ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

অনুদানের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম, এমপি বাচ্চুর ব্যাখ্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬

অনুদানের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম, এমপি বাচ্চুর ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তালিকায় মেয়ের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। তবে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে বলে দাবি করে ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

সচিবালয় থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের মধ্যে অনুদান হিসেবে বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় অনুদানপ্রাপ্তদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।

তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামে দুজনের নাম রয়েছে। তাদের বাবার নামের স্থানে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’ লেখা আছে এবং প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, এই ফাইজা সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ে।

এ ছাড়া তালিকা নিয়ে আরও অভিযোগ ওঠে যে, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। অন্যদিকে লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায়।

এ বিষয়ে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, তিনি তখন নড়াইলে ছিলেন না। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জরুরি ভিত্তিতে একটি তালিকা জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তিনি সব ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে পিএস পরিচিত ব্যক্তিদের নাম দিয়ে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে তার স্বাক্ষরিত প্যাডে সচিবালয়ে জমা দেন।

তার ভাষ্য, “আমি তাকে বলেছিলাম, যেভাবেই হোক একটি তালিকা জমা দাও। পরে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে আমি নিজেই টাকা বিতরণ করব। কিন্তু পরিচিতদের নাম দিতে গিয়ে পরিবার ও পরিচিত এলাকার লোকজন বেশি চলে এসেছে।”

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, বরাদ্দের টাকা এসে গেছে, সেটিও তিনি জানতেন না। বিষয়টি ফেসবুকে আলোচনায় আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমি তো আমার মেয়ের নামে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার মানুষ নই। যে তালিকা জমা হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত বিতরণের জন্য ছিল না। আমি নতুন তালিকা দিতে চেয়েছিলাম।”

তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম. রাহসিন কবির জানান, সচিবালয় থেকে যাদের নামে অনুদান অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাদের কাছেই অর্থ বিতরণ করা যাবে।

তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই সচিবালয় বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এখন নতুন তালিকা অনুযায়ী অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা পরিবর্তন করতে হলে সেটি সচিবালয় থেকেই সংশোধন করে আনতে হবে। অন্যথায় কেউ টাকা গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।”

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


অনুদানের তালিকায় নিজের মেয়ের নাম, এমপি বাচ্চুর ব্যাখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬

featured Image

নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ওই তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তালিকায় মেয়ের নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু। তবে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে বলে দাবি করে ঘটনার ব্যাখ্যাও দেন তিনি।

সচিবালয় থেকে জারি করা চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা ২১ জনের মধ্যে অনুদান হিসেবে বিতরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তালিকায় অনুদানপ্রাপ্তদের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।

তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামে দুজনের নাম রয়েছে। তাদের বাবার নামের স্থানে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’ লেখা আছে এবং প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, এই ফাইজা সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর মেয়ে।

এ ছাড়া তালিকা নিয়ে আরও অভিযোগ ওঠে যে, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। অন্যদিকে লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকায়।

এ বিষয়ে আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, তিনি তখন নড়াইলে ছিলেন না। তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জরুরি ভিত্তিতে একটি তালিকা জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তিনি সব ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেন। তবে সময়ের স্বল্পতার কারণে পিএস পরিচিত ব্যক্তিদের নাম দিয়ে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে তার স্বাক্ষরিত প্যাডে সচিবালয়ে জমা দেন।

তার ভাষ্য, “আমি তাকে বলেছিলাম, যেভাবেই হোক একটি তালিকা জমা দাও। পরে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে আমি নিজেই টাকা বিতরণ করব। কিন্তু পরিচিতদের নাম দিতে গিয়ে পরিবার ও পরিচিত এলাকার লোকজন বেশি চলে এসেছে।”

সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, বরাদ্দের টাকা এসে গেছে, সেটিও তিনি জানতেন না। বিষয়টি ফেসবুকে আলোচনায় আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি বলেন, “আমি তো আমার মেয়ের নামে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার মানুষ নই। যে তালিকা জমা হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত বিতরণের জন্য ছিল না। আমি নতুন তালিকা দিতে চেয়েছিলাম।”

তবে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি. এম. রাহসিন কবির জানান, সচিবালয় থেকে যাদের নামে অনুদান অনুমোদিত হয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাদের কাছেই অর্থ বিতরণ করা যাবে।

তিনি বলেন, “সংসদ সদস্যের ডিও লেটারে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই সচিবালয় বরাদ্দ অনুমোদন করেছে। এখন নতুন তালিকা অনুযায়ী অর্থ দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা পরিবর্তন করতে হলে সেটি সচিবালয় থেকেই সংশোধন করে আনতে হবে। অন্যথায় কেউ টাকা গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।”


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ