় বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে জানা যায়, সেটি কাসগঞ্জে বিধ্বস্ত হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করছেন অনেকে। তাদের দাবি, জনবসতি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন