ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

তাড়াশের আকাশে উড়ছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রান্সের পতকা



তাড়াশের আকাশে উড়ছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রান্সের পতকা
ছবি : সংগৃহীত

চলনবিলের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে দৃষ্টি যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত যেন নীল-সাদা-লালের এক অনন্য রঙিন আবহ। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আকাশজুড়ে উড়ছে ফ্রান্সের তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল পতাকা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় জনপদে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা ও প্রশংসার আবহ।

এই বিশাল পতাকার নির্মাতা তাড়াশ উপজেলার ৫ নম্বর নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কালিদাসনিলী গ্রামের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল। তিনি গ্রামের হাজি মোসলেম সরদারের পুত্র। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ, আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বছরের পর বছর নিজ গ্রামে ছোট-বড় নানা আকারের ফ্রান্সের পতাকা উত্তোলন করে আসছেন চঞ্চল। বিশেষ করে ২০০৬ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের অনবদ্য নৈপুণ্য তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকেই প্রিয় দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেন নতুন মাত্রা লাভ করে।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রান্সের পতাকা উত্তোলন করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সেই পতাকা শুধু তাড়াশ নয়, গোটা চলনবিল অঞ্চলের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিনি নিজের হাঁসের খামারের দুই থেকে তিন শতাধিক হাঁস বিক্রি করে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেন। সে সময় এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল সমর্থনসূচক পতাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এবার ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজের প্রিয় দল ফ্রান্সের সমর্থনে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা উত্তোলন করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল।

চঞ্চল জানান, তাঁর ছাগলের খামারের কয়েকটি মোটা তাজা খাসি বিক্রি করে এই বিশাল পতাকা তৈরির অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও প্রিয় দলের প্রতি আবেগ তাঁকে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল প্রামানিক, নাজির আকন্দ, নবাব আলী প্রমানিক , শহিদুল ইসলাম সহ অনেকে বলেন, “চঞ্চল একজন সাধারণ কৃষক। আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল না হলেও ফুটবল ও ফ্রান্স দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অসাধারণ। নিজের সম্পদ বিক্রি করে তিনি যে বিশাল পতাকা নির্মাণ করেছেন, তা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, তাঁর এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পাক। ফ্রান্স ফুটবল দল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তাঁকে উৎসাহিত করে, তাহলে সেটি হবে তাঁর জন্য বড় প্রাপ্তি।”

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে আমি ফ্রান্স দলের সমর্থক। তখন থেকেই ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পতাকা উত্তোলন করে আসছি। আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স এবারও বিশ্বকাপে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে। সেই ভালোবাসা থেকেই ছাগলের খামারের কয়েকটি খাসি বিক্রি করে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেছি। আমি চাই, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ধ্বনি উচ্চারিত হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্রান্স দলের তারকা খেলোয়াড়দের কাউকে যদি কোনোদিন বাংলাদেশে দেখতে পাই, তবে সেটি হবে আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের স্বপ্ন আমি লালন করি।”

চলনবিলের নিভৃত জনপদে দাঁড়িয়ে এক কৃষকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে-ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসারও এক অনন্য ভাষা। আর সেই ভাষাকেই তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকার বিস্তারে নতুন করে তুলে ধরেছেন তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


তাড়াশের আকাশে উড়ছে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রান্সের পতকা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

চলনবিলের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে দৃষ্টি যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত যেন নীল-সাদা-লালের এক অনন্য রঙিন আবহ। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আকাশজুড়ে উড়ছে ফ্রান্সের তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল পতাকা। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ঘিরে স্থানীয় জনপদে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা ও প্রশংসার আবহ।

এই বিশাল পতাকার নির্মাতা তাড়াশ উপজেলার ৫ নম্বর নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কালিদাসনিলী গ্রামের বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল। তিনি গ্রামের হাজি মোসলেম সরদারের পুত্র। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ, আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ থেকে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনি।

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই বছরের পর বছর নিজ গ্রামে ছোট-বড় নানা আকারের ফ্রান্সের পতাকা উত্তোলন করে আসছেন চঞ্চল। বিশেষ করে ২০০৬ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদানের অনবদ্য নৈপুণ্য তাঁকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করে। এরপর থেকেই প্রিয় দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা যেন নতুন মাত্রা লাভ করে।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রান্সের পতাকা উত্তোলন করে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। সেই পতাকা শুধু তাড়াশ নয়, গোটা চলনবিল অঞ্চলের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিনি নিজের হাঁসের খামারের দুই থেকে তিন শতাধিক হাঁস বিক্রি করে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেন। সে সময় এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ফুটবল সমর্থনসূচক পতাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এবার ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজিত বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিজের প্রিয় দল ফ্রান্সের সমর্থনে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা উত্তোলন করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল।

চঞ্চল জানান, তাঁর ছাগলের খামারের কয়েকটি মোটা তাজা খাসি বিক্রি করে এই বিশাল পতাকা তৈরির অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ও প্রিয় দলের প্রতি আবেগ তাঁকে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল প্রামানিক, নাজির আকন্দ, নবাব আলী প্রমানিক , শহিদুল ইসলাম সহ অনেকে বলেন, “চঞ্চল একজন সাধারণ কৃষক। আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল না হলেও ফুটবল ও ফ্রান্স দলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অসাধারণ। নিজের সম্পদ বিক্রি করে তিনি যে বিশাল পতাকা নির্মাণ করেছেন, তা সত্যিই বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা চাই, তাঁর এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পাক। ফ্রান্স ফুটবল দল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি তাঁকে উৎসাহিত করে, তাহলে সেটি হবে তাঁর জন্য বড় প্রাপ্তি।”

তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে আমি ফ্রান্স দলের সমর্থক। তখন থেকেই ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের পতাকা উত্তোলন করে আসছি। আমার বিশ্বাস, ফ্রান্স এবারও বিশ্বকাপে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে। সেই ভালোবাসা থেকেই ছাগলের খামারের কয়েকটি খাসি বিক্রি করে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা নির্মাণ করেছি। আমি চাই, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ধ্বনি উচ্চারিত হোক।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্রান্স দলের তারকা খেলোয়াড়দের কাউকে যদি কোনোদিন বাংলাদেশে দেখতে পাই, তবে সেটি হবে আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের স্বপ্ন আমি লালন করি।”

চলনবিলের নিভৃত জনপদে দাঁড়িয়ে এক কৃষকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে-ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি মানুষের আবেগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসারও এক অনন্য ভাষা। আর সেই ভাষাকেই তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকার বিস্তারে নতুন করে তুলে ধরেছেন তৌহিদুল ইসলাম চঞ্চল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ